Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০৯ মাঘ ১৪২৭, ০৯ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

ইথিওপিয়ায় ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা জাতিসংঘের

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৫ নভেম্বর, ২০২০, ২:১৫ পিএম

আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলীয় দেশ ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রে অঞ্চলের রাজধানী মেকেল্লেতে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুমকি দেওয়ার পর সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার বলেছেন, শহরটির আশেপাশে ট্যাংক ও গোলাবারুদ মোতায়েনের খবর উদ্বেগজনক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের খবর থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনী ও স্বাধীনতাকামী টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট পার্টির (টিপিএলএফ) মধ্যে লড়াই চলছে। ইতোমধ্যে এই লড়াইয়ে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া অঞ্চলটি থেকে পালিয়ে প্রতিবেশী দেশ সুদানে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার মানুষ।
গত রবিবার রাতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ টিপিএলএফ বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে তিন দিনের সময় বেঁধে দেন। তবে আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীটির নেতা ডেবরেটসিয়ন গেবরেমাইকেল। জবাবে এই নেতা বলেন, তাদের জনগণ মাতৃভূমি রক্ষায় জীবন দিতে প্রস্তুত।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট বলেছেন, মেকেল্লেকে নিয়ে যুদ্ধের জন্য উভয় পক্ষের আক্রমণাত্মক বক্তব্য খুবই বিপদজনক। এই বক্তব্য শহরটির বাসিন্দাদের বিপদের ঝুঁকি আরও বাড়াবে বলে সতর্ক করেন তিনি। এতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া যুদ্ধাপরাধ ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে টিগ্রের অন্য সব বড় শহরে টিগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের অনুগত বাহিনীকে হারিয়ে দিয়েছে ইথিওপিয়ার সেনা। এখন বাকি কেবল রাজধানী শহর। তাও ঘিরে রেখেছে সেনা। সরকারের দেওয়া চরমসীমা কাটার অপেক্ষা। তারপরেই সেনা ঢুকে পড়বে শহরে, টিপিএলএফের শেষ ঘাঁটি দখল করার জন্য। খবর ডয়চে ভেলের
জাতিসংঘের আশঙ্কা, এই লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক আইন মানা নাও হতে পারে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, কোনো পক্ষই যেন সাধারণ মানুষকে হত্যা না করে। কোনো সংঘাতে সাধারণ মানুষকে মারা আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইথিওপিয়া-বিশেষজ্ঞ ফিসেহা টেকলেও বলেছেন, সরকার যদি কামান, মর্টার ব্যবহার করে, বিমান থেকে বোমা ফেলে, তা হলে প্রচুর সাধারণ মানুষ নিহত হবেন। ডিডাব্লিউকে তিনি বলেছেন, স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মস্থান, অত্যাবশ্যকীয় সরবরাহ ও বিনোদনের জায়গাগুলি যেন আক্রমণ করা না হয়।

টিপিএলএফের অনুগত বাহিনী এখন শহরের ভিতরে আছে। তারা কোণঠাসা। তা সত্ত্বেও তারা হার মানতে বা আত্মসমর্পণ করতে নারাজ। টিপিএলএফ বলেছে, রাজধানী শহর সেনা দখল করে নিলেও লড়াই থামবে না। অন্যত্র লড়াই চলবে। আর সরকারের দাবি, এটাই শেষ আক্রমণ। রাজধানী শহর দখল করে নিলে টিগ্রের সংঘাতও শেষ হবে।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলি বলছে, দক্ষিণ-পশ্চিম টিগ্রেতে সাধারণ মানুষকে মারা হয়েছে। একদল যুবক মাই-কাদরা শহরের দুইটি খামারে পরিযায়ী শ্রমিকদের হত্যা করেছে। তাদের অপরাধ, তারা টিগ্রের লোক নন, বহিরাগত। ছুরি, লাঠি, ধারালো অস্ত্র, দড়ি দিয়ে তাদের মারা হয়েছে। আগুন লাগানো হয়েছে। সংগঠনগুলির দাবি, এটা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং ইথিওপিয়ার জঘন্যতম নরহত্যা। খবর বিবিসি, ডয়চে ভেলের



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জাতিসংঘ

১০ ডিসেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন