Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ০৩ মাঘ ১৪২৭, ০২ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রত্যাখ্যান ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৫ নভেম্বর, ২০২০, ৮:০০ পিএম

ইথিওপিয়ার বেসামরিক জনগণকে রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। ইথিওপিয়া সরকার তার দেশের তাইগ্রে সমস্যা নিয়ে আপাতত আন্তর্জাতিক সহায়তা চায় না। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ দেশটির অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দূরে থাকতে বলছেন। তিনি বলেছেন, তাইগ্রে সমস্যা নিয়ে ইথিওপিয়ার পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন না জানানো পর্যন্ত তারা যেন অপেক্ষারত থাকে।
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাইগ্রে নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগকে তাঁর দেশ প্রশংসা করে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তবে আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, ইথিওপিয়া তার আইন ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুসারে এই পরিস্থিতি সমাধান করতে খুব সক্ষম এবং করতে ইচ্ছুকও।’
আবি আহমেদ বলেন, ইথিওপিয়া দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অ-হস্তক্ষেপের মৌলিক নীতিগুলোকে সম্মান করার আহ্বান জানাচ্ছে।
ইথিওপীয় সেনাবাহিনী তাইগ্রের রাজধানী মেকলেতে আক্রমণ শুরু করার হুমকির পরে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগের মধ্যে এই বিবৃতি এসেছে।
দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) সেনাদের আত্মসমর্পণের জন্য বুধবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে দেশটির উত্তরাঞ্চলে ক্ষমতাসীন পার্টির অনুগত বাহিনীর সঙ্গে ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ চলছে। এর ফলে শরণার্থীর ঢল নেমেছে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর অত্যাচার এবং আশপাশের দেশগুলোর সীমান্তে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে।
গত বছরের শান্তিতে নোবেল বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ রোববার তিগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টকে (টিএফএলএফ) আত্মসমর্পণের জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভিন্নমতাবলম্বী আঞ্চলিক ওই দলের নেতা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করে বলেছেন, তাঁর বাহিনী প্রয়োজনে মরতে প্রস্তুত। খবর বাসসের।
এদিকে বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হয়ে আসার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের নিরাপত্তা বাহিনী এ সংকট নিয়ে তাদের প্রথম বৈঠক করেছে। বৈঠকটি রুদ্ধদ্বার কক্ষে হবে কি না, এ নিয়ে ইউরোপীয় ও আফ্রিকান নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতানৈক্যের মধ্যেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান মিশেলে বাচেলেট বলেছেন, উভয় পক্ষের আগ্রাসী অবস্থানের কারণে এরই মধ্যে ঝুঁকিতে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ভয়ংকর বিপদ তৈরি হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মেকেল্লের ৫০ লাখ বাসিন্দাকে রক্ষায় শহরটির ওপর কামান এবং বোমা হামলা না চালাতে ইথিওপিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের কারণে ৪০ হাজার লোক সুদানে আশ্রয় নিয়েছে এবং আরো অনেকে পালাতে বাধ্য হচ্ছে। এ ছাড়া শতশত লোককে হত্যা করা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
ইথিওপিয়ার মানবাধিকার কমিশন মঙ্গলবার বলেছে, গত ৯ নভেম্বর মাই-কাদরা শহরে অন্তত ৬০০ লোককে হত্যা করা হয়েছে। যদিও আঞ্চলিক নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। সূত্র : বিবিসি



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ