Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ০২ মাঘ ১৪২৭, ০২ জামাদিউল সানী ১৪৪২ হিজরী

রূপায়ণ গ্রুপের চেয়রম্যানসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুদক

এফআর টাওয়ার মামলা

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৬ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০১ এএম

‘এফ.আর.টাওয়ার’ মামলায় রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার কমিশন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন অনুমোদন করে। যেকোনাদিন এটি চার্জশিট আকারে আদালতে দাখিল করবেন তদন্ত কর্মকর্তা।
অনুমোদিত প্রতিবেদনে রাজধানীল বনানীর এফআর টাওয়ারের নকশা জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। সেইসঙ্গে এজাহারভুক্ত ৭ আসামিকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তদন্তে নতুন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে আরও ৫ জনকে।
দুদক পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য গতকাল বুধবার জানান,২০১৯ সালের ২৫ জুন কমিশনের উপ-পরিচালক মো. আবুবকর সিদ্দিক ২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তিনিই তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ নাজমুল হুদা মৃত্যুবরণ করায় তাকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া, অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান কে এ এম হারুন, সাবেক সদস্য মো. রেজাউল করিম তরফদার, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব আ ই ম গোলাম কিবরিয়া, সাবেক প্রধান ইমারত পরিদর্শক মো. মাহবুব হোসেন সরকার, সাবেক ইমারত পরিদর্শক মো. আওরঙ্গজেব সিদ্দিকী নান্নু,ও গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামছুর রহমান।
তদন্তে দোষী সাব্যস্ত নতুন আসামিরা হলেন, রাজউকের উচ্চমান সহকারী মো. সাইফুল আলম, ইমারত পরিদর্শক ইমরুল কবির, ইমারত পরিদর্শক মো. শওকত আলী, উচ্চমান সহকারী মো. শফিউল্লা ও সাবেক অথরাইজড অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম।
এছাড়া মূল মামলার আসামিরা হলেন, এফআর টাওয়ারের মালিক এস এম এইচ আই ফারুক, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, এফআরটাওয়ার ওনার্স সোসাইটির সভাপতি কাসেম ড্রাইসেলের এমডি তাসভীর-উল-ইসলাম, সাবেক পরিচালক মো. শামসুল আলম, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক মো. মোফাজ্জল হোসেন, সহকারী পরিচালক শাহ মো. সদরুল আলম,সহকারী অথোরাইজড অফিসার মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক জাহানারা বেগম, সহকারী পরিচাল মেহেদউজ্জামান, নিম্নমান সহকারী মুহাম্মদ মজিবুর রহমান মোল্লা এবং অফিস সহকারী মো. এনামুল হক। এছাড়া, বিসিএসআইআরের সদস্য (অর্থ) মুহাম্মদ শওকত আলী ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবদুল্লাহ আল বাকিও ওই মামলায় আসামি ছিলেন। তারাও অনুমোদিত চার্জশিটের আসামি। আসামিদের বিরুদ্ধে রাজউকের ভুয়া ছাড়পত্রের মাধ্যমে এফআর টাওয়ারকে ১৯ তলা থেকে বাড়িয়ে ২৩ তলা করা, ওপরের ফ্লোরগুলো বন্ধক দেয়া ও বিক্রি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত: এফআর টাওয়ারকে ১৫তলা পর্যন্ত নির্মাণে ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন ও নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ১৮ তলা পর্যন্ত বাড়ানোর অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর চার্জশিট দেয় দুদক। চার্জশিটে এফআর টাওয়ার ভবনের এসএমএইচ আই ফারুক ও রূপায়ণ গ্রুপে চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুলসহ ৫ জনকে আসামি করা হয়। ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৭ নিহত হওয়ার পর এই ভবন নির্মাণে নানা অনিয়মের বিষয়গুলো বেরিয়ে আসে।
কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে ওই ভবনের জমির মূল মালিক ছিলেন প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুক। অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভবনটি নির্মাণ করে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেড।এ কারণে সংক্ষেপে ভবনের নাম হয় ‘এফআর টাওয়ার’। অগ্নিকান্ডের পর সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ৪টি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এর মধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি নকশা অনুমোদনে বিধি লঙ্ঘন ও নির্মাণের ক্ষেত্রে ত্রুটি বিচ্যুতির জন্য রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এফ আর টাওয়ারের ১৮ তলার নকশা অনুমোদন করা হয় বিধি লঙ্ঘন করে। তার ওপরে আরও ৫টি ফ্লোর নির্মাণের নকশাকে বৈধতা দিতে বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি হয়। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: দুদক

১২ জানুয়ারি, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন