Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৫ মাঘ ১৪২৭, ০৫ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সে হাইজাম্পার সেলিমের কীর্তি!

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৭ নভেম্বর, ২০২০, ৮:০৪ পিএম

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসকে উপেক্ষা করে শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে দু’দিন ব্যাপী জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায়। আসরের প্রথমদিনই বাজিমাত করেছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার চিলমারী গ্রামের হাইজাম্পার সেলিম রেজা। যিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নেন নড়াইল জেলার হয়ে। এই সেলিম রেজার ডান পা তার বাঁ পায়ের চেয়ে প্রায় ৮ ইঞ্চি ছোট হলেও থেমে থাকেননি তিনি। প্রায় এক পায়ে লাফিয়েই সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। জিতেছেন স্বর্ণপদক। ১.৮০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় লাফিয়ে তিনি এই পদক জেতেন। প্রতিপক্ষ একই জেলার ইসমাইল শেখ গা ভাসিয়েছেন ১.৭৫ সেন্টিমিটার উচ্চতায়। একপায়ে লাফিয়ে আর কতটা উচ্চতায় ওঠা সম্ভব। কিন্তু হাল ছাড়তে নারাজ সেলিম। স্বপ্ন, একাগ্রতা আর চেষ্টা কুষ্টিয়ার অজপাঁড়া গায়ের ছেলেটি এনে দিয়েছে সাফল্য। যে স্বপ্ন তাকে টেনে এনেছে এবারের জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সে, প্রচ- মনোবল নিয়ে লাফিয়ে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলেন তিনি। ডান পা ছোট। তাই খেলতে নেমে বাঁ পায়ে টেকঅফ করেই শরীরকে উচ্চতায় ভাসিয়ে দিতে হয়েছে।

এমএক হক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র সেলিম রেজা। জন্ম থেকেই তার ডান পাঁ বাঁ পায়ের চেয়ে প্রায় আট ইঞ্চি ছোট। অভাবের সংসারে বাবা সিরাজ শেখ কৃষক। বাবার সঙ্গে বড় তিন ভাই দিনমজুরিতে নাম লেখালেও পড়ালেখায় মনোযোগী হন সেলিম। পাশাপাশি অ্যাথলেটিক্সকে বেছে নেন প্রিয় খেলা হিসেবে। তাকে এই খেলায় উৎসাহ যোগান নড়াইল লোহাগড়া পাইলট হাইস্কুলের শারীরিক শিক্ষক দিলীপ চক্রবর্তী। এবারের জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সে নড়াইল জেলার পক্ষেস খেলা পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি উচ্চতার সেলিম গত বছর ১.৬৫ সেন্টিমিটার লাফিয়ে ব্রোঞ্জপদক জিতেছিলেন। তবে তিনি ছোট বেলা থেকেই আন্তঃস্কুল অ্যাথলেটিক্সের স্বর্ণজয়ী অ্যাথলেট।

কুষ্টিয়ার এই কিশোর অ্যাথলেটের লক্ষ্য স্পেশাল অলিম্পিকে স্বর্ণ জেতা। সেলিম বলেন, ‘আমার ডান পায়ে সমস্যা থাকলেও আমি স্বাচ্ছ্বন্দ্যে লাফাতে পারি। আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতায় যার প্রমাণ দিয়েছি টানা দু’বার সেরার খেতাব জিতে। আমার লক্ষ্য স্পেশাল অলিম্পিক থেকে স্বর্ণ জিতে দেশের সম্মান বাড়ানো।’ তিনি আরো বলেন, ‘এক নাগাড়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে কিছুটা সমস্যা হয়। তবে লাঁফানোর সময় কোন সমস্যা হয় না আমার। স্যার (দিলীপ) আমাকে নিজের মতো করেই গড়ে তুলছেন। তার উৎসাহেই জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সে খেলতে পারছি।’

সেলিম যোগ করেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার এক পা বিহীন স্প্রিন্টার অস্কার পিস্টোরিয়াসের এক পা নেই। তারপরও যদি তিনি দৌড়াতে পারেন, তাহলে আমি কেন পারব না? আমার তো দু’ পা-ই আছে!’

প্রিয় অ্যাথলেটকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন কোচ দিলীপ চক্রবর্তীও। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সেলিম স্পেশাল অলিম্পিকে যেতে পারবে। তাকে সেভাবেই গড়ে তোলার চেষ্টা করছি আমি। অভাবী সংসারের সন্তান হলেও অ্যাথলেটিক্সে তার আগ্রহ দেখেই আমি তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। চেষ্টা করছি তাকে সেরা হিসেবে গড়ে তুলতে। এ ব্যাপারে সবচেয়ে বড় সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছি নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকুর কাছ থেকে । মিকু ভাই আমাকে কথা দিয়েছেন সেলিমকে সেরা হিসেবে গড়ে তুলতে সব রকম সহযোগিতা করবেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন