Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৩ কার্তিক ১৪২৭, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান নিয়ে বক্তব্য দিয়ে নতুন বিতর্কে জড়ালেন মোদি

প্রকাশের সময় : ২১ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বেলুচিস্তানে ভারতের আগ্রাসী মনোভাব দেখানোর কোনো ইচ্ছে নেই : নয়াদিল্লি

বেলুচিস্তান নিয়ে মোদির বক্তব্য বড় ধরনের কূটনৈতিক মূর্খতা : সালমান খুরশিদ
ইনকিলাব ডেস্ক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষণে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রসঙ্গ টেনে নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। গত ১৫ আগস্ট দিল্লির লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বালুচ প্রসঙ্গ উত্থাপন করে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্ট করে এর ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হয়েছেন। মোদির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ জানিয়েছেন, বেলুচিস্তানে ভারতের আগ্রাসী মনোভাব দেখানোর কোনো ইচ্ছে নেই। অন্যদিকে কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান-ভারত সম্পর্ক তিক্ততার তলানিতে ঠেকে পটভূমিতে ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সার্কভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক বয়কট করতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে ওই বৈঠকে ভারত একেবারেই অনুপস্থিত থাকছে না। অরুণ জেটলির পরিবর্তে অর্থসচিব ওই সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন। উল্লেখ্য, দক্ষিণ-এশীয় রাষ্ট্রসমূহের জোট সার্কের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্য দেশ বৈঠকে না থাকলেই বৈঠক বাতিল বলে গণ্য হয়। আর তাই প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সার্ক অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলন বাতিল হয়ে যাক ভারত তেমনটা চাইছে না। গত ১৫ আগস্ট ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লির লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে বালুচ সম্প্রদায়ের ওপর পাকিস্তানের কথিত নির্যাতনের কথা বলে সহানুভূতি প্রকাশ করেন। নরেন্দ্র মোদি খোলাখুলি বেলুচিস্তানের বিদ্রোহীদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করায় পরে দেশ-বিদেশে এর জবাবদিহিতা করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ বলেন, বেলুচিস্তান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য নিয়ে অহেতুক পানি ঘোলা করা হচ্ছে। বেলুচিস্তান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন তা নতুন কোনো নীতি নয়। তিনি বলেন, বেলুচিস্তান এবং গিলগিট থেকে আসা বহু মানুষের অভিনন্দন বার্তার কথা জানাতেই প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বালুচ প্রসঙ্গ টেনে এনেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ পাকিস্তানের বেলুচিস্তান নিয়ে স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী মোদির মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। খুরশিদ বলেন, মোদির বালুচ-মন্তব্য একটি বড় কূটনৈতিক মূর্খামি। তার মতে, সর্বদলীয় বৈঠকে অভ্যন্তরীণ কাঠামোর ভেতরে বালুচিস্তান নিয়ে কথা বলা আর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে বলা এক বিষয় নয়। সালমান খুরশিদ নরেন্দ্র মোদির বালুচ নীতির সমালোচনা করলেও প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এর বিরোধিতা করেনি। বরং কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ মোদির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছেন, শার্ম-আল-শেখের বিবৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে সরকার। বিরোধী দলের এই সমর্থন পাওয়ায় বালুচ নীতি থেকে পিছিয়ে আসার পথ আরো কঠিন হয়ে পড়ল মোদি সরকারের জন্য। প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে মনমোহন সিং মিসরের শার্ম-আল-শেখ-এ ভারত ও পাকিস্তানের এক যৌথ বিবৃতিতে সম্মতি প্রকাশ করেছিলেন। ওই বিবৃতিতে কাশ্মীরের সন্ত্রাসের পাশাপাশি, বালুচ সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ উল্লেখ করার যে শর্ত পাকিস্তান দিয়েছিল, ভারত তাতে রাজি ছিল। বর্তমান সরকারি দল ও তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপি সে সময় সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা জানিয়েছিল। বিজেপির অভিযোগ ছিল, বালুচিস্তানে সন্ত্রাসের উল্লেখ যৌথ বিবৃতিতে রাখার শর্ত মেনে নিয়ে ভারত আসলে নিজের কৃতকর্মের কথাই স্বীকার করে নিয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ভাষণে নরেন্দ্র মোদি খোলাখুলি বেলুচিস্তানের বিদ্রোহীদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করায়, তিনিও সেই একই অভিযোগে বিদ্ধ হচ্ছেন। টাইমস অব ইনডিয়া, এনডিটিভি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পাকিস্তানের বেলুচিস্তান নিয়ে বক্তব্য দিয়ে নতুন বিতর্কে জড়ালেন মোদি
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ