Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ০২ মাঘ ১৪২৭, ০২ জামাদিউল সানী ১৪৪২ হিজরী

রেলকে আরো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বল্প মূল্যে পণ্য ও জন পরিবহন নিশ্চিত করতে সারাদেশে শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সরকার দেশব্যাপী রেল যোগাযোগ আরও স¤প্রসারিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেলকে আরো শক্তিশালী করার আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। সারাদেশে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য রেলনেটওয়ার্ক আমরা সৃষ্টি করবো। যাতে অল্প খরচে পণ্য পরিবহন এবং মানুষের যাতায়াতের অনেক সুবিধা হয়।

গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থেকে রেলখাতকে পুরো ধ্বংসের দিকে নিয়েছিল, আমরা সেই রেলখাতকে উন্নত করছি। যমুনা নদীর ওপরে বঙ্গবন্ধু সেতুর উজানে ১৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পৃথক ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু’র ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী ওইসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বাংলাদেশে আমরা রেলের নেটওয়ার্ক তৈরী করতে চাচ্ছি। একেবারে ঢাকা থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী হয়ে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন নিয়ে যাব। তার সমীক্ষা শুরুর ব্যাপারে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সেখান থেকে কক্সবাজার ও টেকনাফ পর্যন্ত যাবে রেললাইন।

তিনি বলেন, রেলপথ, সড়ক পথ, আকাশ পথ এইসবগুলোর উন্নয়নেই আমরা ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। তাতে আমাদের দেশের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে ও মজবুত হবে। তাছাড়া ট্রান্সএশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে যখন আমরা সংযুক্ত হয়ে যাব, এটাও আমাদের জন্য বিরাট কাজ হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড। অর্থাৎ বাংলাদেশ হবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে একটা সেতুবন্ধন। আর সেই সেতুবন্ধন করতে গেলে আমাদের ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে সংযোগ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদীর ওপর যে রেল সেতু সেখানে গাড়ি চলার কোন সেতু ছিল না। তিনি সরকারে আসার পর সেখানে পৃথক সড়ক সেতু করে দেন। নইলে আগে রেলসেতুর ওপর দিয়েই ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি পারাপার চলতো।

তিনি বলেন, ভৈরবে রেল লাইনের ওপর দিয়েই অপেক্ষমান থেকে একটা করে গাড়ি পার হোত। সেখানেও পৃথক সড়ক সেতু করেছেন। কালুরঘাটেও রেল সেতুর পাশাপাশি পৃথক সড়ক সেতু হয়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, এভাবে সারা বাংলাদেশে রেল যোগাযোগকে উন্নত করা, আধুনিক করা এবং বহুমুখী করার, যাতে মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখতে পারে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা করে যাচ্ছি। শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে স্ব-স্ব দায়িত্ব পালনের পাশপাশি করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পাবার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণের ফলে মানুষের অনেক সুযোগ-সুবিধা বাড়বে। দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ব্যাপক উন্নতি হবে। স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপান আমাদের অকৃত্তিম বন্ধু। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে জাপান সফরে গিয়ে যমুনা নদীর উপর সেতু নির্মাণের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন। আমিও ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে জাপান সফরে গিয়ে রূপসা ও পদ্মায় সেতু নির্মাণে সহায়তা দেওয়ার জন্য জাপানকে অনুরোধ করেছিলাম।

রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, যমুনা নদীর উপরে বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মিত হচ্ছে ডাবল লেনের ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বঙ্গবন্ধু রেল সেতু। জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ১৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে এই রেল সেতুটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে জাইকা। এর নির্মাণ কাজ ২০২৫ সাল নগাদ শেষ হবার কথা রয়েছে। এই সেতু দিয়ে ১০০ কিলোমিটার বেগে একইসঙ্গে দুটি ট্রেন চলাচল করতে পারবে। উন্মুক্ত হবে সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের। ফলে সময় সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান : এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা। পরে ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বক্তব্য রাখেন।

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানান, জাপানের অর্থায়নে প্রকল্পটি জাইকা বাস্তবায়ন করছে। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৭৮০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হবে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালে বঙ্গন্ধু সেতু চালুর মধ্য দিয়ে রাজধানীর সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ চালু হয়। প্রথমে ৪টি ট্রেন দৈনিক ৮ বার পারাপারের পরিকল্পনা থাকলেও যাত্রী চাহিদায় পরে তা বাড়ানো হয়। ২০০৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ফাটল দেখা দিলে কমিয়ে দেওয়া হয় ট্রেনের গতি। বর্তমানে প্রতিদিন ৩৮টি ট্রেন স্বল্পগতিতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এতে সময় অপচয়ের পাশাপাশি ঘটছে সিডিউল বিপর্যয়।

বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব রেল স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার আব্দুল মান্নান জানান, বর্তমানে বঙ্গবন্ধুসেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন ১৬ জোড়া রেল পারাপার হয়। বঙ্গবন্ধু সেতুতে সর্বোচ্চ ২০ কি.মি. গতিতে চলতে পারে রেল। এছাড়া, সিগন্যালের জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। রেলসেতু নির্মাণ করা হলে কোনো ট্রেনেই কোনো প্রকার সিডিউল বিপর্যয় ঘটবে না। অল্প সময়ের মধ্যেই সেতু পারাপার হওয়া যাবে। একটি ট্রেনে আরেকটি ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করবে না। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মদ জানান, ডাবল ডুয়েল গেজ রেল সেতুটি হওয়ার পর ক্রসিং ছাড়াই দু’টি ট্রেন চলাচল করতে পারবে।



 

Show all comments
  • Rezaul Karim Rabi ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১:০২ এএম says : 0
    সাবাস বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে ।জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যার নিরলস পরিশ্রম মেধা আর সাহসী পদক্ষেপে তুমি আজ বিশ্ব দরবারে উন্নত শির ।আমরা নতুন প্রজন্ম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক।আপনার জন্য অনেক অনেক দোয়া,ভালোবাসা শুভ কামনা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী
    Total Reply(0) Reply
  • Arjun Paul ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১২:৫৪ এএম says : 0
    So much respect for you
    Total Reply(0) Reply
  • Hasnat Reaz ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১২:৫৩ এএম says : 0
    শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার।
    Total Reply(0) Reply
  • Sanaullah Sheikh ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১২:৫৮ এএম says : 0
    মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনেক অনেক অভিনন্দন।
    Total Reply(0) Reply
  • Minhazur Rahaman Khan ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১২:৫৯ এএম says : 0
    উন্নয়ন মূলক কাজের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।
    Total Reply(0) Reply
  • Mahabur Rahman ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১:০১ এএম says : 0
    হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন শুভকামনা রইল। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
    Total Reply(0) Reply
  • Arjyo Sinha ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১:০৩ এএম says : 0
    Make all railway line broad Guage
    Total Reply(0) Reply
  • সাবরীম মোস্তফা রুমন ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১:০৪ এএম says : 0
    নতুন চারটি রেল ডিভিশনের ব্যাপারে জানতে চাই
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রধানমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন