Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১০ মাঘ ১৪২৭, ১০ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

ইসলামোফোবিয়া, রোহিঙ্গা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে উদ্বেগ ওআইসির

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১০:০১ এএম | আপডেট : ২:৩৯ পিএম, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

করোনাভাইরাসের কারণে এবারের ওআইসি পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সম্মেলনে অনেক দেশের মন্ত্রীরা যোগ দিতে পারেননি। সে তালিকায় ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও।

এদিকে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ এনে দায়ের করা মামলায় আইনি লড়াইয়ের জন্য তহবিল সংগ্রহ, ইসলামোফোবিয়া ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মুসলিম রাষ্ট্রদের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়ে এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানে আরব রাষ্ট্রসমূহের নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে ৫৭ রাষ্ট্রবিশিষ্ট ওআইসি-র পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠক শেষ হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।

কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টার (সিএফএম)-এর ৪৭তম বৈঠক শেষে শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ওআইসি মহাসচিব ড. ইউসেফ বিন আহমেদ আল-ওতাইমিন বলেন, “আমরা মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি নয়, ঐক্য ও সংহতির ওপর জোর দিয়েছি। আমরা একে অপরকে সম্মানের পথে চলার চেষ্টা করছি। বাক স্বাধীনতার মানে আপনি ধর্ম সম্পর্কে যা ইচ্ছে তাই বলতে পারেন না।”

পরস্পরের মতামতের প্রতি সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সন্ত্রাসবাদ ইসলামের অংশ নয়, অন্য ধর্ম বা সংস্কৃতি নিয়ে ইসলামের কোন সমস্যা নেই। ইসলাম নারী ক্ষমতায়নকে সম্মান করে ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শিক্ষা দেয়।”

“যদি কোন খারাপ মানুষ ইসলামের নামে অনৈতিক কাজ করে, তবে তারা ইসলামকে নয়, কেবলমাত্র নিজেদেরই প্রতিনিধিত্ব করে। তাদের এই খারাপ কাজের দায় ইসলামের নয়।”

এ সময় ওআইসি-র সদস্য রাষ্ট্রগুলো ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসলামোফোবিয়ার সাম্প্রতিক উত্থানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।

ওআইসি মহাসচিব বাংলাদেশসহ যেসব দেশ ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)-এ দায়ের করা রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে গাম্বিয়াকে ইতিমধ্যেই আর্থিক সহায়তায় দিয়েছে তাদের ধন্যবাদ জানান।

ওআইসি ইতিমধ্যেই আইসিজে-তে দায়ের করা মামলায় গাম্বিয়াকে আর্থিক সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহে একটি বিশেষ হিসেব খুলেছে। সংস্থাটি আরও তহবিল প্রদানের জন্য এর অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলায় পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিকে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ওআইসি-কে ৫ লাখ মার্কিন ডলার প্রদান করেছে। এ প্রসঙ্গে ওআইসি-তে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং সম্মেলনে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের প্রধান ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারি বলেন, “বাংলাদেশ তার সীমিত সামর্থ্য সত্ত্বেও গাম্বিয়ার সহায়তায় ওআইসিকে ইতিমধ্যে ৫ লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছে।”

ফিলিস্তিন ইস্যুতে ওআইসি মহাসচিব বলেন, সিএফএম জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব ও আরব দেশগুলোর পদক্ষেপের নীতির সঙ্গে সংগতি রেখে ফিলিস্তিন সংকটের দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করছে। এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছি। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

আরও বলেন, ওআইসি ফিলিস্তিন সংকটের যে কোন শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।

বিগত ৭২ বছর ধরে এই সংকট চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

এ সময় তিনি ওআইসি-র নব নির্বাচিত মহাসচিবকে অভিনন্দন জানান এবং ইসলামিক বিশ্ব ও এর জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণে তার সাফল্য কামনা করেন।

সিএফএম চলাকালে চাদের রাষ্ট্রদূত হুসেইন ইব্রাহীম তাহাকে ওআইসি-র নতুন মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তিনি ২০২১ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর মেয়াদে এই দায়িত্ব পালন করবেন।

সিএফএমের সমাপনী অধিবেশনের আগে নতুন মহাসচিব হিসেবে হুসেইন ইব্রাহীম তাহার নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর তিনি শপথ গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ নিজভূমি থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে। এদের অধিকাংশই ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কঠোর দমনপীড়ন শুরুর পর প্রাণ বাঁচাতে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে গাম্বিয়া আইসিজে-তে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করে। ওআইসি, কানাডা ও নেদারল্যান্ডস গাম্বিয়াকে সমর্থন দেয়।

গত বছর ১০-১২ ডিসেম্বর আইসিজে-তে মামলাটির প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ডিসেম্বরের শুনানিতে গাম্বিয়া মামলার আরজিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদের আলোকে অভিযোগ এনে বলে, ভয়াবহ সামরিক হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ‘মিয়ানমার তাদের নিজ দেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দমনপীড়ন চালিয়েছে।’

গত ২৩ জানুয়ারিতে আইসিজে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নতুন করে গণহত্যার মতো ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের ঐতিহাসিক রায় দেয়।



 

Show all comments
  • Jack Ali ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১২:১২ পিএম says : 0
    OIC nothing but a piece of Dead Wood because they don't have power. Muslim's are not allow to have separate state. They should be under one Chaliph and rest of the Muslim populated land they will have governor. Stern warning from Allah [SWT] regarding unity of Muslim Ummah: Surah 8:Al-Anfal: Ayat: 73.. And those who disbelieve are allies of one another, [and] if you [Muslims of the whole world collectively] do not do so [i.e: become allies, as on united block under one Khalifah] (a chief Muslim ruler for the whole Muslim world) to make victorious Allah’s religion of Islamic Monotheism), there will be Fitnah [war, battles, rape, adultery, fornication, murde,polytheism] and oppression on the earth, and a great mischief and corruption will spread every corner in the world.
    Total Reply(0) Reply
  • habib ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১:০৫ পিএম says : 0
    i am disappointing regarding OIC activities towards Muslim issues around the world. these organization are nothing to help each other instead of conflict...
    Total Reply(0) Reply
  • Jesmin Anowara ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ৯:০১ পিএম says : 0
    KSA is the guru of OIC, so you will see nothing
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রোহিঙ্গা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ