Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ০৩ মাঘ ১৪২৭, ০২ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

ম্যারাডোনার মৃত্যুর জন্য দায়ী চিকিৎসক?

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১২:৩৫ পিএম

ফুটবল তারকা ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে তোলপাড়। তার মৃত্যুর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসককে দায়ি করা হচ্ছে। আর তাই ম্যারাডোনার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ক্লিনিকে এবং বাড়িতে তল্লাশিও হয়েছে। চিকিৎসকের বক্তব্য, তিনি নির্দোষ।

ম্যারাডোনার মৃত্যুর জন্য কি তার চিকিৎসক দায়ী? অনিচ্ছাকৃত খুনের তদন্ত শুরু করেছে আর্জেন্টিনার পুলিশ। রোববার চিকিৎসকের বাড়িতে তল্লাশিও চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। যদিও চিকিৎসকের বক্তব্য, তার 'বন্ধু'র জন্য যা করণীয় ছিল, তার চেয়ে বেশিই করেছেন তিনি। আদালতে জবানবন্দী দিতেও প্রস্তুত তিনি।

লিওপোল্ডো লুকিউ : ম্যারাডোনারপারিবারিক চিকিৎসক লিওপোল্ডো লুকিউ। ৩৯ বছরের এই ডাক্তারই গত বেশ কিছু বছর ধরে ম্যারাডোনার চিকিৎসা করছিলেন। কিছু দিন আগে তাঁর মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছিল। লিওপোল্ডোই তার চিকিৎসা করেছিলেন। ফুটবল স্টারকে ভর্তি করেছিলেন হাসপাতালে। সেখানে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রপচার হয়। আট দিন হাসপাতালে থাকার পর মারাদোনাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। লিওপোল্ডো ম্যারাডোনার সঙ্গে একটি সেলফি তুলে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিলেন ওই দিন।

ম্যারাডোনার পরিবারের একাংশের অভিযোগ, মস্তিষ্কে অস্ত্রপচারের পর তাঁকে যতটা পরিষেবা দেওয়া উচিত ছিল, লিওপোল্ডো ততটা দেননি। সে কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়। পুলিশও তদন্ত শুরু করেছে। তল্লাশি চালানো হয়েছে তাঁর বাড়িতে এবং ক্লিনিকে।


১৯৮৪ সালে ক্লাওদিয়া ভিলইয়াফানিয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় তার৷ ২০০৪ সালে তা ভেঙে যায়৷ ডালমা ও খিয়ানিনা (আগুয়েরোর সাবেক স্ত্রী) নামে তাদের দুটি সন্তান আছে৷ এর বাইরে বিভিন্ন সময় অনেকের সঙ্গে জড়িয়ে আরও সন্তানের জনক হয়েছেন ম্যারাডোনা৷ তবে ডালমা ও খিয়ানিনাকেই তিনি তার বৈধ সন্তান বলে আখ্যায়িত করেছেন৷ বাকিরা তার ‘টাকা আর ভুলের’ ফসল বলে মন্তব্য করেন ম্যারাডোনা৷ ছবিতে দুই মেয়ের সঙ্গে ম্যারাডোনা৷


রোবার রাতে একটি টেলিভিশন শোয়ে অংশ নিয়েছিলেন লিওপোল্ডো। সেখানে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, তদন্তে সবরকম সাহায্য তিনি করবেন। প্রয়োজনে আদালতে জবানবন্দি দেবেন। ম্যারাডোনার জন্য যা করা যেত, তার চেয়ে বেশিই করেছেন বলে এ দিন দাবি করেছেন তিনি।

বস্তুত, এর আগে বেশ কিছু কঠিন রোগের শিকার হয়েছিলেন ম্যারাডোনা। জীবন-মৃত্যুর যুদ্ধ চলেছে একাধিকবার। লিপোল্ডোর চিকিৎসায় বার বারই তিনি জীবনে ফিরে এসেছেন। তবে ফুটবল স্টারের পরিবারের অভিযোগ, এ বার বাড়িতে আসার পর মারাদোনার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল চিকিৎসকের। দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়েছে। প্রতিবেশীরা তা দেখেছেন। শুধু তাই নয়, ম্যারাডোনার হার্ট অ্যাটাকের পরেও তিনি সেখানে যাননি বলে অভিযোগ। ফোন করে অ্যাম্বুল্যান্স ডেকেছিলেন কেবল। ওই ফোন কলের রেকর্ড পুলিশের হাতে রয়েছে।

তা হলে কি চাইলে বাঁচিয়ে দেওয়া যেত ৬০ বছরের ম্যারাডোনাকে? গোটা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে এখন এটাই অন্যতম আলোচনার বিষয়। ডয়চে ভেলে



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন