Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০৯ মাঘ ১৪২৭, ০৯ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

চেয়ারবিহীন বিবর্ণ গ্যালারী

রুমু, চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম

২০০৪ সালে আইসিসির অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ দিয়ে জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ভেন্যুটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গণে যাত্রা শুরু হয়। ২০০৬ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে ওয়ানডে ও টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক ভেন্যুর মর্যাদা পায় এ ভেন্যুটি। এছাড়া ২০১১ সালে আইসিসি বিশ্বকাপের দুটি ম্যাচ আয়োজন করা হয় এ ভেন্যুতে। আগামী বছর জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল বাংলাদেশ সফরে আসছে। এ দলটি জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে একটি টেস্ট ও তিনটি টি-২০ ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে টাইগারদের বিপক্ষে। মূল ভেন্যুর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও গ্যালারীর একটি অংশের চেয়ারগুলোর অবস্থা বেশ বিবর্ণ। যেখানে একটি বিদেশি দল এ ভেন্যুতে খেলতে আসার সম্ভাবনা থাকছে সে দৃষ্টিকোণ থেকে গ্যালারীর এমন চিত্র ক্রীড়ামোদীরা কোন অবস্থাতেই মেনে নিতে পারছে না। পূর্ব দিকে দ্বিতল গ্যালারীর নিচের আটটি অংশের মধ্যে পাঁচটি জায়গায় অবকাঠামোসহ নেই কোন চেয়ার। ঠিক একইভাবে পশ্চিম দিকের একতলা গ্যালারীর তিনটি স্থানেও একই অবস্থা। এসব মিলে কমপক্ষে পাঁচ হাজার চেয়ার নেই জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের গ্যালারীতে। অথচ টাইগারদের জন্য এটি হচ্ছে লাকি ভেন্যু। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নভেম্বরে এ ভেন্যুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ একটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল। সে ম্যাচে বাংলাদেশ ৬৪ রানে জয়ী হয়েছিল। টাইগারদের তামিম, মুশফিকদের ব্যক্তিগত অনেক সুখস্মৃতি রয়েছে এখানে। এ কারণে টাইগারদের লাকি ভেন্যু বলা হয়ে থাকে জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামকে। আইসিসি বিশ্বকাপের সময় স্টেডিয়ামের গ্যালারীজুড়ে বসানো হয়েছিল এ চেয়ারগুলো। গত নয় বছরে রোদ, ঝড়, বৃষ্টিতে গ্যালারীর বড় একটা অংশের চেয়ারগুলো ভেঙ্গে নষ্ট হয়ে গেছে। গ্যালারীর দিকে তাকালেই একটি হতশ্রী চেহারা ভেসে উঠে। ক্ষতিগ্রস্ত চেয়ারগুলো পাল্টানোর জন্য বেশ কয়েকবার ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এর কোন সুরাহা হয়নি। এছাড়া আইসিসি বিশ্বকাপের পর গত নয় বছরে বড় ধরনের সংস্কারও হয়নি। ক্রিকেটের জন্য নির্মিত এ ভেন্যুটি রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মাসে খরচ হয়ে থাকে প্রায় ১০ লাখ টাকার কাছাকাছি। যা বছরে এক কোটি টাকার উপরে। স্টেডিয়ামের মাঠ সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত থাকলেও গ্যালারীর ঐ অংশটি অবহেলায় পড়ে থাকায় কেউ কেউ বলছেন যেখানে ভেন্যু রক্ষণাবেক্ষণ ও কমকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ বছরে এক কোটি টাকার উপরে খরচ হয়ে থাকে সেখানে চেয়ারগুলো স্থাপন করতে কেনই অবহেলা করা হচ্ছে। ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দিয়ে জানানোর পরও থাকছে কেন নীরব। করোনার কারণে গত ১০ মাসের বেশি সময় এ মাঠে নেই কোন ক্রিকেট। স্টেডিয়ামের সবকিছু আছে আগের মত। সেই সবুজ মাঠ, সেই উইকেট, দৃষ্টিনন্দন সব স্থাপনা আছে। রোদ-ঝড়-বৃষ্টিতে গ্যালারীর রং একটু ফ্যাকাশের পাশাপাশি গ্যালারীর বড় একটি অংশে নেই কোন চেয়ার, আর কিছু কিছু চেয়ার ভাঙ্গা, সব মিলিয়ে লাকি ভেন্যুকে লাগছে বড় বেমানান। খেলা না থাকলেও স্টেডিয়ামের মাঠ, উইকেট কিংবা নানা স্থাপনা ঠিক রাখতে এ করোনার মাঝেও মাঠকর্মীরা প্রাণপন চেষ্টা চালিয়েছেন। করোনার এ ভয়াবহতায় মাঠকর্মীদের তৎপরতা দেখে বিসিবির পক্ষ থেকে তাদেরকে বিশেষ বোনাসও দেয়া হয়। কিন্তু অনাদারে থেকে গেছে বিবর্ণ ও চেয়ারবিহীন খালি পরে থাকা এসব গ্যালারীর অংশ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিবর্ণ-গ্যালারী
আরও পড়ুন