Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ০২ মাঘ ১৪২৭, ০২ জামাদিউল সানী ১৪৪২ হিজরী

মূর্তি ও ভাস্কর্য : ইসলাম কী বলে-২

মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ | প্রকাশের সময় : ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম

মূর্তি ও ভাস্কর্যের মধ্যে বিধানগত কোনো পার্থক্য নেই। যারা মূর্তি ও ভাস্কর্যকে আলাদা বলেন, তারা সঠিক বলেন না।

গত আলোচনায় আমরা কোরআনের আয়াত দ্বারা তা স্পষ্ট করেছি। এই আলোচনায় নবী করিম (সা.)-এর পবিত্র হাদিস থেকেও মূর্তি ও ভাস্কর্য আলাদা কোনো বস্তু নয়, তা প্রমাণ করা হলো। কেননা, হাদিস শরীফেও নবী করীম (সা.) মূর্তি ও ভাস্কর্য সম্পর্কে পরিষ্কার বিধান দান করেছেন। নিম্নে কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হলো :

হযরত আমর ইবনে আবাসা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা আমাকে প্রেরণ করেছেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার, মূর্তিসমূহ ভেঙে ফেলার
এবং এক আল্লাহর ইবাদত করার ও তাঁর সঙ্গে অন্য কোনো কিছুকে শরিক না করার বিধান দিয়ে। (সহীহ মুসলিম : ৮৩২)।

২. আবুল হাইয়াজ আসাদী বলেন, আলী ইবনে আবী তালেব রা. আমাকে বললেন, ‘আমি কি তোমাকে ওই কাজের দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করব না, যে কাজের জন্য নবী (সা.) আমাকে প্রেরণ করেছিলেন? তা এই যে, তুমি সকল প্রাণীর মূর্তি বিলুপ্ত করবে এবং সকল সমাধিসৌধ ভূমিসাৎ করে দিবে।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে,... এবং সকল চিত্র মুছে ফেলবে।’ (সহীহ মুসলিম : ৯৬৯)।

৩. আলী ইবনে আবী তালেব (রা.) বলেন, নবী করীম (সা.) একটি জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে মদীনায় যাবে এবং যেখানেই কোনো প্রাণীর মূর্তি পাবে তা ভেঙে ফেলবে, যেখানেই কোনো সমাধিসৌধ পাবে তা ভূমিসাৎ করে দিবে এবং যেখানেই কোনো চিত্র পাবে তা মুছে দিবে?’ আলী রা. এই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত হলেন। এরপর নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে কেউ পুনরায় উপরোক্ত কোনো কিছু তৈরি করতে প্রবৃত্ত হবে সে মুহাম্মাদের (সা.) প্রতি নাজিলকৃত দ্বীনকে অস্বীকারকারী।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৬৫৭)। এই হাদিসগুলো থেকে স্পষ্ট জানা যাচ্ছে যে, যে কোনো প্রাণী মূর্তিই ইসলামে পরিত্যাজ্য এবং তা বিলুপ্ত করাই হলো ইসলামের বিধান। আর এগুলো নির্মাণ করা ইসলামকে অস্বীকারকারী সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্য।

৪. আবু হুরায়রা রা. নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন : ওই লোকের চেয়ে বড় জালেম আর কে যে আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করার ইচ্ছা করে। তাদের যদি সামর্থ্য থাকে তবে তারা সৃজন করুক একটি কণা এবং একটি শষ্য কিংবা একটি যব! (সহীহ বুখারী : ৫৯৫৩)। এই হাদিসটি বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, যখন ভাস্কর-চিত্রকর, এমনকি গল্পকার ও ঔপন্যাসিকদের পর্যন্ত ‘স্রষ্টা’ বলতে এবং তাদের কর্মকান্ডকে ‘সৃষ্টি’ বলতে সামান্যতমও দ্বিধাবোধ করা হয় না। কোনো কোনো আলোচকের আলোচনা থেকে এতটা ঔদ্ধত্যও প্রকাশিত হয় যে, যেন তারা সত্যি সত্যিই স্রষ্টার আসনে আসীন হয়ে গিয়েছেন!

সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার হাফেজ ইবনে হাজার আসকানী (রহ.) লেখেন- এই ভাস্কর ও চিত্রকর সর্বাবস্থাতেই হারাম কাজের মধ্যে লিপ্ত। আর যে এমন কিছু নির্মাণ করে যার পূজা করা হয় তার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। আর যে স্রষ্টার সামঞ্জস্য গ্রহণের মানসিকতা পোষণ করে সে কাফের।’ (ফতহুল বারী : ১০/৩৯৭)

৫. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) ও আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : এই প্রতিকৃতি নির্মাতাদের (ভাস্কর, চিত্রকরদের) কিয়ামত দিবসে আযাবে নিক্ষেপ করা হবে এবং তাদের সম্বোধন করে বলা হবে, যা তোমরা ‘সৃষ্টি’ করেছিলে তাতে প্রাণসঞ্চার করো। (সহীহ বুখারী : ৭৫৫৭; ৭৫৫৮)। এই হাদিসগুলো থেকে প্রমাণিত হয় যে, ভাস্কর্য নির্মাণ অত্যন্ত কঠিন কবীরা গুনাহ। আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কুফরীর পর্যায়েও পৌঁছে যায়।

দৃষ্টান্তস্বরূপ এই হাদিসগুলো পেশ করা হলো। আলোচিত প্রসঙ্গে ইসলামী বিধান বোঝার জন্য এটুকুই যথেষ্ট। কুরআন মজীদে যে কোনো ধরনের মূর্তির সংশ্রব ও সংশ্লিষ্টতা পরিহারের যে আদেশ মুমিনদের করা হয়েছে সে সম্পর্কে একটা বিস্তারিত ধারণাও উপরোক্ত হাদিসগুলো থেকে জানা গেল। কুরআন ও সুন্নাহর এই সুস্পষ্ট বিধানের কারণে মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ইত্যাদি সকল বিষয়ের অবৈধতার ওপর গোটা মুসলিম উম্মাহর ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। (উমদাতুল কারী ১০/৩০৯; ফাতহুল বারী ১০/৪০১; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম : ৪/১৫৯)।



 

Show all comments
  • Kamal ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:৫৪ এএম says : 0
    I can't believe the so called pro-AL scholars don't have a little knowledge of Islamic jurisprudence. They are supporting this motion of establishing the sculpture/mural of Sheikh Mujib. This is classically forbidden in Islam as it could lead to bidah (innovation). Please don't be the fuel of hell hereafter for some worldly benefits. May Allah protect us from all evil deeds!
    Total Reply(1) Reply
    • Monir ৩ ডিসেম্বর, ২০২০, ৬:৪১ এএম says : 0
      It could lead to Shirk. আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, এগুলো হচ্ছে নূহ আ.-এর সম্প্রদায়ের কিছু পুণ্যবান লোকের নাম। তারা যখন মৃত্যুবরণ করেছে তখন শয়তান তাদের সম্প্রদায়কে এই কুমন্ত্রণা দিয়েছে যে, তাদের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলোতে মূর্তি স্থাপন করা হোক এবং তাদের নামে সেগুলোকে নামকরণ করা হোক। লোকেরা এমনই করল। ওই প্রজন্ম যদিও এই সব মূর্তির পূজা করেনি কিন্তু ধীরে ধীরে প্রকৃত বিষয় অস্পষ্ট হয়ে গেল এবং পরবর্তী প্রজন্ম তাদের পূজায় লিপ্ত হলো। (সহীহ বুখারী হাদীস : ৪৯২০)।
  • Jesmin Anowara ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ২:১৯ এএম says : 0
    Presently Bangladesh and other Muslim countries over the world are being ruled by ..........., they have eyes but they are blind , they have ears but they are deaf , they have heart but their hearts are dark they have lost the ability to follow Quran Majid and hadith, Also they have some hypocrites olema supporters
    Total Reply(0) Reply
  • রোদেলা ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ২:৩০ এএম says : 0
    ইসলামে মূর্তি বা ভাস্কর্য তৈরি করার কোন বৈধতা নেই।
    Total Reply(0) Reply
  • দুলাল ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ২:৩১ এএম says : 0
    মুসলিম দেশকে ভাস্কর্যের দেশ বানানোর চক্রান্ত বরদাশত করা হবে না।
    Total Reply(0) Reply
  • জাহিদ ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ২:৩২ এএম says : 0
    ইসলামে মূর্তি বা ভাস্কর্য তৈরি করার কোন বৈধতা না থাকলেও এ দেশের সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলমানদের মতামতের তোয়াক্কা না করে ভাষ্কর্য স্থাপনের নামে এ দেশকে মূর্তির রাজ্যে পরিণত করতে চায়। কিন্তু মুসলিম দেশকে ভাস্কর্যের দেশ বানানোর চক্রান্ত বরদাশত করা হবে না।
    Total Reply(0) Reply
  • হাবীব ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ২:৩২ এএম says : 0
    লেখাটির জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি
    Total Reply(0) Reply
  • রেজোয়ান হোসেন। ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ৮:১১ এএম says : 0
    দুঃখজনক হলো-যারা মূর্তি বা ভাস্কর্যের পক্ষে মতামত দেয় ,তারা কুরআন-হাদিসের বক্তব্য আমলে নিচ্ছে না।
    Total Reply(0) Reply
  • محمد حكمة الله قاضي ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ৮:১২ এএম says : 0
    جزي الله الكاتب وزاده الله علما وحكمة ونفع به مسلمي بنغلاديش خاصة وجميع المسلمين عامة
    Total Reply(0) Reply
  • রেজোয়ান হোসেন। ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ৮:১৫ এএম says : 0
    দুঃখজনক হলো-যারা ভাস্কর্যের পক্ষে,তারা কুরআন-হাদিসের বক্তব্য আমলে নিচ্ছে না।
    Total Reply(0) Reply
  • Md. Raju Ahamed ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:০৫ পিএম says : 0
    কিছু মানুষ আছে যারা নিজের স্বার্থের জন্য কোরআন ও হাদীসের তোয়াক্কা করেনা ।
    Total Reply(0) Reply
  • Md.Faizul Kabir ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ৬:৪৩ পিএম says : 0
    All type of statues are haram whether you call "vaskarja" or "murti".
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Abdur Rahman ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ৫:৫২ পিএম says : 0
    আমারা ধর্মীয় মূল‍্যবোধকে সমুন্নত রাখতে চাই। জাতিকে বিভক্ত করতে চাই না। চলার পথে বহু কিছু আছে যা কিনা ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ। এক দিনে সমাধা হবে না। যাদেরকে আমরা ধর্মীয় নেতা, পীর মাশায়েখ, আলেম, বুজূর্গ বলে মেনে আসছি তাদের কাছে অনুরোধ আপনারা এই শান্তি প্রিয় দেশবাসী ও সরকারে ইসলামের পথে চলার জন‍্য নামাজের জন‍্য আন্দোলন করুন, রোজা রাখার জন‍্য, সুদ থেকে বাচার বিকল্প অর্থনীতি চালুর জন‍্য রাস্তায় নামুন। সত্যিকার অর্থে ইসলামের খেদমত হবে। আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলের প্রদর্শিত পথে চলা সহজ হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • habib ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ৬:০১ পিএম says : 0
    Awamlegue ki kono islamic dharona nai....?
    Total Reply(0) Reply
  • Abdul karim ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ১১:২৪ পিএম says : 0
    যনি এই বিষয়টি এখনে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন আশা করি আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি আরও হালাল হারাম বিষয় গুলি এই ভাবে উপস্থাপন করবেন আল্লাহ আপনাকে সৎ সাহস দিন
    Total Reply(0) Reply
  • মুহাম্মাদ শুআইব ৩ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:২২ পিএম says : 0
    جزي الله الكاتب وزاده الله علما وحكمة ونفع به مسلمي بنغلاديش خاصة وجميع المسلمين عامة
    Total Reply(0) Reply
  • মুহাম্মাদ শুআইব ৩ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:২২ পিএম says : 0
    শুকরিয়া
    Total Reply(0) Reply
  • কবির ৫ ডিসেম্বর, ২০২০, ৪:২৩ এএম says : 0
    তারা সোলায়মানের (আ.) ইচ্ছানুযায়ী দূর্গ, ভাস্কর্য, হাউযসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লির উপর স্থাপিত বিশাল ডেগ নির্মাণ করত।” (সুরা সাবা, আয়াত ১৩)
    Total Reply(0) Reply
  • কবির ৫ ডিসেম্বর, ২০২০, ৪:২৩ এএম says : 0
    তারা সোলায়মানের (আ.) ইচ্ছানুযায়ী দূর্গ, ভাস্কর্য, হাউযসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লির উপর স্থাপিত বিশাল ডেগ নির্মাণ করত।” (সুরা সাবা, আয়াত ১৩)
    Total Reply(0) Reply
  • কাজী শীপন ৬ ডিসেম্বর, ২০২০, ৯:২৩ পিএম says : 0
    আমাদের দেশ এখন আর কাজে মুসলিম দেশ নাই এমনি নামে মুসলিম দেশ আল্লাহ ওইসব লোকদের হেদায়েত দিক যারা এইসব করতেছে,,,হেদায়েত না থাকলে ধ্বংস হয়ে যাক
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম

১৬ জানুয়ারি, ২০২১
১৫ জানুয়ারি, ২০২১
১৪ জানুয়ারি, ২০২১
১২ জানুয়ারি, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন