Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ০২ মাঘ ১৪২৭, ০২ জামাদিউল সানী ১৪৪২ হিজরী

‘বিনামূল্যে রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা চালু আছে’

এইডস দিবসে জাহিদ মালেক

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:০২ এএম

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে যখন এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, আমাদের দেশে এই সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এই করোনা সময়েও এইডস রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

সরকার এইডস রোগীদের সব ধরণের চিকিৎসা সেবা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা বিনামূল্যে চালু রেখেছে। এর ফলে, আমাদের দেশে এইডস-এর সংক্রমণ এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেক এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশ থেকে এইডস আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে নির্মূল করার লক্ষ্যে কাজ করতে স্বাস্থ্যখাতের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কিছু নির্দেশনা রয়েছে। স্বাস্থ্যখাত সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দিবসটিতে এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘সারা বিশ্বের ঐক্য, এইডস প্রতিরোধে সবাই নিব দায়িত্ব’। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমী হল রুমে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা কামাল, লাইন ডাইরেক্টর টিবিএল এন্ড এএসপি প্রফেসর ডা. মো. শামিউল ইসলাম প্রমূখ।
দেশের স্বাস্থ্যখাতের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাত ইতোমধ্যেই পোলিও, টিটেনাস, যক্ষা রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের কারণে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কার ভ্যাকসিন হিরো হয়েছেন। বিশ্বের সবচেয়ে দুর্যোগপূর্ণ সময় এই কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন প্রয়োগেও আগামীতে স্বাস্থ্যখাত সফল হবে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার প্রথম ঢেউ আমরা সামলাতে সক্ষম হয়েছি এবং দ্বিতীয় ঢেউ এলেও এখন আর তেমন সমস্যা হবে না। সরকারি-বেসরকারি উভয় শক্তি মিলেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলা করা হবে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় দেশের স্বাস্থ্যখাতের এখন সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে। হাসপাতাল প্রস্তুকরণ, শয্যা সংখ্যা বাড়ানো, প্রশিক্ষণ, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সবই এখন প্রস্তুত। তবে এসবের পাশপাশি দেশের মানুষকেও একই সাথে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। মুখে মাস্ক পরে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার কোন বিকল্প নেই।

এদিকে আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসেই করোনাভাইরাসের টিকা পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের টিকার বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা হচ্ছে। যে টিকাই আগে আসবে, সেটাই আনার চেষ্টা করা হবে। ফেব্রুয়ারিতেই ভ্যাকসিন পাব আশা করি। তবে তার চেয়ে বেশি দরকার স্বাস্থ্য বিধি মানা।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের তিন কোটি ডোজ সংগ্রহের জন্য গত ৫ নভেম্বর সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সঙ্গে সরকার চুক্তি করেছে। মহামারী মোকাবেলায় যারা সামনে থেকে কাজ করছেন তাদের বিনামূল্যে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। টিকা পাওয়ার অগ্রাধিকারে গণমাধ্যমকর্মীদেরও রাখা হয়েছে বলে জানিয়ে সচিব আবদুল মান্নান বলেন, সাংবাদিকরা করোনাভাইরাস মহামারিতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। এ কারণে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ বছর এইডস আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে ১৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে এইডস শনাক্ত হয়েছে ৬৫৮ জন। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ১২৪ জন রোহিঙ্গা। আক্রান্তের ৭৬ ভাগই পুরুষ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৫ জানুয়ারি, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন