Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ০২ মাঘ ১৪২৭, ০২ জামাদিউল সানী ১৪৪২ হিজরী

আমৃত্যু উল্লেখ না করলে ৩০ বছর

যাবজ্জীবন সাজা প্রসঙ্গে আপিল বিভাগ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:০২ এএম

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গতকাল যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ৩০ বছর পর্যন্ত কারাভোগ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন। তবে ক্ষেত্রবিশেষে আদালত রায়ে আমৃত্যু উল্লেখ করলে সেক্ষেত্রে বাকি জীবন কারগারেই কাটাতে হবে। এছাড়া সকল ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন সাজা মানে ৩০ বছর হবে।

এক আসামিকে আমৃত্যু কারাদন্ড দিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনটি নিষ্পত্তি করে গতকাল প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ভার্চুয়াল বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এই রায় দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও শিশির মুহাম্মদ মনির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছরের কারাদন্ড। তবে আদালত বা ট্রাইব্যুনাল যদি সাজায় আমৃত্যু কারাদন্ড বলে দেন তাহলে সেটাই গণ্য হবে।’

আসামির আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘রায়ে আপিল বিভাগ বলেছেন-যাবজ্জীবন বলতে একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবন যতদিন ততদিন কারাদন্ড হবে। কিন্তু আইনের বিধান অনুযায়ী একজন যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিকে কমপক্ষে ৩০ বছরের সাজা ভোগ করতে হবে। সেক্ষেত্রে আসামি আইনের অন্যান্য রেয়াত পাবেন। যদি আদালত বিশেষভাবে আদেশ না দেন যে তাকে আমৃত্যু কারাগারে থাকতে হবে।’ রায়ে সংক্ষিপ্ত আদেশে আদালত বলেছেন, যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাদন্ড অর্থাৎ যেখানে বলা হয়েছে, ‘প্রাথমিকভাবে যাবজ্জীবন কারাদন্ড মানে হচ্ছে দন্ডিত ব্যক্তির স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত বাকি জীবন। কিন্তু ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৫ ও ৫৩ ধারা যদি দন্ড বিধির ৫৫ ও ৫৭ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ (এ) ধারা একসঙ্গে পড়লে যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছরের কারাবাস। কিন্তু ৩০ বছরের সাজার বিষয়টি ট্রাইব্যুনাল বা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক কাউকে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়া হলে সেই দন্ডিত ব্যক্তি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ (এ) ধারার সুবিধা পাবেন না।’

ঘোষিত রায়ে যাবজ্জীবন নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন সর্বোচ্চ আদালত। তাতে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধি ও দন্ডবিধির এ-সংক্রান্ত বিধানগুলো একসঙ্গে পড়লে যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছরের কারাবাস। তবে আদালত, ট্রাইব্যুনাল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক কাউকে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়া হলে সেই দন্ডিত ব্যক্তি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫-এ ধারার সুবিধা পাবেন না।

২০০১ সালে সাভারে জামান ইয়াসিন নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে ২০০৩ সালের ১৫ অক্টোবর রায় দেন বিচারিক আদালত। দুই আসামি হলেন আতাউর মৃধা ও আনোয়ার হোসেন। ২০০১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জামান ইয়াসিনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তার বাবা মো. সিরাজুল ইসলাম সাভার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় ২০০৩ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল তিন আসামিকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামি আতাউর ও আনোয়ার। পলাতক থাকায় আপিল করার সুযোগ পাননি কামরুল। একইসঙ্গে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আপিল খারিজ করে দিয়ে তিন আসামির মৃত্যুদন্ড বহাল রাখেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সুপ্রিম কোর্ট


আরও
আরও পড়ুন