Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১০ মাঘ ১৪২৭, ১০ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

মাগুরার মহম্মদপুরে নতুন করে নদী ভাঙ্গন ৫ টি গ্রামর মানুষ দিশেহারা

মাগুরা থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩ ডিসেম্বর, ২০২০, ১:৫০ পিএম

মাগুরার মহম্মদপুরে মধুমতি নদীর পানির স্রোত কমতে থাকলেও নতুন করে দেখা দিয়েছে ভাঙন। গেলো ১৫ দিনের ব্যাবধানে নদীর ব্যাপক ভাঙনে বসতভিটা বিলিন হয়ে একাধিক পরিবার অনত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বিলিন হয়ে গেছে ফসলি জমি, বসতভিটা মসজিদসহ স্থাপনা। চরম হুমকির মুখে মাদ্রাসা, কবরস্থানসহ উপজেলা শহর রক্ষায় নির্মিত বেড়িবাধ। আতংকে দিন কাটাচ্ছে কয়েকশত পরিবার। নতুন করে ভাঙ্গনের জন্য স্রোত আর ড্রেজার দ্বারা অবৈধ বালু উত্তলনকে দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দ্বিতীয় দফায় মধুমতির ভাঙনের কবলে মাগুরা মহাম্মদপুরের দুইটি ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ এখন দিশেহারা। গত ১০ বছরে ভাঙনের কবলে একাধিকবার বসতভিটা হারিয়ে সর্বশান্ত মানুষগুলি মাথা গোজার ঠাই নিয়ে চরম শংকিত। এবার স্রোতের তীব্রতা কমে নদীতে পানি নামতে শুরু করায় নদী কুলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তলনের ফলে নদীর তলদেশে খাদ তৈরী হয়ে তিব্র ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অবিলম্বে এই বালু উত্তলন বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা। সেই সাথে স্থায়ী বাধ নির্মানের দাবী জানিয়েছেন ভাঙন কবলিত এলাকার অসহায় মানুষ।

গত দু’সপ্তাহ ধরে এমন ভাঙন চলছে মাগুরা মহাম্মদপুর উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ৫ টি গ্রামে । মধুমতি নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ফসলি জমি আর বসতভিটাসহ নানা স্থাপনা। ভাঙনের মুখে সব হারিয়ে অনত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন শীরগ্রাম, কাশিপুর, ভোলানাথপুর, ধুলঝুড়ি, গোপালনগরের কয়েকশত পরিবারকে। নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে সব হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এ অঞ্চলের বাসিন্দারা।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, শিরগ্রাম কাশিপুর হতে এলেংখালি শেখ হাসিনা সেতু পর্যন্তু বিস্তির্ন এলাকা জুড়ে তীব্র নদী ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র কয়দিনের ব্যাবধানে বিলিন হয়েছে মসজিদসহ নানা স্থাপনা। মাঝে উপজেলা শহর রক্ষা বাধও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খসে পড়তে শুরু করেছে ব্লক। নদীর পানি কমতে থাকায় এই ভাঙন। বালু উত্তলনের ফলে তলদেশে খাদ সৃষ্টি হয়ে পাড় ভেংগে পড়ছে বলে জানালেন স্থানীয়রা। জানা যায়, পারলা শীরগ্রাম নদীর খেয়া ঘাট, কাশিপুর কবরস্থান সংলগ্ন নদীর চরসহ এলেংখালি ব্রিজ পর্যন্তুু বিস্তীর্ন এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল দীর্ঘদিন যাবৎ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তলন করে বিক্রি করে আসছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে এ ব্যাপারে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও তেমন তৎপরতা না থাকায় থেমে নেই অবৈধ বালু উত্তলন।

কাশিপুরের ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিরা জানালেন, একাধিক বার বসতভিটা পরিবর্তনের পর সবশেষে অল্প একটু জমি ছিল যা এবার নদীতে ভেঙ্গে গেছে। এখন আর কোনও সম্পদ নেই। অন্যের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে তাদের। এর পর কোথায় যাবে তা তাদের জানা নেই।

কাশিপুরের বাসিন্দা আরেক বৃদ্ধা সায়রা বানু জানান, নিজের বাপ ভাইদের ভিটেসহ শশুরবাড়ির স্বামীর জায়গা জমিসহ বসত ভিটে সবই নদী ভাঙনে তলিয়ে গেছে তার। এ কয় বছরে ভাঙনের পর চার বার বসত ঘর বদলেছেন তিনি। নিকট স্বজনদের প্রায় সকলেই অনত্র চলে গেছে। স্বামীও মৃত্যু বরন করেছেন। এখন শেষ আশ্রয়স্থল এই মাথা গোজার ঠাইটুকু এবার হারালে কোথায় যাবেন তার যাবার আর কোন জায়গা নেই। কবরস্থানেও ঠায় হবে না সেটিও যেতে বসেছে এভাবে ভাঙন থাকলে সামান্য দিনেই তলিয়ে যাবে সেটি। তাদেরকে রক্ষায় ব্যাবস্থা গ্রহনের বাদী জানান তিনি।

বছরের পর বছর ধরে এভাবে চলে আসলেও তাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই। খোজ নিতে আসেনি কোন জনপ্রতিনিধি বা সরকারের কেউ। বালু উত্তলন বন্ধ করে স্থায়ী বাধ নির্মান করা না হলে অচিরেই গ্রাম বিলিন হয়ে যাবে বলে এলাকাবাসী জানান।

স্বিস্তীর্ন এলাকা জুড়ে ইচ্ছামত বালু উত্তলনের কারনে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও তেমন ফল পাওয়া যায়নি বলে জানান অনেকে। সাময়িক ভাবে কিছুদিন বন্ধ হলেও পুনরায় আবার চালু হয়ে যায় বালুর ঘাট। জরুরী ভিত্তিতে যদি কিছু বালুর বস্তা ফেলে, বালু উত্তলন বন্ধ করে বাধ নির্মান না হয় তবে এলাকার মানচিত্র হতে এই গ্রামগুলি হারিয়ে যাবে। ক্ষতির সমুক্ষীন হবে পাশেই শতকোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত এলেংখালি শেখ হাসিনা সেতু।

নিজ উদ্দ্যোগে অনেক পরিবার বাশ, চটা দিয়ে ও বালুর বস্তা ফেলে ভিটে রক্ষায় অপ্রান চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তারা। বাড়ির পাশাপাশি পাকা রাস্তা, শহর রক্ষা বাধও ভেঙ্গে যাচ্ছে। অচিরেই কোন ব্যাবস্থা না নিলে বিলিন হয়ে যাবে এই এলাকার মানচিত্র।

মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান সুজন বললেন, নদীর কুল ঘেষে বালু উত্তলনের ফলে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এ বছর মধুমতির অপর ভাঙন কবলিত ঝামা এলাকায় কিছু জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শেষ হয়েছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

মহাম্মদপুর সদর উপজেলা সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রমানন্দ পাল জানান, অচিরেই এ বিষয়ে বিস্তারিত অবস্থার খোজ নিয়ে ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন তিনি। আর এ উপজেলায় সরকারি খতিয়ানে তিনটি বালুমহল রয়েছে। যার মধ্যে বর্তমানে শুধুমাত্র ঝামা এলাকার একটি বালুমহল ছাড়া আর কোনাটির ইজারা দেয়া হয়নি। এ অবস্থায় যদি কেউ অবৈধ ভাবে বালু উত্তলন করে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানালেন তিনি।

মধুমতির ভাঙন থেকে বসতবাড়ি, গুরুত্বপুর্ন স্থাপনা রক্ষায় সরকার আন্তরিক উদ্যোগ নেবেন, এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন