Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৫ মাঘ ১৪২৭, ০৫ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

ভারতে ‘লাভ-জিহাদ’ আইনে প্রথম গ্রেফতার এক মুসলিম

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৪ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:০৭ এএম

আদালতের নির্দেশ উপক্ষা করেই ভারতের হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো ধর্মীয় মেরুকরণের নতুন অস্ত্র হিসাবে তথাকথিত ‘লাভ-জিহাদ’ বিরোধী আইন আনতে শুরু করেছে। এবার যোগীরাজ্য উত্তর প্রদেশ সেই আইন প্রয়োগও শুরু করেছে। বুধবার সেখানে একজন হিন্দু নারীকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করার অভিযোগে পুলিশ একজন মুসলিম পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে।বিয়ের মাধ্যমে হিন্দু মেয়ে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিতকরনের ঘটনাকেই বিজেপি ‘লাভ-জিহাদ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। এটি বন্ধ করতে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো আইনও আনছে। যদিও বিভিন্ন রাজ্যের হাই-কোর্ট একে সংবিধান-বিরোধী বলেছে। তবে নতুন আইনের অধীনে এই প্রথম কাউকে গ্রেফতার করা হলো। গত ২৪ নভেম্বর হিন্দু-মুসলিম বিয়ে বন্ধ করার জন্য দশ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং জামিন অযোগ্য--এমন বিধান রেখে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার একটি নতুন আইন পাস করে। সমালোচকেরা আইনটিকে ইসলামোফোবিক বলে আখ্যা দিয়েছেন, এর বিরুদ্ধে দেশে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। উত্তর প্রদেশ ছাড়াও আরো চারটি রাজ্যে ‘লাভ-জিহাদ’ বিরোধী আইনের খসড়া চূড়ান্ত করছে।

বুধবার উত্তর প্রদেশের বারিলি জেলার পুলিশ গ্রেপ্তারের বিষয়টি টুইটারে পোস্ট দিয়ে নিশ্চিত করেছে। যে নারীকে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছিল, তার বাবা বিবিসি হিন্দিকে বলেছেন, তিনি পুলিশে অভিযোগ করেছেন, কারণ ওই ব্যক্তি তার মেয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল, এবং হুমকি দিচ্ছিল। মুসলমান ব্যক্তির সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক ছিল, কিন্তু বছরের শুরুতে তিনি অন্য একজন পুরুষকে বিয়ে করেন। পুলিশ বিবিসিকে বলেছে, এক বছর আগে ওই নারীর পরিবার ওই মুসলমান ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করেছিল। কিন্তু পরে ওই নারী ফেরত এসে যখন বলেন যে তাকে অপহরণ করা হয়নি, তখন মামলা বন্ধ করে দেয়া হয়। বুধবার গ্রেপ্তারের পর ওই ব্যক্তিকে ১৪ দিনের জুডিশিয়াল কাস্টডিতে পাঠানো হয়েছে। সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেছেন, তিনি নির্দোষ, এবং ‘ওই নারীর সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই।’ লাভ-জিহাদ বিরোধী আইনটি কী: ‘বলপূর্বক’ বা ‘জালিয়াতি’ করে ধর্মান্তরিত করা বন্ধ করার জন্য ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে উত্তর প্রদেশ নভেম্বরে এই আইন পাস করে। অর্ডিন্যান্সটিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের ধর্মান্তরের প্রমাণ পাওয়া গেলে সেই বিয়ে ‘শূন্য’ বা বাতিল বলে বিবেচিত হবে। যারা সেই ধর্মান্তর করাবেন, সেই দোষী ব্যক্তিদের আর্থিক জরিমানা ও সর্বোচ্চ দশ বছর পর্যন্ত কারাদন্ডও হবে। অর্ডিন্যান্সটিকে সাধারণভাবে ‘লাভ-জিহাদ বিরোধী’ আইন বলেই বর্ণনা করা হচ্ছে- যদিও লাভ জিহাদ শব্দ-বন্ধটি অর্ডিন্যান্সের খসড়াতে কোথাও ব্যবহার করা হয়নি। ভারতে মুসলিম যুবকরা যখন কোনও হিন্দু মেয়েকে ভালবেসে বিয়ে করতে যান, সেটাকে বিজেপি ও দেশের বিভিন্ন হিন্দুত্ব-বাদী গোষ্ঠী অনেকদিন ধরেই ‘লাভ জিহাদ’ বলে বর্ণনা করে আসছে। সমালোচকেরা মনে করেন আইনটি প্রতিক্রিয়াশীল এবং আপত্তিকর। সূত্র : বিবিসি।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন