Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৫ মাঘ ১৪২৭, ০৫ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

ভাস্কর্য ও মূর্তি নির্মাণ হারাম ও আযাবযোগ্য গুনাহ

সংবাদ সম্মেলনে-দেশের শীর্ষ উলামা মাশায়েখ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩ ডিসেম্বর, ২০২০, ৮:৫৬ পিএম

ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি নিরসনে দেশের শীর্ষ উলামা মাশায়েখরা কুরআন সুন্নাহর আলোকে ফতোয়া প্রকাশ করেছেন। শীর্ষ পর্যায়ের পাঁচজন আলেম ভাস্কর্য বা মূর্তি সম্পর্কিত ফতোয়া প্রস্তুত করেছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামা মাশায়েখরা প্রকাশিত ফতোয়াকে পুর্নসমর্থন জানিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে দেশের শীর্ষ উলামা মাশায়েখ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ফতোয়া প্রকাশ করা হয়।
বেফাক এর মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হকের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, খিলগাও মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা নূরুল ইসলাম জেহাদী। মাওলানা নূরুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সরকারি উদ্যোগে ভাস্কর্য নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য আসছে। ভাস্কর্য ও মূর্তির বিধান নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিভ্রান্তি। তিনি বলেন, ভাস্কর্য ও মূর্তি জায়েজ নাজায়েজ হালাল-হারাম সংক্রান্ত ইসলামী শরীয়তের বিধান বিষয়েও যে কেউ বক্তব্য দিচ্ছে। ইসলামী শরীয়তের বিধান বিষয়ে সম্যক অবগত না হয়ে এ জাতীয় বক্তব্য প্রদান দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার পরিচয় এবং একটি উদ্বেগজনক বিষয়।
শীর্ষ উলামায়ে কেরাম ভাস্কর্য নিয়ে চলমান বিতর্ক নিরসনে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে শরীয়তের বিধান তুলে ধরাকে নিজেদের কর্তব্য মনে করছেন। তিনি বলেন, সেই তাগিদ থেকে পাঁচজন বিজ্ঞ উলামা মাশায়েখ ভাস্কর্য ও মূর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে একটি সম্মিলিত ফতোয়া প্রস্তুত করেছেন। সেই ফতোয়াটি জাতির সামনে তুলে ধরার জন্যই আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন। ফতোয়া প্রস্তুতকারী উলামা মাশায়েখরা হচ্ছেন, ঢাকার মারকাযুদ দাওয়অ আল ইসলামিয়ার আমীনুত তা’লীম মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মালেক, আকবর কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক ও প্রধান মুফতি মাওলানা দিলাওয়ার হোসাইন, কেন্দ্রীয় দারুল ইফতা বাংলাদেশ বসুন্ধরার প্রধান মুফতি এনামুল হক কাসেমী, উত্তরার জামিয়া সুবহানিয়ার প্রধান মুফতি শায়খুল হাদীস মাওলানা মহিউদ্দীন মাসুম, ও জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়অ মুহাম্মদপুরের উস্ততাযুল হাদীস ওয়াল ফিকহ মাওলানা মুহাম্মদ তাউহীদুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা মুফতি আরশাদ রহমানী, মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মধুপুর পীর সাহেব মাওলানা আব্দুল হামিদ, আল্লামা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা আবুল কালাম,মাওলানা শফিক উদ্দিন, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, মাওলানা নাজমুল হাসান, মাওলানা জালাল উদ্দিন, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা মাহবুব, মাওলানা মুরশিদুল আলম, মুফতি রুহুল আমিন, মাওলানা হারুনুর রশিদ,মুফতি শফিক সাদী, মাওলানা আবুল কাশেম, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুফতি শামসুদ্দিন, মাওলানা আনোয়ার হামিদ, অধ্যাপক আব্দুল জলিল, মাওলানা আতাউর রহমান আরেফী ও মাওলানা হেলাল উদ্দিন।
মুফতি এনামুল হক কাসেমী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, কুরআন-হাদীসের আলোকে মানুষ ও অন্য যে কোনো প্রাণীর ভাস্কর্য অথবা মূর্তি নির্মাণ স্থাপন সংরক্ষণ পূজার উদ্দেশ্যে না হলেও সন্দেহাতীতভাবে নাজায়েয ও স্পষ্ট হারাম এবং কঠোরতম আযাবযোগ্য গুনাহ। আর যদি পূজার উদ্দেশ্যে হয় তাহলে তা’স্পষ্ট শিরক। প্রাণীর ভাস্কর্য ও পূজার মূর্তির মাঝে শরীয়তের দৃষ্টিকোণে হারাম ও নিষিদ্ধ হওয়ার দিক দিয়ে কোনো পার্থক্য নেই। তিনি বলেন, পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, তোমরা পরিহার কর অপবিত্র বস্তু অর্থাৎ মূর্তিসমূহ এবং পরিহার করে মিথ্যাকথন। (সূরা হজ্জ: ৩০)। এই আয়াতে পরিস্কারভাবে সবধরনের মূর্তি পরিত্যাগ করার এবং মূর্তিকেন্দ্রিক সকল কর্মকান্ড বর্জন করার আদেশ দেয়া হয়েছে। হাদীসের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয় যারা এ সকল প্রতিকৃতি নির্মাণ করে, তাদেরকে কিয়ামতের দিবসে আযাবে নিক্ষেপ করা হবে এবং তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, যা তোমরা সৃষ্টি করেছিলে তাতে প্রাণসঞ্চার কর ! (সহীহ বুখারী হা.)। বুখারী হাদীস থেকে প্রমাণিত যে, প্রাণীর ভাস্কর্য নির্মাণ অত্যন্ত কঠিন কবীরা গুনাহ।
সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অসংখ্যা ভাস্কর্য রয়েছে এসব ভাস্কর্য ভাংগার উদ্যোগ নিবেন কিনা এমন প্রশ্নের জাবাবে বলা হয়, ভাংগার বিষয়টি সরকারের। আপনাদের ফতোয়ার ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন থাকলে বলুন। প্রকাশিত ফতোয়ার বাইরে প্রশ্ন না করাই ভালো। ভাস্কর্য ও মূর্তি সর্ম্পকে ইসলামী শরীয়ত কী বলে সে বিষয়টি তুলে ধরার জন্যই আমাদের এ আয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কোনো মুসলিম দেশের শাসকদের শরীয়ত বিরোধী কাজ মুসলমানদের জন্য অনুসরণ যোগ্য নয়। তাদের জন্য একমাত্র অনুসরণীয় হচ্ছে কুরআন-সুন্নাহ এবং ইসলামী শরীয়ত। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমীন!



 

Show all comments
  • MD. ABDUL LATIF ৩ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:৪৪ পিএম says : 0
    অাল্লাহ অামাদের সবাইকে কুরআন ও রাসুলুল্লাহ সাঃ এর হাসিদ পড়ার এবং বুঝার তৌফিক দান অামিন, এবং যে সকল মূর্খের মুখের ভাস্কর্য তথা মুর্তি স্থানপন করতে চাই দারেকে বোঝার তৌফিক দান করুন
    Total Reply(0) Reply
  • মো.শহীদুল ইসলাম জকিগঞ্জী ৩ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:৫৬ পিএম says : 0
    মাশা আল্লাহ ফতোয়া টি পড়ে অনেক খুশি হলাম, আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাই এব্যাপারে আমাল করার তৌফিক দান করুন,এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে একটু চিন্তা ফিকির করলে,দেশ ও জাতির ভালো হবে। আল্লাহ সবাইকে ভালো ও সুস্থ রাখুক। এবং ভাস্কর্যের ব্যাপারে পার্থক্য বুযার তৌফিক দান করুন,এই বিষয়ে যে কেউ নাক গলানো থেকে হেফাজত করুন, আমিন।
    Total Reply(0) Reply
  • শাহীন ৪ ডিসেম্বর, ২০২০, ১:২৮ এএম says : 0
    মাশআল্লাহ্ খুব সুন্দর ভাবে উপস্থান করেছেন। আমরা সাধারণ আম জনতা খুব সহজেই বুঝতে পেরেছি।
    Total Reply(0) Reply
  • মো: আসাদ মিয়া ৪ ডিসেম্বর, ২০২০, ৪:১৭ এএম says : 0
    মাশাআল্লাহ, সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার জন্য।
    Total Reply(0) Reply
  • মো: আসাদ মিয়া ৪ ডিসেম্বর, ২০২০, ৪:১৭ এএম says : 0
    মাশাআল্লাহ, সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার জন্য।
    Total Reply(0) Reply
  • ইব্রাহিম হোসেন ৪ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:৪৮ পিএম says : 0
    বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদেরা ইসলামি শরীয়া ভিত্তিক যে ফতুয়া দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের উক্ত ফতুয়া আমলে আনার জন্য অনুরোধ করছি।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ