Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০৯ মাঘ ১৪২৭, ০৯ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

শিষ্যদের পারফরম্যান্সে খুশি জেমি ডে

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৫ ডিসেম্বর, ২০২০, ৭:৫০ পিএম

বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে ‘ই’ গ্রুপের ফিরতি ম্যাচে শুক্রবার রাতে স্বাগতিক কাতারকে মোকাবেলা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। দোহার আবদুল্লাহ আল খালিফা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে কাতার ৫-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে বাংলাদেশকে। যেখানে গত বছরের অক্টোবরে ঘরের মাঠ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম লেগের ম্যাচে এই কাতারের বিপক্ষে লড়াই করে (২-০) হেরেছিল লাল-সবুজরা। সেখানে দোহায় জামাল ভূঁইয়াদের অসহায় আতœসমর্পণ হতাশ করেছে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের। কিন্তু এমন হারে অতটা হতাশ নন বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে। বরং তিনি নিজ দলের ফুটবলারদের প্রশংসাই করেছেন। বিশেষ করে তরুণ গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো’র খেলায় মুগ্ধ জেমি। পুরো ম্যাচে শিষ্যদের পারফরম্যান্সেও খুশি তিনি। তবে ম্যাচের ব্যবধানটা একটু কম হলে ভালো হতো বলে জানান জেমি। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এমন কথাই বলেন বাংলাদেশের কোচ। জেমি ডে বলেন, ‘কাতার এশিয়ার সেরা দল। তারা চার মাস ধরে অনুশীলন করছে। আমরা অনুশীলন করেছি পাঁচ সপ্তাহ। আগের ম্যাচে শক্তিশালী কোরিয়ার বিপক্ষে খেলে এসেছে তারা। আমি মনে করি, কাতারের বিপক্ষে ছেলেরা দারুণ খেলেছে।’ তরুণ গোলরক্ষক জিকো’র প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি জিকোকে খেলিয়ে আমি ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি। সে চমৎকার কয়েকটা সেভ করেছে। এটা তার দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সে অবিশ্বাস্য এবং বিশ্বমানের কিছু সেভ করেছে। যা না করলে ব্যবধান আরও বড় হতো। তবে স্কোরলাইন ৪-০ হলে ভালো হতো।’

জেমি যোগ করেন, ‘কাতার দলের বল নিয়ন্ত্রণ এবং টেকিনিক্যাল সামর্থ্যরে সঙ্গে আমাদের তুলনা চলেনা। ওরা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তবে আমি বলবো আমার ছেলেরা শতভাগ দিয়ে লড়েছে। এই অল্প সময়ের মধ্যে কাতারের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার জন্য প্রস্তুতি নিতে কঠোর পরিশ্রম করেছে।’

কোচ যাই বলুন না কেন, বাস্তবতা হচ্ছে পরশু রাতের ম্যাচে বাংলাদেশ দাঁড়াতেই পারেনি। পুরো ম্যাচে কাতারের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা অসাধারণ খেলে ব্যতিব্যস্ত রাখে বাংলাদেশের রক্ষণকে। স্বাগতিক ফরোয়ার্ডদের একের পর এক আক্রমণে দম ফেলার সময়ও পাননি তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষরা। ৯০ মিনিটের খেলার প্রায় পুরোটা সময় বল ছিল বাংলাদেশের সীমানায়।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পুরো ম্যাচে অন্তত ৩২ বার গোলের চেষ্টা করেছে কাতার। যার মধ্যে ১৫টি শট ছিল লক্ষ্য বরাবর। যার মধ্যে গোল হয়েছে ৫টি। বাকি যে ১০বার হতাশ হতে হয়েছে স্বাগতিকদের, তার প্রতিবারই গোলের মাঝে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো।

নেপালের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচে গত মাসে অভিষেক হলেও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেই ১০টি সেভ করেছেন জিকো। যা অবিশ্বাস্য। যে ৫টি গোল হয়েছে, তাতে জিকোর দায় ছিল খুব কমই। এমনকি পেনাল্টিতে করা কাতারের তৃতীয় গোলেও বলের লাইনেই ছিলেন তিনি। শটে গতি বেশি থাকার কারণে তার হাতে লেগেও বল চলে যায় জালে। কাতার অহেতুক পেনাল্টি না পেলে পাঁচটির বদলে গোল ৪টিই হতো।

এদিকে ৫-০ ব্যবধানে জিতেও যেন সন্তুষ্ট নন কাতারের কোচ ফেলিক্স সানচেজ বাস। তার মতে আরও বেশি গোল হতে পারত। তাই তো ম্যাচের পর সানচেজ বলেন ‘আমরা পাঁচ গোল দিয়েছি, কিন্তু আমার মনে হয় আরও বেশি গোল হতে পারত।’

বাংলাদেশের মাটিতে দুই দলের প্রথম লেগের ম্যাচের ব্যবধানের কথা টেনে কাতার কোচ বলেন, ‘দুই ম্যাচের মধ্যে পার্থক্য অনেক। প্রথম লেগের মতো বাংলাদেশ একইভাবে আমাদের বিপক্ষে খেলেছে। কিন্তু আজ (শুক্রবার) আমরা তাদেরকে কোনো সুযোগই দেইনি।’ তিনি যোগ করেন, ‘এখানে বিষয়টা হচ্ছে যে, আমরা যখন ওদের মাঠে খেলতে গিয়েছিলাম, তখন মাঠ খেলার উপযোগী ছিল না। সেখানে খেলা কঠিন ছিল। এখানে তা হয়নি। মাঠ খুব ভালো ছিল এবং এটা আমাদের জন্য বিষয়গুলোকে সহজ করে দিয়েছে।’

ফিরতি ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজক কাতার ছয় ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপে তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। আর পাঁচ ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট পাওয়া বাংলাদেশের অবস্থান সবার শেষে। পাঁচ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট পেয়ে ওমান আছে দ্বিতীয়স্থানে। সমান ম্যাচে ভারতকে টপকে ৪ পয়েন্ট পাওয়া আফগানিস্তানের অবস্থান তিনে হলেও ৩ পয়েন্ট নিয়ে ভারতীয়রা আছে তালিকার চতুর্থস্থানে। বাছাই পর্বে আগামী মার্চ ও জুনে বাংলাদেশ ঘরের মাঠে বাকি তিন ম্যাচ খেলবে আফগানিস্তান, ভারত এবং ওমানের বিপক্ষে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন