Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০৯ মাঘ ১৪২৭, ০৯ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

কমলনগরে অ্যাসাইনমেন্টের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৫ ডিসেম্বর, ২০২০, ৮:১১ পিএম

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) থেকে জারিকৃত নির্দেশনা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্টের নামে অতিরিক্ত ফি আদায় করছেন লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরজাঙ্গালিয়া এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক মো. লকিয়ত উল্লাহর নির্দেশে প্রতিটি শিক্ষার্থী কাছ থেকে ৮শ’ থেকে ১হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। এ ছাড়াও টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শিক্ষার্থীদের ঘন্টার ঘন্টা শ্রেণি কক্ষে দাড় করিয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। করোনার এ সময়ে প্রধান শিক্ষককের এ সব কর্মকান্ডে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি মাসে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে বলা হয়, পূর্বাপর বিষয়গুলো বিবেচনা করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ (এমপিওভুক্ত ও এমপিওবিহীন) শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি গ্রহণ করবে। কিন্তু অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, পুনঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন ও উন্নয়ন বাবদ কোনো ফি গ্রহণ করবে না বা করা হলে তা ফেরত দেবে অথবা তা টিউশন ফির সঙ্গে সমন্বয় করবে।
কিন্তু সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে লকিয়ত উল্লাহ অ্যাসাইনমেন্টে ও টিউশন ফি’র নামে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৯শ ষাট এবং নিচের ক্লাসের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮শ পঞ্চাশ টাকা করে আদায় করছেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হলেও এ সব বিষয়ে তার কোন কর্নপাত নেই। তিনি স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও শিক্ষা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই বছরের পর বছর এ সব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে বিস্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, ‘করোনা মহামারিতে সবাই আর্থিক সংকটের মধ্যে আছে। আর্থিক সংকটের কথা চিন্তা করে সরকার নির্ধারিত টিউশন ফি নেওয়ার নির্দেশ দেয়। সরকারের নিয়ম নীতি অমান্য করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এসাইনমেন্ট বা উন্নয়ন ফি নিয়ে স্কুলের কর্তৃপক্ষ তাদের সাথে প্রতারনা করছে।
ওই বিদ্যালয়ের সাবেক অভিভাবক সদস্য শ্রী কৃষ্ণ দাস জানান, এ্যাসাইনমেন্টের নাম করে প্রধান শিক্ষক লকিয়ত উল্লাহ নির্দেশে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গলাকাটা ফি আদায় করছে। টাকা দিতে দেরী করায় তার মেয়েসহ ১০-১৫জন শিক্ষার্থী শ্রেণি কক্ষে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড় করিয়ে রাখা হয়েছে এবং পরীক্ষার খাতা ছিড়ে ফেলারর হুমকি দেয় তারা। তিনি এর সঠিক বিচার চান উপজেলা প্রশাসনের কাছে।
বিষয়টি নিয়ে চরজাঙ্গালিয়া এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লকিয়ত উল্লাহ কে মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান ‘এরকম অনিয়ম কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করতে পারবে না। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান সরকারের নির্দেশনার বাহিরে কোন প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিক মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ