Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৪ মাঘ ১৪২৭, ০৪ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

পাখির কলকাকলিতে মুখরিত

বরিশালের দূর্গাসাগর দীঘি তৈরি বিশ্রামাগার পিকনিক স্পট

নাছিম উল আলম : | প্রকাশের সময় : ৬ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:০১ এএম

দীর্ঘ একযুগেরও পরে বরিশালের দূর্গাসাগর দীঘি আবার পাখির কলকাকলিতে মুখরিত। দেশ-বিদেশের পরিযায়ী পাখিরা ডানা মেলছে ৫০ একর এলাকার বিশাল দূর্গাসাগর দীঘি ও এর আশপাশের গ্রামগুলোতে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পর্যটকদের কাছে তাই এবার দূর্গাসাগর এলাকা ভিন্ন আকর্ষণের পর্যটন কেন্দ্র। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে পাখির কলকাকলি উপভোগ করতে প্রায় আড়াইশ’ বছরের পুরানো দূর্গাসাগর দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে। যদিও গত এক যুগেরও বেশি সময় এমন দৃশ্য দেখেননি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা।

১৭৮০ সালে বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের পঞ্চদশ রাজা শিবনারায়নের মৃত্যুর পরে তার পুত্রেরও অকাল মৃত্যু ঘটায় রানী দূর্গাবতি রাজত্ব গ্রহণ করেন। এলাকাবাসীর পানির কষ্ট দূর করতে দূর্গাসাগর দীঘিটি খনন করেন। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পুণঃখনন ও সংস্কারকালে দীঘির মাঝে একটি দ্বীপ সৃষ্টি করে বনায়ন করা হয়। ফলে তা অতিথি পাখীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়। আর পাখিদের ধর্মানুযায়ী একবার যেখানে নিরাপদ আশ্রয় খুজে পায়, প্রতিবছরই নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে তারা আশ্রয় নেয়। ফলে প্রতিবছর শীতে পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকত দূর্গাসাগর এলাকা।

কিন্তু ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের ভয়াল আঘাতে দূর্গাসাগরের মাঝ দ্বীপে বিপুল সংখ্যক পাখির মৃত্যু ঘটে। ফলে দূর্গাসাগরের পটভ‚মির পরিবর্তন ঘটে। ফলে পরের বছর থেকে পরিযায়ী পাখিদের আগমন বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি বরিশাল বিমানবন্দরে অবতরনের সময় কোন কোন উড়জাহাজ এ দীঘির ওপরে চলে আসায়ও বিকট শব্দে পাখিদের বিরক্তি ও ভীতির সৃষ্টি হয়ে থাকে। এ কারণেও এখানে পাখিদের বিচরণ বন্ধ হয়ে যায় বলেও মনে করছেন কিছু কিছু পরিবেশবিদ।

তবে এসব কিছু কাটিয়েও এবার দূর্গাসাগরে অতিথি পাখিদের আগমনে খুশি এলাকাবাসী ও বরিশালের প্রশাসন। জেলা প্রশাসন থেকে ইতোমধ্যে পরিযায়ী পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এ দীঘির পাড়ে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো হয়েছে। খাবারের চাহিদা মেটাতে দীঘিতে বিভিন্ন রঙের শাপলা ছাড়াও পদ্মফুলের আবাদ করা হয়েছে। এসব শাপলা ও পদ্মফুল আগত পর্যটকদের আকর্ষণের পাশাপাশি তার শালুক পাখিদের খাবারের চাহিদাও মেটাচ্ছে। এছাড়াও দীঘিটিতে প্রচুর পরিমাণে শামুক ছাড়া হয়েছে। যা পাখিদের খাবারের একটি অন্যতম উৎস। দীঘির যে প্রান্তে পাখির বিচরণ আধিক্য রয়েছে, সেখানে মানুষের যাতায়াত সীমিত করা হয়েছে। গাছে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে হাড়ি। যাতে শুধু বিদেশি পাখিই নয়, নানা প্রজাতির দেশি পাখিও এখানে আশ্রয়ে সাচ্ছন্দ বোধ করে।

তবে স্থানীয় কিছু বখাটের উৎপাত এবং বিশ্রামাগার ও অপর্যাপ্ত শৌচাগারের কারণে দূর্গাসাগরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আসা পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য নষ্ট করছে। যদিও সম্প্রতি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করায় পরিবেশ কিছুটা নিরাপদ করেছে। এছাড়া দীঘির পাড়ে বসার ব্যবস্থার পাশাপাশি ছাতা, শৌচাগার স্থাপন, নিরাপদ নৌকায় ভ্রমণ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা পর্যটকদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান একযুগ পর ফিরে আসা পাখির অবাধ বিচরণসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানামুখী পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন।
এদিকে পর্যটন করপোরেশন বরিশাল মহানগরী থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে দূর্গাসাগর দীঘির পাড়ে ১৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক বিশ্রামাগার, রেস্টুরেন্ট ও পিকনিক স্পট গড়ে তুলতে যাচ্ছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে এ লক্ষ্যে দরপত্র আহবান করে মার্চের মধ্যে প্রকল্পটির অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরুর কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী দূর্গাসাগর দীঘির পূর্বপাড়ে ৩ তলা ভীতের ওপর একটি দোতালা বিশ্রামাগার ভবন নির্মাণ করে নিচতলায় রেস্টুরেন্ট ও সুভেনির শপ তৈরি করা হবে। দোতলায় মূল বিশ্রামাগারে থাকবে ৮টি কক্ষ। এছাড়া পূর্ব পাড়ে একটি ঘাটলা ও দক্ষিণ পাড়ে কয়েকটি পিকনিক শেড নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পর্যটন করপোরেশনের জিএম (পরিকল্পনা)। দীঘিটির পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও পুরানো দু’টি ঘাটলা সংস্কার করা হবে। তবে দীঘিটির পাড়ে একটি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনের প্রস্তাবনা বাদ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। তবে এরপরেও পর্যটন করপোরেশনের এ প্রকল্পটি দূর্গাসাগরকে সবার কাছে আরো আকর্ষনীয় ও মোহনীয় করবে বলে আশা করছে ট্যুর অপারেটররা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বরিশাল


আরও
আরও পড়ুন