Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

মধুপুরে যৌতুকের জন্য নববধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

প্রকাশের সময় : ২২ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মধুপুর উপজেলা সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলের মধুপুরে ৩ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য নববধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করেছে শ্বশুর বাড়ীর লোকজন। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে মধুপুর পৌর শহরের টেকি বেপারিপাড়া এলাকায়। সালমা (২২) নামের ওই নববধূর ভাগ্যে বিয়ের ২৩ দিনের মাথায় জুটেছে এমন নির্যাতন। সালমা টেকি বেপারিপাড়ার মনছুর বেপারির মেয়ে। একই পাড়ার সায়েদ আলী বেপারির ছেলে খোরশেদ আলী (২৮) ও সালমা অভিভাবকদের অজান্তে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তারা উভয়ই ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকুরী করেন। এলাকাবাসী জানান, প্রতিবেশী সালমা ও খোরশেদ আলীর মধ্যে প্রণয় ঘটিত সম্পর্ক গড়ে উঠে বেশ কিছুদিন আগে। দারিদ্র্যের কারণে সালমা গাজিপুরের কোণাবাড়িতে গিয়ে একটি গার্মেন্টেসে চাকরি নেয়ার সুবাদে তাদের মধ্যে পরিচয় ঘটে। পরিচয় থেকে প্রণয়। সেখানে বসবাসের সময় তাদের সম্পর্ক টের পেয়ে এলাকাবাসী গত ২৯ জুলাই ৪ লাখ টাকার কাবিননামায় বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন। অভিভাবকরা তাদের এ বিয়ের খবর শুনে মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতিতে গাজিপুরের কোণাবাড়ি থেকে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। এ সময় স্বামীর অভিভাবকরা ওই নব বধূর নিকট ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে বলেন, এ টাকা দেয়া হলেই বিয়ে মেনে নেয়া হবে, নচেৎ না।
সালমার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এ দাবি মেনে নেয়া সম্ভব নয় বলে সালমা জানালে শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। এরই এক পর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন, রীতিমত ধস্তাধ্বস্তি করে সালমাকে বাড়ির কাছেই রাস্তার পাশে একটি গাছে বেঁধে নির্যাতন শুরু করে। সালমা অভিযোগ করেন, এ সময় স্বামীর বড় ভাই আজমত আলী, আজমতের স্ত্রী ইয়ারন, হাসমত আলী, হাসমতের স্ত্রী শিরিন আক্তার, শাশুড়ী আছিয়া বেগম ও শ্বশুর সায়েদ আলীসহ অনেকে তাকে মারপিট করে। এ খবর শুনে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর সাখাওয়াত হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। সাখাওয়াত হোসেন জানান, অভিভাবকরা মেনে না নেয়ায় বিবাহিত সালমা শ্বশুর বাড়িতে জোর করে প্রবেশ করতে গেলে তারা তাকে গাছের সাথে বেঁধে রাখেন।
এ ব্যাপারে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, খবর পেয়ে গতকাল রোববার ঘটনাস্থলে এসআই ফকরুল ইসলামকে পাঠিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মধুপুর থানার এসআই ফকরুল ইসলাম জানান, নির্যাতিত নববধূ সালমার ভগ্নিপতি আঃ ছামাদ বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ