Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৬ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

এমন আগ্রাসী মেসিদেরই চান কোমান

রোনালদোও পেনাল্টি মিস করেন!

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:০৫ এএম

অনেকদিন পর চেনা ছন্দে দেখা গেল বার্সেলোনাকে। জমাট রক্ষণ, সৃষ্টিশীল মাঝমাঠ আর আগ্রাসী আক্রমণ- সব মিলিয়ে দ্যুতিময় ফুটবলের পসরা সাজিয়েছিলেন লিওনেল মেসি, জর্দি আলবা, ফ্র্যাঙ্কি ডি ইয়ংরা। আর তাতে রিয়াল সোসিয়াদাদকে হারিয়ে উন্নতি দেখেছে টেবিলে। গতপরশু রাতে নিজেদের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে লা লিগার ম্যাচে বার্সেলোনা জিতেছে ২-১ গোলে। প্রথমে সোয়সিয়াদাদকে এগিয়ে নেন উইলিয়ান জোসেস। পরে জর্দি আলবা আর ডি ইয়ং ফিরিয়ে দেন দুই গোল। এই জয়ে লা লিগায় ধুঁকতে থাকা বার্সা উঠে এসেছে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে। অন্যদিকে অ্যাটলাটিকো মাদ্রিদকে জায়গা ছেড়ে শীর্ষে থাকা সোয়েসিয়াদাদ নেমেছে দুইয়ে।
কতৃত্ব দেখানো এমন জয়ের পর রোনাল্ড কোমান বলেছেন, এমন দলই দেখতে চান তিনি। ম্যাচ শেষে বার্সা কোচ জানান, পিছিয়ে পড়ার পর যেভাবে ছেলেরা ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচের লাগান নিজেদের হাতে নিয়েছে তা এক কথায় অসাধারণ, ‘শুরুটা অসাধারণ ছিল। আরও গোল হতে পারত। আমরা ছিলাম আগ্রাসী। তাদের সারাক্ষণ চাপে রেখেছি। সোসিয়েদাদ বল পায়ে দক্ষতা দেখাচ্ছিল, আমরা তাদের থেকে বল কেড়ে নিতে পেরেছি। ওদের এভাবে চাপে রাখায় জেতাটা প্রাপ্য ছিল।’
সা¤প্রতিক সময়ে বার্সেলোনার বিবর্ণ দশার বিপরীতে এমন নৈপুণ্য আশা দেখাচ্ছে কোমানকে। খেলোয়াড়দের সেরাটা ঢেলে দেওয়ার এই মানসিকতাই দেখতে চান তিনি, ‘এরকম নৈপুণ্যই দেখতে চাই, এমন দলই চাই। সবাই জানপ্রাণ দিয়ে খেলেছে। আজ বড় তফাৎ ছিল বল ছাড়া আমাদের খেলাটা। আমরা কৌশলে ওদের মার দিয়েছি। মেসি অনেক খেটেছে। প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছে। সবাই পরিশ্রম করেছে।’
এদিকে মেসিরা যেখানে ছন্দে ফেরার উল্লাসে মাতোয়ারা ঠিক তার উল্টো চিত্র সময়ের আরেক সেরা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ইতালিতে। পাঁচ মাস আগের সবশেষ দেখায় হারতে বসা ম্যাচে দলকে বাঁচিয়েছিলেন যিনি, সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও এবার আর পারলেন না নায়ক হতে। বরং পর্তুগিজ উইঙ্গারের ব্যর্থতায় আতালান্তার বিপক্ষে ঘরের মাঠে পয়েন্ট হারিয়েছে জুভেন্টাস। ঘরের মাঠে সিরি ‘আ’র ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র করেছে লিগ চ্যাম্পিয়নরা। ফেদেরিকো চিয়েসার গোলে জুভেন্টাস এগিয়ে যাওয়ার পর সমতা ফেরান রেমো ফ্রয়লার। ১২ ম্যাচে ছয় জয় ও সমান সংখ্যক ড্রয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগের তৃতীয় স্থানে আছে টানা নয়বারের চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাস। সমান ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে এসি মিলান। দুইয়ে থাকা ইন্টার মিলানের পয়েন্ট ২৭।
গত জুলাইয়ে দলটির বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুবার পিছিয়ে পড়ে শেষ সময়ের গোলে ২-২ ড্র করেছিল জুভেন্টাস। তাদের দুটি গোলই পেনাল্টি থেকে করেছিলেন রোনালদো। পেনাল্টি থেকে এবার সুযোগ পেয়েছিলেন পার্থক্য গড়ে দেওয়ার; কিন্তু জালের দেখা পাননি তিনি। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে চিয়েসা ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় জুভেন্টাস। কিন্তু আগের দুই ম্যাচে স্পট কিক থেকে চার গোল করা রোনালদোর দুর্বল শট অনায়াসে লুফে নেন পিয়েরলুইগি গোলিনি। ম্যাচজুড়ে দারুণ সব সেভ করে আতালান্তাকে পয়েন্ট পাইয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই গোলরক্ষক।
তবে জুভদের হতাশার বড় কারণটা তৈরি হয় তারও আগে, দ্বাদশ মিনিটে। সতীর্থের রক্ষণচেরা পাসে বল পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন চলতি মৌসুমে দারুণ ছন্দে থাকা মোরাতা। শট নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ থাকলেও পেনাল্টি স্পটের কাছে তিনি বল বাড়ান পর্তুগিজ তারকা রোনালদোকে। কিন্তু পাসে পর্যাপ্ত গতি ছিল না। রোনালদো কোনোক্রমে পা ছোঁয়ালেও অসাধারণ কায়দায় তা ব্লক করেন আতালান্তা ডিফেন্ডার বেরাত জিমসিতি। কিন্তু বল তার গায়ে লাগার পর পেয়ে যান ফাঁকায় দাঁড়ানো মোরাতা। আলতো টোকাতেই তা জালে পাঠানো যেত। কিন্তু তা না করে ব্যাকহিল করেন মোরাতা। অফসাইডে আছেন ভেবেই হয়তো! ঠিকমতো সংযোগ না হওয়ায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় তার প্রচেষ্টা। পরে অবশ্য অফসাইডের পতাকা ওঠেনি।
সুবর্ণ সুযোগ পেলেও ফুটবলে অনেক সময়ই গোল আসে না। তা মানলেও ম্যাচশেষে হতাশা লুকাননি লিগের শিরোপাধারীদের কোচ পিরলো, ‘মোরাতার মিস আমাকে খুব রাগান্বিত করেছিল। এমন কিছুর ঝুঁকি আমরা নিতে পারি না। এ ধরনের সুযোগগুলো খেলার একটি নির্দিষ্ট গতিপথ তৈরি করে দিতে পারে। সঠিক সিদ্ধান্তটি বেছে নেওয়ার সামর্থ্য অবশ্যই থাকতে হবে এবং সে তা করেনি। ওটা ছাড়া সে দুর্দান্ত একটি ম্যাচ খেলেছে। তবে কখনও কখনও এমনটা ঘটে এবং গোল করা হয় না।’
২০১৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্টাসে যোগ দেওয়ার পর ৩০টি পেনাল্টি নিয়ে মাত্র চতুর্থবারের মতো লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন রোনালদো। এ প্রসঙ্গে পিরলো জানান, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। কারণ, এটা আমাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারত। তবে এই জিনিসগুলো ঘটতে পারে।’
তবে একটি জায়গায় এই রাত মিলিয়ে দিল সময়ের সেরা দুই ফুটবলারকে। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে সিআর সেভেনের এটি ২৬তম পেনাল্টি মিস। পরিসংখ্যান বলছে, তারই প্রতিদ্ব›দ্বী মেসিও ক্যারিয়ারে পেনাল্টি মিস করেছেন ২৬টি! পেনাল্টি থেকে মোট গোলের হিসাবে অবশ্য মেসির চেয়ে অনেক এগিয়ে রোনালদো। ক্যারিয়ারে পেনাল্টি থেকে ১৩৩টি গোল ৩৫ বছর বয়সী রোনালদোর। অন্যদিকে ৩৩ বছর বয়সী মেসির পেনাল্টি গোল ৯৭টি। পেনাল্টিতে সাফল্যের শতকরা হারেও এগিয়ে পর্তুগিজ তারকা। পেনাল্টিতে তার সাফল্যের হার শতকরা ৮৩.৬৫। মেসির পেনাল্টি সাফল্যের হার ৭৮.৮৬।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কোমান
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ