Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০৯ মাঘ ১৪২৭, ০৯ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

বছরে আসেন অর্ধ কোটি পর্যটক

চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

জাকের উল্লাহ চকোরী, কক্সবাজার থেকে : | প্রকাশের সময় : ২৯ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপরূপ লীলাভ‚মি কক্সবাজার। সাগর, পাহাড়, ঝর্ণাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বৈচিত্র দিয়ে ঘেরা এই জেলাটি। এই জেলার চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারাতেই অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। এটি ১৯৮০-৮১ সালে হরিন প্রজনন কেন্দ্র হিসাবে চালু হয়েছিল। বর্তমানে এটি জীববৈচিত্র সংরক্ষণের জন্য নানা রকম গাছ গাছালি বুনো জীবজন্তুর ও পাখীর নির্ভয় আবাস স্থল এবং ইকো-ট্যুরিজম ও গবেষণার পাশাপাশি বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়েকের পূর্ব পার্শ্বে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজরা রিজার্ভ ফরেস্টে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য সম্বলিত বনাঞ্চলে সাফারী পার্কটি অবস্থিত। সাফারী পার্ক হলো সরকার ঘোষিত এলাকা যেখানে বণ্যপ্রাণিদেরকে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রতিপালন করা হয়। এর আয়তন ৯০০ হেক্টর। এখানে বুনো জীব জন্তুর অবাধ চলাফেরা পর্যটকগণ উপভোগ করতে পারেন। এইপার্কে তথ্য শিক্ষা কেন্দ্র, প্রাকৃতিক ঐতিহাসিক জাদুঘর, পরিদর্শন টাওয়ার, পিকনিক স্পট এবং বিশ্রামাগার রয়েছে। কক্সবাজার জেলা সদর হতে উত্তরে পার্কটির দূরত্ব ৫০ কি.মি. এবং চকরিয়া সদর হতে দক্ষিণে ১০ কি.মি.।
প্রাকৃতিক শোভামন্ডিত নির্জন টিলা, প্রবাহমান ছড়া, হ্রদ, বিচিত্র গর্জন এর মত সু-উচ্চ ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক বৃক্ষ চিরসবুজ বনের জানা-অজানা গাছ-গাছালি,ফল-ভেষজ উদ্ভিদ, লতার অপূর্ব উদ্ভিদের সমাহার ও ঘন আচ্ছাদনে গড়ে উঠেছে সাফারী পার্ক। এর ছায়া ঘেরা পথ, সবুজ বনানী, জানা-অজানা গাছের সারি, পাখি আর বানরের কিচিরমিচির সবকিছু মিলিয়ে যেন এক অসাধারণ অনুভ‚তি। পথের ধারে উঁচু ওয়াচ টাওয়ারে দাঁড়িয়ে আপনি দেখতে পাবেন পুরো পার্কের সীমানা পর্যন্ত অপার সৌন্দর্য। পার্কের চারদিকে রয়েছে বেষ্টনী যাতে বন্যপ্রাণিরা পার্কের বাইরে যেতে না পারে। পার্কের ভিতরে জীবজন্তুু ও পাখীর বেষ্টনী। বেষ্টনীর ভিতরে বাঘ, সিংহ ও তৃণভোজী প্রাণী প্রাকৃতিক পরিবেশে বসবাস করে। শুধু তাই নয়, পুরো পার্কে দেখতে পাবেন বিভিন্ন প্রানীর ভাস্কর্য যা আপনাকে মুগ্ধ করবে।
সরেজমিনে পার্কের ভীতরে প্রবেশ করে প্রফুল্ল মনে ঘুরে দেখতে পাবেন ও উপভোগ করবেন গগন চুম্বী শতবর্ষী গর্জন ট্রি ও বাশঁ ঝাড়ের ভিতর দিয়ে যাওয়া পীচ ঢালা মেঠো পথে জীববৈচিত্র। ঘন জঙ্গলের ভিতর হাটতে গিয়ে পিন পতন নিরবতায় দর্শনার্থীর গা যেন শিউরে উঠে। ঝি ঝি পোকা এবং পাকপাখালীর কিচির মিচির শব্দে ভাঙে সেই নিস্তব্দতা। পার্কের ভিতর পিচ ঢালা মেটো পথের দু’ পাশে খাঁচায় আবদ্ব প্রাণীর পশু ও পাখী শালায় পর্যটকরা ঘুরে ফিরে খাঁচার ভিতর হরেক রকমের প্রাণী গুলো দেখছে। যেমন পশু শালায় রয়েছে বাঘ, ভাল্লুক, সিংহ, সাম্বার, মায়া হরিণ, চিতা, খরঘোশ, বানর, শিয়াল, লামচিতা, উল্টোলেজী বানর, হনুমান, বনবিড়াল, পাখীশালায় উটপাখী, ময়ূর, দোয়েল, ময়না, বনমোরগ, সারষ,টিয়া, বাজ পাখী পানিতে জলহস্তি, কুমির, কচ্ছপ ও অজগর সাপ সহ নানা ধরনের প্রাণী ঘুরে ঘুরে দেখছে। তাছাড়া অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের লেক। শীত বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিথি পাখির আগমন ঘটে লেক পয়েন্টে। লেকজুড়ে হাজার হাজার লাল পদ্মের মাঝে পাখিদের উড়াউড়িতে চোখ জুড়িয়ে যায় পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের।
সাফারি পার্ক সূত্রে জানা যায়, যখন অতিরিক্ত শীত পড়া শুরু করে তখন অতিথি পাখির আগমন ঘটে এ লেকে। তারা সাধারণত বিশ্রাম নেয় লেকের পানিতে ভাসতে থাকা পদ্মফুলের উপর। এগুলো হাঁস জাতীয় পাখি। উড়ে আসা অতিথি পাখির মধ্যে সরালি, পচার্ড, ফ্লাইফেচার, গার্গেনি, ছোট জিরিয়া, পান্তামুখী, পাতারি, মুরগ্যাধি, পাতারী হাঁস, জলকুক্কুট, খয়রা ও কামপাখি রয়েছে। এছাড়া মানিকজোড়, কলাই, ছোট নগ, জলপিপি, নাকতা, খঞ্জনা, চিতাটুপি, বামুনিয়া হাঁস, লাল গুড়গুটি, নর্দানপিনটেল ও কাস্তেচাড়া প্রভৃতি পাখিও মাঝে মধ্যে দেখা মিলে এই লেকে।
পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী চট্টগ্রামের একটি স্কুলের শিক্ষার্থি সুবহা বিনতে মামুন জানান, সারা বছরই পড়া লেখায় ব্যস্ত থাকি। এবার ইদের বন্ধে মা বাবার সাথে পার্কে ঘুরতে এসেছি। খুব ভাল লাগছে। বিশেষ করে লেকে অতিথি পাখিদের কিচিরমিচির শব্দটাই বেশি ভাল লাগছে। প্রবেশ ফি ও অন্যান্য সর্বসাধারণের জন্য প্রবেশ ফি ৫০ টাকা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রবেশ ফি ১৫ টাকা সাফারি পার্কের ফরেস্টার মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রতিবছরই এখানের লেকগুলোতে অতিথি পাখি আগমন ঘটে। বিশেষ করে যখন খুব বেশি শীত পড়ে তখন এই পাখির আগমন ঘটে। এক সময় এখানে বিভিন্ন ধরনের অতিথি পাখির আগমন ঘটত। কিন্তু এখন আগের মতো তেমন পাখি আসে না। তিনি আরও বলেন, পার্কের লেকে অতিথি পাখিদের যাতে দর্শনার্থীরা বিরক্ত না করে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার

৩০ ডিসেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ