Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার , ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার কৃষক পাবেন ধানের চারা-বীজ

প্রকাশের সময় : ২৫ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বিশেষ সংবাদদাতা : বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ২১১ জন কৃষকের পুনর্বাসনে ৫৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকার ধানের চারা ও বীজ দেবে সরকার। এছাড়া উৎপাদন বাড়াতে চার লাখ এক হাজার ৩০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে দেয়া হবে ৪১ কোটি ৫৬ লাখ আট হাজার ৮০০ টাকার ধানের চারা, বীজ ও সার।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী গতকাল বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, অন্যবার এই সময়ে শুধু ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রণোদনা দেয়া হলেও এবার বন্যার কারণে তাদের পুনর্বাসন কর্মসূচিও নেয়া হয়েছে। কৃষকদের পুনর্বাসন ও প্রণোদনার অর্থ কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকে সরবরাহ করা হবে। এজন্য কোনো অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না।
কৃষিমন্ত্রী জানান, অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ জেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে রোপা আমন ধানের চারা ও সবজি বীজ সরবরাহ করা হবে।
তিনি বলেন, বন্যায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, বগুড়া, সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মুন্সিগঞ্জে আমন বীজতলা, সবজিসহ সাড়ে সাত লাখ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে ডুবে যায়। এর মধ্যে এক লাখ ৫৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিএডিসি, বিনা ও ব্রি’র উদ্যোগে নাবি জাতের ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে, যা শিগগিরই কৃষকদের বিতরণ করা হবে। এছাড়া সাময়িক পুষ্টি চাহিদা মেটাতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলোকে বিনামূল্যে শাক ও সবজি জাতীয় ফসলের বীজ দেয়া হবে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। একজন কৃষক ২০০ গ্রাম করে লাল শাক ও মুলা বীজ, ১০০ গ্রাম পালং শাক, ১০ গ্রাম বিটি বেগুন এবং ৩০ গ্রাম করে মিষ্টি কুমড়ার বীজ পাবেন। বিতরণকৃত বীজ দিয়ে উৎপাদিত ফসলে ১৭ হাজার ২১১ কৃষক পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। এছাড়া ৬৪ জেলার কৃষকদের মাসকলাই, গম, ভুট্টা, সরিষা, চিনাবাদাম, ফেলন, খেসারী, তিল ও বোরো বীজ প্রণোদনা হিসেবে দেয়া হবে।
প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় চার লাখ এক হাজার ৩০০ বিঘা জমির জন্য প্রয়োজনীয় বীজ ও রাসায়নিক সার বিনামূল্যে পাবেন কৃষকরা। প্রণোদনা সহায়তার ফলে ২৬ হাজার টন গম, ৯৪ হাজার টন ভুট্টা, ২৪ হাজার টন সরিষা, চার হাজার টন মুগ, ৩১৭ টন ফেলন, এক হাজার টন চিনাবাদাম, দুই হাজার টন গ্রীষ্মকালীন তিল, এক হাজার টন মাসকালাই, ৮০০ টন খেসারি এবং ছয় হাজার টন বোরো ধান উৎপাদন হবে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। কৃষি সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ ছাড়াও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ