Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬, ২৩ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ফিনিক্স পাখির মত ছাইভস্মের মধ্য থেকে জেগে উঠতে সাহায্য করার আহ্বান

প্রকাশের সময় : ২৫ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়-৪
ইনকিলাব ডেস্ক : (পূর্ব প্রকাশের পর)
কয়েক বছর ধরেই হোয়াইটফিশ বে-তে প্রকৃতই ভালো অবস্থায় আছেন ব্রুকেন্স পরিবার। ৩৯ বছর বয়স্কা মিসেস ব্রুকেন্স একটি কলেজে প্রশাসক হিসেবে এবং ব্রুকেন্স সিনিয়র ফুড স্ট্যাম্প গ্রহীতাদের জব কাউন্সেলর হিসেবে কাজ করেন। কোনো কোনো দিন তারা কম্যুনিটির সাথে সময় কাটানোর জন্য আগেই কাজ থেকে চলে আসেন। তবে এভাবে অন্যদের ভিন্ন অনুভূতি অপনোদন করা কঠিন, বিশেষ করে জান্টনি সিনিয়রের। তারা এখানে আসার এক সপ্তাহ পর তিনি নিজেদের গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় এক পুলিশ অফিসার ব্রুকেন্সকে থামান। পুলিশ অফিসার বলেন, গাড়ি থামিয়ে তাকে নামানো হয় তার লাইসেন্স প্লেটের উপর প্লাস্টিকের কভার থাকায়। ব্রুকেন্স তার পুরনো এলাকায় ফিরে বলেন, লোকজন প্রায়ই লাইসেন্স প্লেট চুরি করে। তাই নিরাপত্তার কারণেই তার লাইসেন্স প্লেটের উপর প্লাস্টিক কভার দেয়া ছিল। অফিসার তাকে বলেন, এখানে এটা অবৈধ। তিনি ব্রুকেন্সকে সতর্ক করে ছেড়ে দেন। তবে তার আগে জিজ্ঞেস করেন যে, তিনি এখানেই বাস করেন কিনা। ব্রুকেন্স বলেন, হ্যাঁ, আমার বাড়ি এখানেই।
প্রথম থেকেই এভাবে গাড়ি থামানো নিয়মিত ব্যাপারে পরিণত হয়েছে, প্রতি সপ্তাহে একবার। তিনি এর নাম দিয়েছেন নিবন্ধীকরণ। ব্রুকেন্স ক্রুদ্ধ হওয়ার পরিবর্তে সংযত হয়ে বলেন, আপনি কে ও কেন এখানে আছেন, এ ব্যাপারে তারা সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তারা এটা করতে থাকবে।
তিনি বেশি হতাশ বোধ করেন যখন দেখেন যে তিনি জারিয়াকে তার সাইকেলে করে তাদের ব্লকের চারপাশে ঘুরতে নিয়ে যান তখন এক শ্বেতাঙ্গ মা তাদের দেখেই নিজের সন্তানদের নিয়ে বাড়ির ভিতরে চলে যান।
ব্রুকেন্স ও তার স্ত্রী জারিয়ার নিজের সম্পর্কে ভাবনার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। সে সব সময় তার চুল সোজা রাখতে চায়। একদিন বাথটাবে তার চুল ভিজে গিয়ে কুঁকড়ে গেলে সে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। তার স্কুলের সাদা বন্ধুরা তাকে ব্ল্যাক ফ্রেন্ড বলে ডাকে। ব্রুকেন্স বলেন, আমার মনে হয় সে নিজেকে হারিয়ে ফেলছে।
দু’বছর আগে ব্রুকেন্স পরিবারের সামনে এ সমস্যাটি ছিল না যখন তাদের এক মহিলা বান্ধবী মিলওয়াউকিতে তার ক্রিম কালারের ইটের বাড়িটা তাদের ভাড়া নেয়ার জন্য বলেন। বেশ কিছু সুন্দর বাংলো ও বাঁকা রাস্তা ছিল তার চারদিকে। সে বাড়িটি হোয়াইটফিশের বাড়িটির চেয়ে বড় এবং ভাড়াও ছিল ৩৫০ ডলার কম।
এ অর্থ সাশ্রয় দিয়ে তারা ভ্রমণের মত কিছু করার কথা ভাবছিলেন। বাড়িটি যদিও এমন এলাকায় ছিল যেখানে দারিদ্র ছিল ১২ গুণ বেশি এবং শহরতলি এলাকার তুলনায় একটি মাঝারি মানের বাড়ির মূল্য ছিল এক তৃতীয়াংশ। তারা এ স্থানকেই তাদের বাড়ির উপযুক্ত মনে করলেন।
অতএব তারা মিলওয়াউকিতে একটি পৃথক কৃষ্ণাঙ্গ এলাকায় আসেন এবং শহরের উত্তর পাশে তাদেরই মত একগুচ্ছ পরিবারের সাথে যোগ দেন।
কিছু পুরনো চ্যালেঞ্জ ফের দেখা দেয়। ২০১৪ সালে একানে আসার একমাস পর ব্রুকেন্স তার গাড়ির দরজা বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছিলেন। তার চার্জার ও কম্পিউটার হার্ডড্রাইভ চুরি হয়ে যায়।
তারপরও এখানে আসা অনেক কৃষ্ণাঙ্গ পরিবার বলে যে তারা এখানেই আরাম বোধ করেন। ৯ বছর বয়সে পড়া পড়া জারিয়া স্কুলে তার মত অনেক শিশুকে পেয়েছে যারা কালো বলে তাকে অন্যচোখে দেখে না। জান্টনি জুনিয়র গ্রীষ্মে একটি কর্মী সংগঠনের জন্য কাজ করছে।
ব্রুকেন্সদের সাতে তাদের প্রতিবেশীদের সম্পর্ক আরো গভীর হয়েছে। তারা তাদের বাড়ির পিছনদিকে নিয়মিত ভাবে বনভোজনের আয়োজন করেন।
তাদের মধ্যে আশা ও বিশ্বাস কাজ করছে।
এ আশা, বিশ্বাস ও দৃঢ়তা সাবির পরিবারকেও চালিত করছে। আর এগুলোই জোঅ্যান ও সাবিরের পূর্ব-পুরুষদের টেনেসি ও আরকানসাস থেকে এখানে এনেছিল। এ জন্যই কারাতে ফোর্থ ডিগ্রি ব্ল্যাকবেল্ট প্রাপ্ত সাবির রাস্তায় ঘোরাঘুরি করা তরুণদের সাহায্য করার জন্য সব সময় চেষ্টা করেন এ বলে যে, তুমি কি আবার শুরু করতে চাও? আর এ কারণেই তারা তাদের বাড়ি থেকে এক ব্লক দূরে ব্যবসা শুরু করেন। গত অক্টোবরে সেখানে জুস কিচেন খোলার ঝুঁকি নেন তারা। ভোর ৬ টারও আগে উঠে সেখানে কাজ শুরু করেন তারা। তারা চান তাদের এ ব্যবসা কৃষ্ণাঙ্গদের সাফল্য হিসেবে পরিগণিত হোক এবং এর মধ্য দিয়ে তারা মাদক, মদ ও দারিদ্র্য দূর করতে সাহায্য করতে চান।
গত ১৭ আগস্টের সপ্তাহান্তে প্রচ- বিক্ষোভের পর জোঅ্যান তাদের ক্যাফের ফেসবুক পেজে সম্মিলিত কৃষ্ণাঙ্গ উত্থানের আহবান জানিয়ে মেসেজ পোস্ট করেন।
এখানে বসবাসেরও নানা ধরনের ঝক্কি আছে। আবার কিছু ভালো লাগার ব্যাপারও আছে। যেমন গত সপ্তাহে যেখানে তুলকালাম সহিংসতা ঘটে সে এলাকার প্রতিনিধিত্বকারী পৌরসভা কাউন্সিলর ফেসবুকে লিখেছেন যে, তার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটির সবাই জুস কিচেনটি ব্যবহার করতে পারে। কাউন্সিলর লেখেন, ফিনিক্স পাখির মত ছাই ভস্মের ভিতর থেকে আবার জেগে উঠতে আমাদের সাহায্য করুন। সূত্র : দি নিউইয়র্ক টাইমস। সমাপ্ত।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন