Inqilab Logo

রোববার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২২ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

৪৬০ কোটি পাউন্ডের নতুন সহায়তা বিল ব্রিটেনে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৮ জানুয়ারি, ২০২১, ১২:০৭ এএম

নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ইংল্যান্ডে গতকাল থেকে আবারো লকডাউন কার্যকর হয়েছে। রোগীদের চাপে হাসপাতালগুলোয় অচলাবস্থা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতির মুখে পড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ৪৬০ কোটি পাউন্ডের সহায়তা প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। খবর এএফপি। অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ৬৩০ কোটি ডলার সমম‚ল্যের এ সহায়তা সামনের মাসগুলোয় ব্যবসা পরিচালনা করতে এবং কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করবে। সুতরাং এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় খোলার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীরা কাজে নেমে পড়তে পারবেন। সুনাক খুচরা, আতিথেয়তা, অবকাশ নিয়ে কাজ করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানপ্রতি ৯ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়া অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে ৫৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার ভাগ করে দেয়া হবে। গত বছরের শুরুতে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে লকডাউন ঘোষণার পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এরই মধ্যে ব্রিটিশ সরকার বিলিয়ন বিলিয়ন পাউন্ডের সহায়তা প্যাকেজ দিয়েছে। সহায়তা প্যাকেজের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ছুটিতে থাকা কর্মীদের সহায়তা বা ফোরলগ স্কিম। এর মাধ্যমে লাখ লাখ বেসরকারি খাতের কর্মীর মজুরির ব্যবস্থা হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রচুর পরিমাণ নগদ অর্থ সরবরাহ করেছে এবং সেই অর্থের সুদহারকে রেকর্ড-নিম্ন শ‚ন্য দশমিক ১ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। মঙ্গলবার সুনাক বলেন, মহামারীজুড়ে আমরা জীবন ও জীবিকা রক্ষায় দ্রæত পদক্ষেপ নিয়েছি। এছাড়া এখন আমরা আবারো ব্যবসা ও কর্মসংস্থান রক্ষায় নগদ অর্থ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিচ্ছি। নতুন এ সহায়তা থেকে ছয় লাখেরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উপকৃত হবে। যুক্তরাজ্যে কয়েক দিন আগে শনাক্ত হওয়া নভেল করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন দ্রæত ছড়িয়ে পড়ছে এবং এটি আগের স্ট্রেইনের চেয়ে দ্রæত ছড়াচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে হাসপাতালগুলো প্রচুর কভিড-১৯ রোগীর চাপ মোকাবেলা করছে। এভাবে বাড়তে থাকলে হাসপাতালগুলোয় অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত বছরের প্রথম দিকে মার্চ-জুনের লকডাউনের মতো নতুন লকডাউনেও বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রয়েছে। শরীরচর্চা ও প্রয়োজনীয় কেনাকাটা ছাড়া সবাইকে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্রিটেনজুড়ে কভিড-১৯ টিকা প্রয়োগ শুরু হওয়া সত্তে¡ও ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার পর নতুন সংকটকালে লকডাউন ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। সুনাক বলেন, ভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন আমাদের সবাইকে একটি বিশাল চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। দেশজুড়ে টিকা প্রয়োগ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের আরো বিধিনিষেধ আরোপ করার প্রয়োজন পড়ছে। নতুন লকডাউন চালু হওয়ার পর ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়ামের (বিআরসি) প্রধান সতর্ক করেছেন, ব্রিটেনের ব্যবসায়ীরা সাপ্তাহিক ২০০ কোটি ডলারের বিক্রি থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিআরসির প্রধান নির্বাহী হ্যালেন ডিকিনসন বলেন, এরই মধ্যে ২০২০ সালে ১ লাখ ৭৮ হাজার খুচরা বিক্রয়কর্মী চাকরি হারিয়েছেন এবং বর্তমানে দুই লাখেরও বেশি কর্মী ছুটিতে রয়েছেন। নতুন বছরে এ ক্ষয়ক্ষতি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্সের মহাপরিচালক অ্যাডাম মার্শাল বলেন, নতুন সহায়তা প্যাকেজ অনেক সংস্থার জন্য যথেষ্ট হবে না। আমাদের পুরো ২০২১ সালের জন্য একটি স্বচ্ছ সহায়তা প্যাকেজের প্রয়োজন। এএফপি।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ব্রিটেনে


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ