Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০৯ মাঘ ১৪২৭, ০৯ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

পরকালে প্রতিটি বাক্যের জন্য জবাবদিহি করতে হবে

সৈয়দ শামছুল হুদা | প্রকাশের সময় : ১১ জানুয়ারি, ২০২১, ১২:০০ এএম

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বর্তমান প্রজন্ম মোহাচ্ছন্ন। বিশেষকরে বর্তমান সোস্যাল মিডিয়ার অন্যতম ফেসবুক আমাদের তরুণ প্রজন্মকে এতটাই মুগ্ধ করে রেখেছে যতটুকু অন্য কোনো অ্যাপ করতে পারেনি। কোটি কোটি মানুষ ফেসবুকের মধ্যে নিবিড়ভাবে সময় কাটায়। কিন্তু এই ফেসবুকের বিভিন্ন আইনিকাঠামো সম্পর্কে যখন আমরা জানতে পারি, তখন স্মরণ হয়ে যায় পরকালের কথা। ফেসবুকে নানা পদের মানুষ দেখতে পাই। নানা মানসিকতার মানুষ এখানে প্রতিনিয়ত বিচরণ করে। কারো আচরণে পাগলামি থাকে, কারো আচরণে থাকে জ্ঞানের ছোঁয়াও। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় যেটি এখানে লক্ষ্যনীয় তা হলো, ফেসবুকে একবার কোনো জিনিস লিখলে সেটা আর মুছা যায় না। সেটা আর কোনোভাবেই গ্রাহকরা ডিলেট করতে পারে না। যতবার, যতটি শব্দ সম্পাদনা করে, সংশোধন করে তার সবকিছুর রেকর্ড সংরক্ষিত হয়ে যায়। এটা যথাযথ কর্তৃপক্ষ যে কোনো সময় চাইলে তা চেক করতে পারে, দেখতে পারে। ব্যবহারকারীকে জানিয়ে দিতে পারে। এমনকি গোয়েন্দাদের হাতে তার সমস্ত কৃতকর্মের রেকর্ড পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে উপস্থাপন করতে পারে।

আমরা যদি পবিত্র কোরআনের ২৬তম পারার সুরা ক্বাফ এর ১৬-১৮এই তিনটি আয়াত একটু গভীর মনযোগ দিয়ে পাঠ করি, তাহলে এই বিষয়টিই আরো গভীরভাবে বোধগম্য হয়। একথাগুলো আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে অনেক আগেই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, হে বান্দা! তুমি যা কিছু করো, যা কিছু বলো, তার সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে সংরক্ষণ করার জন্য তোমার সাথে ফেরেশতা সর্বক্ষণ নিয়োজিত আছে।

সুতরাং ফেসবুকে যেমন তুমি যা খুশি তাই করতে পার না, যা খুশি তাই লিখতে পার না, আর যদি বেখেয়ালে যা খুশি তাই লিখো, আর সবকিছু তুমি মুছে দিয়ে ফেসবুক থেকে বেরও হয়ে যায়, তাহলেও তোমাকে তা হুবুহু দেখানোর জন্য প্রযুক্তির কারিগরদের হাতে ক্ষমতা রয়ে গেছে। তেমনি তুমি দুনিয়াতে মানুষের গোচরে-অগোচরে যাই কিছু করো না কেন, তা আর কোনো কিছুই মুছতে পারবে না। তোমাদের সাথে থাকা ফেরেশতারা যা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তোমার সামনে হুবুহ একদিন তুলে তা ধরবেই।

ইরশাদ হচ্ছে : (ভাবার্থ) ১৬। মানুষকে তো আমিই সৃষ্টি করেছি, আর মানুষের প্রবৃত্তিটা কী তা আমিই খুব ভালো করে জানি। কোন জিনিস মানুষকে প্ররোচনা দিয়ে বেড়ায় সে সম্পর্কেও আমি অবগত। তবে হে বান্দা! তুমি যদি আমাকে ভুলে না যাও, তবে মনে রেখো আমি তোমার গ্রীবাস্থিত ধমনী অপেক্ষাও নিকটে।

১৭। হে মানবকুল! তুমি বেপরোয়া হয়ে যেয়ো না। ফেসবুকের মতো সাধারণ একটি প্রযুক্তির কাছে যদি তুমি এতটা অসহায় হয়ে থাকো, সে তোমার টাইপ করা প্রতিটি অক্ষর যদি নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করে রাখতে পারে, তার চেয়েও হাজারো-কোটি গুণ নিখুঁতভাবে তোমার সকল ক্রিয়াকর্ম লিপিবদ্ধ করে রাখার জন্য তোমার ডান এবং বামদিকের দুই ফেরেশতা নিয়োজিত আছে। তারা আরো সুন্দর করে তোমার সকল কর্ম সংরক্ষণ করে রাখবে। তুমি চাইলেই এগুলো অস্বীকার করতে পারবে না। যেমনটা ফেসবুকে একবার একটি শব্দ টাইপ করার পর আর মুছতে পারো না। সুতরাং খুব সাবধান!

১৮। এই আয়াতটি আরো গভীর অর্থবহন করে। এই আয়াতের ভাবার্থ হলো, হে মানুষ! তুমি যা কিছুই উচ্চারণ করো না কেন, তা সাথে সাথে সংরক্ষণ করে রাখার জন্য তোমার খুব নিকটেই খুব দক্ষ, দায়িত্বশীল প্রহরী নিযুক্ত রয়েছে।

এর পরের আয়াতগুলোতে বলা হয়েছে, মৃত্যু একটি অবধারিত বিষয়। যেটা থেকে তোমরা অব্যহতি চাইছো, তা কোনোদিন হবে না। নির্দিষ্ট দিনে শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবেই। আর সেদিন স্বাক্ষিসুবাদে তোমাদের সামনে তা হাজির করা হবে। ২২নং আয়াতে বলা হচ্ছে, তোমাদের যে দিবস সম্পর্কে আমি বারবার সতর্ক করেছি তা সত্তে¡ও উদাসীন ছিলে, একদিন তোমার সম্মুখ থেকে সকল পর্দা সরিয়ে দেয়া হবে, আর তোমার সঙ্গে থাকা সেই গোয়েন্দা ফেরেশতারা সকল আমলনামা উন্মুক্ত করে দিবে।

সেদিন তা হবে কতই না ভয়াবহ। কষ্টদায়ক। আত্মনিপীড়ক। দুনিয়ার সামান্য আবিষ্কার মানুষকে পরকালের প্রতিটি বিষয় আরো পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে। এ জন্যে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে সকল কর্মই যেন হয় আমার সুনিয়ন্ত্রিত। লাগামহীন যেন না হয়। নতুবা বিপদ অনিবার্য।



 

Show all comments
  • Md Islam ১১ জানুয়ারি, ২০২১, ২:২৮ এএম says : 0
    মৃত্যু একটি সুনিশ্চিত এবং নির্ধারিত বিষয়। কোনো কিছুর জন্ম অনিশ্চিত হলেও জন্মের পর তাঁর মৃত্যু সুনিশ্চিত। মানুষ এ কথা জানা সত্ত্বেও মৃত্যুর ব্যাপারে গাফেল হয়ে আছে।
    Total Reply(0) Reply
  • নিয়ামুল ১১ জানুয়ারি, ২০২১, ২:৩১ এএম says : 0
    কোনো মানুষই মৃত্যুর পর দুনিয়ায় তার রেখে যাওয়া কোনো সম্পদই নিয়ে যেতে পারবে না। শুধু তা-ই নয়, মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আমল করার সুযোগেরও পরিসমাপ্তি ঘটে। তাই মৃত্যুর আগে হায়াতে জিন্দেগিকে মূল্যবান মনে করার প্রতি তাগিদ দিয়েছেন প্রিয়নবি (সা.)।
    Total Reply(0) Reply
  • Harisul Alam ১১ জানুয়ারি, ২০২১, ২:২৮ এএম says : 0
    একজন মুসলিমের প্রধান কাজ হলো মৃত্যুর কথা বেশি বেশি স্মরণ করা। কারণ মৃত্যুর স্মরণই মানুষকে সব সময় ভালো কাজের প্রতি পরিচালিত করে।
    Total Reply(0) Reply
  • আরমান ১১ জানুয়ারি, ২০২১, ২:৩২ এএম says : 0
    আল্লাহতায়ালা সবাইকে কিয়ামতের কঠিন সংকট উত্তরণে প্রস্তুত হওয়ার তওফিক দিন। আমিন।
    Total Reply(0) Reply
  • নাজিম ১১ জানুয়ারি, ২০২১, ২:৩৩ এএম says : 0
    লেখাটির জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ
    Total Reply(0) Reply
  • MIRAZ SHEK ১১ জানুয়ারি, ২০২১, ৮:৫০ এএম says : 0
    কোনো মানুষই মৃত্যুর পর দুনিয়ায় তার রেখে যাওয়া কোনো সম্পদই নিয়ে যেতে পারবে না। শুধু তা-ই নয়, মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আমল করার সুযোগেরও পরিসমাপ্তি ঘটে। তাই মৃত্যুর আগে হায়াতে জিন্দেগিকে মূল্যবান মনে করার প্রতি তাগিদ দিয়েছেন প্রিয়নবি (সা.) মৃত্যু একটি সুনিশ্চিত এবং নির্ধারিত বিষয়। কোনো কিছুর জন্ম অনিশ্চিত হলেও জন্মের পর তাঁর মৃত্যু সুনিশ্চিত। মানুষ এ কথা জানা সত্ত্বেও মৃত্যুর ব্যাপারে গাফেল হয়ে আছে।
    Total Reply(0) Reply
  • Jack+Ali ১৩ জানুয়ারি, ২০২১, ৮:৪১ পিএম says : 0
    আর পার্থিব জীবন ক্রীড়া ও তামাশার ব্যাপার ব্যতীত কিছুই নয়। যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য পরকালের আবাসই শ্রেয়, তোমরা কি অনুধাবন করো না?’ (সূরা আল-আনআম : ৩২)
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম

২৩ জানুয়ারি, ২০২১
২২ জানুয়ারি, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন