Inqilab Logo

রোববার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

যাচাই বাছাই বন্ধ সহ ৭ দফা দাবিতে মুক্তিযোদ্ধাদের মিছিল সমাবেশ

গোপালগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ জানুয়ারি, ২০২১, ৫:০৬ পিএম

যাচাই-বাছাই বন্ধ সহ ৭ দফা দাবিতে গোপালগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধারা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
আজ বুধবার দুপুরে মুক্তিযোদ্ধারা শহরের পৌর পার্কে সমাবেশ করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন, প্রফুল্ল কুমার, মতিয়ার রহমান, নূরে আলম, ইব্রাহিম খলিল, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নজরুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক সহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ্ব মোঃ মজিবুর রহমান ৭ দফা দাবি পেশ করেন। দাবি গুলোর মধ্যে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জানুয়ারী গোপালগঞ্জের ৫ উপজেলার প্রায় ২ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে যাচাই বাছাইয়ের জন্য ডাকা হয়েছে। এ অবাঞ্ছিত ও অনাকাঙ্খিত যাচাই বাছাই বন্ধ করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের জিডিটাল সদন সহ আইডি কার্ড দিতে হবে। জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সকল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করতে হবে। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহ নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। অনাকাঙ্খিতভাবে ভাতা বন্ধ না রেখে সকল মুক্তিযোদ্ধার ভাতা চালু রাখতে হবে। জামুকা ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সকল অনিয়ম ও মুক্তিযোদ্ধা হয়রানী বন্ধ করতে হবে। জামুকা ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের চাকরি দিতে হবে।
সমাবেশ শেষে শহরে মুক্তিযোদ্ধারা একটি বিক্ষাভ মিছিল বের করেন। মিছিল শেষে মুক্তিযোদ্ধারা জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।
মুক্তিযোদ্ধা অহিদুজ্জামান বলেন, ২০০৩,২০০৫ ও ২০১৭ সালে ৩ দফা যাচাই বাছাইয়ের পর থেকে আমরা ২ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ১৫ বছর ধরে ভাতা পেয়ে আসছি। নতুন করে আমাদের যাচাই বাছাইয়ের চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া আগের ৩টি যাচাই বাছাইতে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যু বরণ করেছেন। অনেকে রোগাক্রান্ত হয়ে স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। তাই নতুন যাচাই বছাইয়ে জীবিত ৩ জন সহযোদ্ধা নিয়ে যাচাই-বাছাই কমিটিতে হাজির হওয়া অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টসাধ্য। তাই এই যাচাই বাছাই বন্ধ করতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম বলেন, ভাতার আশায় সেদিন মুক্তিযুদ্ধ করিনি। দেশ মাতৃকাকে স্বাধীন করতে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলাম। তারপর ৩ বার আমাদের যাচাই বাছাই হয়েছে। সেখানে সব প্রক্রিয়া সম্মন্ন করা হয়। আমাদের সবুজ তালিকা ও মুক্তি বার্তায় নাম আছে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরিত সনদ আমাদের প্রত্যেকের কাছে রয়েছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের বেসামরিক গেজেটে আমাদের তালিকা রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের যাচাইয়েও আমরা উত্তীর্ণ হয়েছি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকার) ঠেলাঠেলিতে লাল তালিকায় আমরা অর্ন্তভূক্ত হতে পারিনি। তাই আগামী ৩০ জানুয়ারী নতুন করে যাচাই বছাই বোর্ডে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেেদর ডেকেছেন।

মুন্সি গোলাম হোসেন বলেন, নতুন যাচাই বাছাইয়ে ৩ জন সহযোদ্ধাকে হাজির করতে বলা হয়েছে। এটি খুবই কঠিন কাজ। ইতিমধ্যে অধিকাংশ সহযোদ্ধা মৃত্যু বরণ করেছেন। এছাড়া জীবিতরা সয়সের ভারে ন্যুজ্ব। অনেকে রোগাক্রান্ত হয়ে স্মৃতিশক্তি হারিয়েছেন। তাই এই কঠিন কাজ থেকে আমাদের অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান মোল্লা বলেন, আগের ৩টি যাচাই বাছাইয়ে সহযোদ্ধাদের স্বাক্ষাতকার গ্রহন করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আমরা ২০১৭ সালের সর্বশেষ যাচাই বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হই। এখান আমাদের এই অবাঞ্ছিত ও অনাকাঙ্খিত যাচাই বাছাই থেকে অব্যহতি দেয়া হোক।

জানাগেছে, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) অনুমোদন ছাড়া যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ভুক্ত হয়েছে, তাদের তালিকা আগামী ৩০ জানুয়ারী যাচাই বাছাই করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে। তবে কোন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম ভারতীয় তালিকা বা লাল মুক্তিবার্তা বা মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃত ৩৩ ধরণের প্রমানে অর্ন্তভূক্ত থাকলে তিনি যাচাই-বাছাইয়ের আওতা বর্হিভূত থাকবেন বলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল নতুন যাচাই বাছাইয়ের নির্দেশনা দিয়েছে। আমাকে ওই নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে । যাচাই বাছাই বন্ধ করার ক্ষমতা আমার নেই।



 

Show all comments
  • Manik Das ১৪ জানুয়ারি, ২০২১, ২:২৫ পিএম says : 0
    মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এত টানা হেছড়া করে যদি সঠিক মুক্তিযোদ্ধা চিহৃিত করতে হয়, তাও এখনো সম্পন্ন করা সম্ভব না হয়। এটা মুক্তিযোদ্ধাদের সীকৃতির নামে অসম্মান করা বলে মনে করি। আজ ভাতা না দিলে এতো মুক্তিযোদ্ধা ভীড় করতো না। তবে সঠিক মুক্তিযোদ্ধারা সীকৃতি না পেলে, এই প্রক্রিয়া উদ্ভাবন ও বাস্তবায়নকারীরা গোনাহ্গার হবেন নিশ্চিত। সেটি মাথায় রেখে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এটি এখন নিশ্চিত ও সমাপ্ত করা উচিৎ বলে মনে করি।
    Total Reply(0) Reply
  • Manik Barua ১৪ জানুয়ারি, ২০২১, ২:৫২ পিএম says : 0
    শেষ বয়সে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এমন টানা হ্যাচরা সত্যি দুঃখজনক। সব মুক্তিযোদ্ধারাই এখন বৃদ্ধ অনেকে মারা গিয়েছে অনেকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত অনেকে অনেক কিছুই মনে করতে পারে না স্মৃতিশক্তি হারিয়ে। তাদেরকে এমন বারবার যাচাই-বাছাইয়ে কষ্ট দেওয়ার মানে হয়না। আশা করছি এবার যাচাই-বাছাই শেষে আমরা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা দের তালিকা পাব। এটাই যেন তাদের শেষ কষ্ট হয়
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ শামীমুর রহমান ১৪ জানুয়ারি, ২০২১, ৯:০৮ পিএম says : 0
    প্রধানমন্ত্রীর জেলার মুক্তিযোদ্ধারা সরাসরি সরকার প্রধানকে অবহিত করান, শীত ও করোনার মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কষ্ট দেওয়া হচ্ছে..আমার বাবাও যুদ্ধ শেষ করে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশ মতো ৯ মাসের বেতন পান,পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারী হিসেবে ২ বছরের সিনিয়রিটি পান, ৩/৪ বার যাচাই-বাছাই এ ok, শুধু বেসামরিক গেজেট টা ২০০৫ সালের.. তাতেই যত যাচাই-বাছাই এর তালিকায় স্থান ..
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ আতাউল গনি ওসমানী ১৪ জানুয়ারি, ২০২১, ৩:১৯ পিএম says : 0
    যাচাই-বাছাইয়ের নমুনা দেখলে গা জ্বালা করে। যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় আগে পিছে ছিল না তারা এখন যাচাই-বাছাই কমিটির চালিকাশক্তি। এটা যাচাই-বাছাই নয়? যাচাই-বাছাই এর নামে বীর মুক্তিযোদ্ধা দের অপমানিত হয়রানি ছাড়া আর কিছু নয়। মুজিব শতবর্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা কে সশস্ত্র সন্মান যথাযথ মর্যাদায় প্রদর্শন না করে যাচাই-বাছাই এর নামে হয়রানি অপমানিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। senior মু্ক্তিযোদ্ধারা বেচে নাই, যারা আছেন তাদের শক্তি হচ্ছে বিছানা আর হাতের লাঠি। STOP অনেক হইছে? NO যাচাই-বাছাই? বীর মুক্তিযোদ্ধা কে নয় হয়রানি উত্তম সন্মানে সন্মানিত করা হোক। সুস্থ পরিবেশ বেচে থাকার সুযোগ দিতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃমোস্তাফিজুল হাকিম ২০ জানুয়ারি, ২০২১, ৯:১৮ পিএম says : 0
    স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তীতে মুক্তি যোদ্ধাদের মানসম্মান সুরক্ষিত করা উচিৎ তা না কোরে যাচাই-বাছাই এর নামে এই বৃদ্ধ বয়সে মানষিক চাপের সৃস্টি করা উচিৎ না। আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জননেত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টা বিবেচনা কোরে সকল মতলব বাজদের কুমতলব প্রতি হত করবেন ইনশাআল্লাহ! জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয় জননেত্রী শেখ হাসিনা !
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিক্ষোভ মিছিল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ