Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৪ মাঘ ১৪২৭, ০৪ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

মোবাইল ব্যাংকিং-এ সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা প্রদান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

২০ লাখ উপকারভোগী ভাতা পাবেন বিকাশে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ জানুয়ারি, ২০২১, ৬:১৯ পিএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আজ বৃহষ্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) প্রথম বারের মত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের প্রদেয় ভাতা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে বিতরণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এখন থেকে বিকাশের মাধ্যমে জিটুপি (গভর্মেন্ট টু পার্সন) পদ্ধতিতে সারাদেশের ২৪টি জেলার প্রায় ২০ লাখ উপকারভোগীর কাছে এসকল ভাতা সহজেই পৌঁছে যাবে। কোন রকম বাড়তি খরচ ছাড়াই তা খুব সহজেই বিকাশের সবচেয়ে বিস্তৃত এজেন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে ক্যাশআউট করে নিতে পারবেন উপকারভোগীরা। ক্যাশ আউট খরচের ৭ টাকা সরকার বহন করবে, বাকি টাকা বহন করবে বিকাশ নিজেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যাদের ভাতা দিচ্ছি অর্থটা যেন তাদের হাতেই পৌঁছায় মাঝে যেন অন্য কেউ না থাকে সেকারণেই সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বিতরণে এই জিটুপি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমেদ কায়কাউস এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী।

বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর, চীফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল শেখ মোঃ মনিরুল ইসলাম (অবঃ) এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে ভাতাপ্রাপ্ত উপকারভোগীদের সাথে কথা বলেন। লালমনিরহাট ও পিরোজপুরের বিকাশে ভাতাপ্রাপ্তরা তাদের অভিজ্ঞতার কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

লালমনিরহাটে বিধবা ভাতাপ্রাপ্ত উপকারভোগী লিলি বেগম প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, পাঁচ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে পড়ি। এই ভাতা পেয়ে সেই অবস্থা থেকে রক্ষা পেয়েছি। আগে ব্যাংকে গিয়ে দুই তিনদিন দাঁড়িয়ে থেকে ভাতা পেতাম। এখন বিকাশে ঘরে বসেই ভাতা পাব।

লিলি বেগম প্রধানমন্ত্রীকে এই উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান। পিরোজপুরের বিধবা ভাতাপ্রাপ্ত উপকারভোগী সুফিয়া বেগমও একই কথা বলেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশের এ সম্পর্কিত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনপ্রতি ১০০ টাকা হারে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে প্রথম এই ভাতা প্রদান শুরু করেন। বর্তমান সরকারই পর্যায়ক্রমে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে জনপ্রতি ভাতা ৫০০ টাকায় উন্নীত করেন। প্রতিবন্ধীরা ৭৫০ টাকা করে ভাতা পান।

ইতোপূর্বে পাইলট প্রকল্পে ভাতাভোগীদের মধ্যে জিটুপি-র মাধমে ভাতা বিতরন করা হয়েছে। ভাতা বিতরণ এর পাইলট কার্যক্রমে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এমএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশ সবচেয়ে সফলতার সাথে ভাতা বিতরণ সম্পন্ন করে।

মাধ্যমিক স্তরের উপবৃত্তি বিতরণের সফলতার অভিজ্ঞতায় বিকাশ দক্ষতার সাথে এই ভাতার অর্থ বিতরণ করবে। ভাতা বিতরণে প্রযুক্তির এই ব্যবহার স্বচ্ছতা, দ্রুততা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় ৭০ লাখেরও বেশি সুবিধাভোগীর কাছে সফলতার সাথে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে বিকাশ। দেশজুড়ে বিস্তৃত ২ লক্ষ ৪০ হাজার এজেন্ট নেটওর্য়াকের মাধ্যমে সহায়তার অর্থ ক্যাশ আউট করার পাশাপাশি নিজের বিকাশ একাউন্ট থেকে সেন্ড মানি, মোবাইল রিচার্জ, পে বিল, কেনাকাটার পেমেন্ট সহ অসংখ্য সেবা সহজেই ব্যবহার করতে পারেন উপকারভোগীরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভাতা

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ