Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১ হিজরী

শহীদ মিনারে জবি শিক্ষার্থীদের সংহতি সমাবেশ

প্রকাশের সময় : ২৭ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

হল নির্মাণ দাবিতে ফের দুইদিনের ধর্মঘটের ডাক
মালেক মল্লিক/নাইমুর রহমান নাবিল আবাসিক হল নির্মাণের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সংহতি সমাবেশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাবেশে হল আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে যে দাবি করছে তা মেনে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। হলের দাবি তাদের ন্যায্য দাবি, এটি তাদের দিতে হবে। সরকার জগন্নাথ শিক্ষার্থীদের হলের দাবি মেনে নিয়ে এজন্য কাজ শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। সমাবেশ শেষে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি আগামীকাল রোববার ও সোমবার ফের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এদিকে শিক্ষার্থীর দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও কুমিল্লাসহ বেশ কয়েকটি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেও জানা যায়।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুয়ারী শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্ব স্ব ব্যানার নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশে যোগ দেন। এতে প্রায় তিন হাজার ছাত্রছাত্রী অংশ নেন। প্রায় ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সংহতি জানান। শিক্ষার্থীরা হলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করলে পুরো এলাকা এক ধরনে কম্পিত হতে থাকে। সমাবেশে শিক্ষার্থীদের সংহতি প্রকাশ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। সংহতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, শিক্ষাবিদ কে এন রাশেদা, ব্যারিস্টার জোর্তিময় বড়–য়া, সাংবাদিক সুশান্ত সিনহাসহ জবির সাবেক শিক্ষার্থীরা। রুবায়েত ফেরদৌস বলেন, গ্রামসির প্রিজন নোটবুকে তিনি বলেছিলেন, সারি সারি দালানকোঠা জেলখানায়ও থাকে, আবার বিশ্ববিদ্যালয়েও থাকে। একটি মানুষকে বন্দি করে, আর অন্যটি মানুষকে মুক্ত করে। তাই আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হলের পক্ষে।
সমাবেশে শিক্ষাবীদ এ এন রাশেদা চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে যে দাবি করছে তা মেনে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। হলের দাবি তাদের ন্যায্য দাবি, এটি তাদের দিতে হবে। সরকার জগন্নাথ শিক্ষার্থীদের হলের দাবি মেনে নিয়ে এজন্য কাজ শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ২৫ দিন ধরে শিক্ষার্থীরা হলের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে দাবি করে এ সময়ের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক তাদের পক্ষে আন্দোলনে যোগ না দেয়ার সমালোচনা করেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। তিনি বলেন, শিক্ষকদের আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা তাদের সাথে ছিল। কিন্তু হলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা যখন রাজপথে নেমেছে, তখন তাদের পাসে কোনো শিক্ষক নেই, শিক্ষক সমিতি নেই। অন্যান্য বক্তারা বলেন, এই রকম শান্তিপূর্ণ সমাবেশ সারা বিশ্বে নজিরবিহীন। এই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একমত। এটা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি বলে এছাড়া বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যতদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হল হবে না ততদিন সরকার প্রত্যেক ছাত্রের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হবে। এসময় শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে আহ্বান করেন বক্তারা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এই আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচি : সমাবেশে শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, রোববার ও সোমবার জবি ক্যাম্পাসে পূর্ণ ছাত্র ধর্মঘট পালন করা হবে। এছাড়া ওইদিন পুরান ঢাকার নয়াবাজার মোড়ে অবস্থান নেবে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া সোমবারের মধ্যে দাবি পূরণে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পুরান ঢাকার হরতাল দিয়ে রাজধানী অচল করে দেয়ার হুঁশিয়ারী দেন আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন