Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭, ১৪ রজব ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

আউটার স্টেডিয়াম ‘বেকার’!

চট্টগ্রাম ক্রীড়াঙ্গণের উন্মুক্ত নতুন ভেন্যু শিরীষতলা

রুমু, চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৬ জানুয়ারি, ২০২১, ১২:০৬ এএম

খেলোয়াড় তৈরির কারখানা ঐতিহ্যের ধারক চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়াম। এখান থেকে গড়ে ওঠেন দেশসেরা অনেক ক্রীড়াবিদ। সাবেক জাতীয় ফুটবলার আশীষ ভদ্র এ মাঠে খেলেছেন। জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, ইকবাল খান, আকরাম খান, নুরুল আবেদীন নোবেল, ফজলে রাব্বী রুবেল, নাফিস ইকবাল, আফতাব আহমেদ, নাজিম উদ্দিন, তামিম ইকবালের মতো ক্রিকেটাররা এ মাঠে খেলে তাদের খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেন। স্টার যুব টুর্নামেন্ট এবং স্টার সামার টুর্নামেন্টও এ মাঠে আয়োজন করা হতো। মাঠের চারদিকে প্রচুর দর্শক খেলা উপভোগ করতেন। কলকাতা ইস্ট বেঙ্গল টিমও খেলে গিয়েছিল এ মাঠে।

আজ সেই মাঠ ‘বেকার’ হয়ে পড়ে আছে। খাঁ খাঁ করছে। নেই কোন খেলাধুলা। মাঠে সয়লাব ধুলোবালি, পলিথিন, ময়লা-আবর্জনা। অপরিচ্ছন্ন, দুর্গন্ধ সর্বত্র। কাকের মেলা! ভবঘুরেরা দিনভর ঘুরছে। প্রায় সময়ই রাতে ভাসমান পতিতাদের আনাগোনা করতে দেখা যায়। অনেক সময়ই হরেক নির্মাণ সামগ্রী মজুদ করতেও দেখা যায়। আজ যেন অভিভাবকহীন বেহাল আউটার স্টেডিয়াম।

এ অবস্থায় কিশোর-যুবক-তরুণরা খেলার আকর্ষণে সিআরবি শিরীষতলা মাঠে যাচ্ছেন। প্রতিদিন সকাল-বিকাল খেলছেন তারা। মাঠের চারিদিকে বিভিন্ন বয়সের মানুষ বসে প্রতিদিন খেলা উপভোগ করছেন। কেউ বা ক্রিকেট আবার কেউ বা খেলছেন ফুটবল। মুজিব বর্ষ চট্টগ্রাম বিভাগীয় জমজমাট ভলিবল প্রতিযোগিতাও সম্প্রতি এ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভাগের ১১টি জেলা এতে অংশ নিয়েছে। স্বাগতিক চট্টগ্রাম হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ বিজয়ীদের মাঝে দিয়েছেন পুরস্কার।

এছাড়া শরীরচর্চা প্রতিযোগিতাও হয়েছে এখানে। বর্তমানে এটি উন্মুক্ত নতুন ভেন্যু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। যখন যারা সুযোগ পাচ্ছে এখানে আয়োজন করছে বিভিন্ন খেলাধুলা। অথচ এমন হওয়ার কথা ছিল না। ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক আউটার স্টেডিয়ামের মাঠ বেকার হয়ে পড়ে থাকাটা কেউ সহজেই মেনে নিতে পারছে না। এ খেলার মাঠকে প্রায় সময় মেলার মাঠে পরিণত করায় ছোট ছোট পাথর ও বালিসহ অসমতল স্থানে সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সময় পাওয়া যাচ্ছে কাঁচ ভাঙ্গা ও পেরেক। এখানে যারা অনুশীলন বা খেলতে আসতো তারা বলছে, এটি তো এখন মাঠ না। খেলতে গেলে আমাদের ইনজুরি হয়।

তাই আমরা সিআরবি শিরীষতলায় খেলে থাকি। আবার কেউ কেউ শিরীষতলায় জায়গা না পেয়ে অনেকটা অপারগতায় মাঠের একপাশে নেট টাঙ্গিয়ে ক্রিকেট অনুশীলন করছে। তারা বলছে ইনজুরির ঝুঁকি নিয়ে অনুশীলন করতে হচ্ছে। কি করব জায়গার তো অভাব। তারপরও ফিটনেসের জন্য দেখেশুনে অনুশীলন করতে হচ্ছে। সাবেক জাতীয় দলের ফুটবলার আক্ষেপ করে বলেন, যে মাঠ থেকে সৃষ্টি হয়েছে অনেক খেলোয়াড়।

বার আউলিয়ার পুণ্যভূমি চট্টগ্রামকে তারা করেছিল উজ্জ্বল সেই আউটার স্টেডিয়াম ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে থাকা আমার বিবেককে বেশ দংশন করছে। কেউ কেউ বলেন চট্টগ্রামে অনেক ক্রীড়া সংগঠক। যাদের নাম সবার মুখে মুখে। অবহেলায় অনাদরে বেকার প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে থাকা আউটার স্টেডিয়ামের এহেন করুণদশা দেখে চাটগাঁর কর্তাব্যক্তিবর্গ এবং জাঁদরেল ক্রীড়া সংগঠকদের বিবেক কী এতটুকুও দংশন করেনা!



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চট্টগ্রাম-ক্রীড়াঙ্গণ
আরও পড়ুন