Inqilab Logo

বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৩ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

তাওবা সম্পর্কে আল্লাহওয়ালাগণের উক্তি

মুন্সি আব্দুল কাদির | প্রকাশের সময় : ২১ জানুয়ারি, ২০২১, ১২:০১ এএম

পূর্ব প্রকাশিতের পর

কৃত গুনাহের জন্য সর্বক্ষণ তওবা ইস্তেগফার করতে থাকবে। গুনাহের কথা তো তোমার জানা আছে কিন্তু আল্লাহ তা ক্ষমা করেছেন কিনা তা তো তোমার জানা নাই। কুড়ানো মানিক।

কেউ যত বড় গুনাহই করুক না কেন, তওবা করলে সে গুনাহ মাফ হয়ে যায়, এমনকি তওবাকারীকে আল্লাহ তায়ালা মহব্বত করতে শুরু করেন। হাসান বসরী রাহঃ। যে ব্যক্তি ইস্তেগফার করার সুযোগ পায় সে ক্ষমা তেকে বঞ্চিত হবেনা। যে ব্যক্তি তওবা করার সুযোগ পায় সে কখনও বঞ্চিত হবেনা। হযরত আবু হুরায়রা রাঃ। চারটি অভ্যাস দ্বারা রিজিক বৃদ্ধি পায়। ১. নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া ২. বেশী করে তওবা ইস্তেগফার করতে থাকা ৩. বেশী বেশী সদকা করা ৪. বেশী বেশী জিকির করা। ইমাম শাফেয়ী রাহঃ। নিন্মোক্ত সাতটি আমলের দ্বারা স্বাচ্ছন্দ আসে ্ ১. নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত ২. সময়মত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ৩. আল্লাহ তায়ালার শুকুর আদায় ৪. অসহায় গরীবদের সাহায্য সহযোগীতা ৫. গুনাহ থেকে তওবা করা ৬. পিতা মাতা ও আত্মীয় স্বজনদের সাথে উত্তম ব্যবহার করা ৭. সকালে সুরা ইয়াসিন ও রাতে সুরা ওয়াক্বিয়া পাঠ করা। বিখরে মোতি। পাপ মানুষকে কোন না কোনোভাবে বিব্রত করবেই। হযরত উসমান রাঃ। আমাদের তওবাও তওবার মুখাপেক্ষী। কেননা অধিকাংশ সময় আমাদের তওবায় কোন নিষ্ঠা থাকে না। হযরত রাবেয়া বসরী রাহঃ। তওবা করার পর একটি সগীরা গুনাহও তওবা করার আগের ৭০ টি কবীরা গুনাহের চেয়ে বেশী নিন্দনীয়। ইয়াহইয়া ইবনে মায়ায রাহঃ।

গুনাহ করার পর বান্দা যখন তওবা করে তখন আল্লাহর সাথে তার নৈকট্য আগের তুলনায় বেড়ে যায়। হাসান বসরী রাহঃ। যে ব্যক্তি গুনাহ করার পর তওবা করেছে, তার কৃত অপরাধের তুলনায় সৎকর্মগুলোকে নিতান্ত তুচ্ছ জ্ঞান করে অনুতপ্ত হয়েছে, সেই সর্বোত্তম আবেদ। সাইদ ইবনে যুবায়ের রাহঃ।

যদি তোমার দ্বারা কখনও কোন পাপ কাজ হয়ে যায় তবে সঙ্গে সঙ্গে সে জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট তওবা কর। সৃষ্টিগত ভাবেই মানুষের গর্দানে পাপের বেড়ী লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাপের প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া নিশ্চিত ধ্বংসের কারন হয়ে যায়। ইমাম জাফর সাদেক রাহঃ।

পাপকর্মে আসক্ত ব্যক্তির সাথে হৃদ্যতা রাখাও অসৎ কর্মের প্রতি সন্তুষ্ট থাকার আলামত। পাপের প্রতি সন্তুষ্টি পাপ অনুষ্ঠান করার সমতুল্য অপরাধ। পাপীদের সাথে মিল-মহব্বত রাখাটা পাপের সাথে আপস করারই নামান্তর। মারুফ কারখী রাহঃ। যে সমস্ত পাপ অন্যের অধিকার লংঘন, হক বিনষ্টকরণ বা জুলুম নির্যাতনের সাথে সংশ্লিষ্ট সেগুলো থেকে তওবা করার পদ্ধতি হচ্ছে, যার হক বিনষ্ট করা হয়েছে বা যার উপর জুলুম করা হয়েছে প্রথমে তার নিকট থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া তারপর আল্লাহ তায়ালার নিকট ক্ষমা চাওয়া। মোজাদ্দেদ আলফে সানী রাহঃ। পাপ করার পর যদি অনুশোচনা না আসে তবে সেই ব্যক্তির পক্ষে বেইমান হয়ে যাওয়ার আশংকা প্রবল। মোজাদ্দেদ আলফে সানী রাহঃ।

পাপের প্রতি ঘৃনাবোধ সৃষ্টি না করে শুধু মুখে তওবা করা নির্জলা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়। ফুযাইল ইবনে আয়ায রাহঃ। যে সৎকর্মের সাথে সাথে অন্তর আলোকিত হয় না সেটা কোন সৎকর্মই নয়। পক্ষান্তরে গুনাহ করার পরপরই যদি অন্তরে অনুশোচনার সৃষ্টি হয় এবং তওবা করার তৌফিক হয় তবে সে কাজটি আর গুনাহ থাকে না। হযরত বায়েজীদ রাহঃ। সর্বাপেক্ষা মন্দ সেই ব্যক্তি, যে পরে তওবা করবে এই আশায় পাপ কাজে লিপ্ত থাকে এবং তওবা এই আশায় বিলম্বিত করে যে, জীবনের বহুদিনতো সামনে পড়ে আছে। শাক্বীক বলখী রাহঃ।

অনেক বড় বড় পাপের প্রায়শ্চিত্য ক্ষুদ্র ও পতিত মানুষের সেবা ও সাহায্যের মাধ্যমে হয়ে যায়। শাক্বীক বলখী রাহঃ। গুনাহ করার সময় লক্ষ্য কর, কতটুকু শাস্তি ও আযাব সহ্য করার ক্ষমতা তোমার রয়েছে। শাক্বীক বলখী রাহঃ। সাধক হামেদ আল লাফফাক রাহঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুর কথা স্মরণ করে তিনটি নেয়ামত দ্বারা তাকে সম্মানিত করা হয়। ১. তাওবা করার তাওফিক ত্বরান্বিত হয় ২. আল্লাহ যা কিছু দিয়েছেন তার প্রতি সন্তুষ্টি সৃষ্টি হয় ৩. এবাদতে একাগ্রতা আসে। অপর দিকে যে ব্যক্তি মৃত্যুর কথা ভুলে যায় তাকে তিনটি বিষয় দ্বারা শা¯িত দেওয়া হয়। ১. তাড়াতাড়ি তওবা করার তওফিক হয়না ২. যতই বিত্ত¡বান হউক না কেন সে তৃপ্ত হয়না ৩. এবাদত বন্দেগীতে আলস্য সৃষ্টি হয়।

শয়তান যখন মানুষকে তিনটি বিষয়ের যেকোন একটিতে অভ্যস্ত করে ফেলতে পারে তখন সে স্বস্বিতর নিঃশ্বাস ফেলে বলে আমার আর কোন কিছুর প্রয়োজন নেই। এই তিনটি বিষয়ের প্রথমটি হচ্ছে অহংকার করা দ্বিতীয়টি হচ্ছে নিজের আমলকে বেশী মনে করা অর্থাৎ সামান্য একটু নেক আমল করেই এরূপ মনে করা যে অনেক আমল করে ফেলেছি। তৃতীয়টি হচ্ছে কৃত গুনাহের কথা ভুলে যাওয়া। আর এই তিনটির উৎস মূল হচ্ছে পেটপুরে খাওয়া। পেটভরা থাকলেই ঐ তিনটি মন্দ প্রবনতা মাথার উপর চড়াও হয়। ফুযাইল ইবনে আয়ায রাহঃ। গুনাহ করে অনুতপ্ত না হওয়া এমন এক রোগ যার কোন চিকিৎসা নেই। ইবনে আরাবি রাহঃ। পাপ লুকানোর চেষ্টা করে কেউ কখনও সফল হতে পারে না। পাপের কথা স্বীকার করে কেউ যদি তা ত্যাগ করার চেষ্টা করে তবে তার পক্ষে সফলতা লাভ করাই স্বাভাবিক। হযরত সুলাইমান আঃ।

ভবিষ্যতে তওবা করে ফেলবে এই ভরসা অন্তরে নিয়ে যে পাপ করে থাকে তার চাইতে জগন্য আর কেহ হইতে পারে না। শক্বীক বলখী রাহঃ । সে ব্যক্তি অত্যন্ত মন্দ যে এই আশাতে গুনায় লিপ্ত হয় যে, পরে তওবা করা যাবে। আর এই আশায় তওবা করে না যে, ভবিষ্যতে তা করা যাবে। নিযামুদ্দিন আউলিয়া রাহঃ। আমরা আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়া করি, কোন ভুল করে যেন হঠকারী না হই। আল্লাহর নিকট যেন সাথে সাথে তওবা করতে পারি। আমাদের আমলনামায় যেন বেশী ইস্তেগফার থাকে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে বেশী বেশী তওবা ইস্তেগফার করার তৌফিক দিন। আমিন।
লেখক : শিক্ষাবিদ ও গবেষক



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আল্লাহওয়ালাগণের-উক্তি
আরও পড়ুন