Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭, ১৫ রজব ১৪৪২ হিজরী

প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে সবাই খুশি

দশ মাস পর সশরীরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে

পঞ্চায়েত হাবিব | প্রকাশের সময় : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১, ১২:০০ এএম

দীর্ঘ প্রায় দশ মাস পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় খুশি মন্ত্রিসভার সদস্যরা। করোনাভাইরাস মহামারির প্রকোপ কমে যাওয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম মন্ত্রিসভা বৈঠকে কয়েকজন মন্ত্রী ও সরকারের সচিবের সঙ্গে মুখোমুখি বসেছেন। তবে সবাই মাস্ক পরে আলাদা আলাদা টেবিলে বসেছিলেন।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংসদের অধিবেশন শেষে এই বৈঠকে মন্ত্রিসভার ছয়জন সদস্য এবং ছয়জন সচিব উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দু’টি আইন ও একটি নীতিমালা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন পর বের হতে পেরেছেন এবং সুস্থ আছেন বলে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সরবরাহ করা ছবিতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীর দু’পাশে ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। আর সামনের দিকে এক পাশে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ কয়েকজন সচিবকে দেখা যায়। অপর পাশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনসহ কয়েকজন ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক অতিরিক্ত সচিব জানান, বৈঠকে এজেন্ডা রিলেটেড ছয়জন মন্ত্রী ও ছয়জন সচিব উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য ও সচিব এবং সংশ্লিষ্টরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বৈঠকে বসেছিলেন।
কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভার্চ্যুয়ালি মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কারণে অনেকই মুখোমুখি হতে চান। তবে আজ মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে দেখে আমাদের অনেক সদস্য খুশি। আমরা সকলেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বৈঠকে বসেছিলেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মন্ত্রিসভা ও রিপোর্ট অনুবিভাগ) মো. আব্দুল বারিক ইনকিলাবকে বলেন, দীর্ঘদিন পর মুখোমুখি বসল মন্ত্রিসভা বৈঠক। করোনা দেখা দেয়ার পর আর মুখোমুখি বৈঠক হয়নি। আজকে সভা থেকে সশরীরে উপস্থিত থাকা মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হলো। এতে করে মন্ত্রিসভার সদস্যরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস রোগী শনাক্তের পর ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে মন্ত্রিসভা বৈঠক রূপ পায় নতুন আঙ্গিক। মন্ত্রিসভা হচ্ছে সরকারের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম। সাধারণত প্রতি সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আর বিশেষ সময়ে সংসদ অধিবেশন চলাকালে সংসদ ভবনেও মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। করোনা সংক্রমণের মধ্যে গত বছরের ৬ এপ্রিল সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সর্বশেষ মুখোমুখি বসেছিল মন্ত্রিসভা। গণভবনে সীমিত পরিসরে ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউসসহ কয়েকজন সচিবও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আলাদা টেবিলে ছিলেন। এরপর করোনা পরিস্থিতির মধ্যে প্রথমবার ভার্চ্যুয়ালি মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১৩ জুলাই। ওই দিন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সচিবরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামও সচিবালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন বৈঠকে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন। আর শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করে নির্ধারিত আসনে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস। আর সচিবালয় প্রান্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কনফারেন্স রুমে যুক্ত ছিলেন মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা।
গত বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর ১৭ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। টানা ৬৬ দিনের ছুটি শেষে অফিস-আদালত সচল হয়। মাঝে করোনাভাইরাস সংক্রমণ কিছুটা কমলেও শীতে আবার বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন, তাদের মধ্যে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম মারা গেছেন।
নিবন্ধন ছাড়া ট্যুর অপারেটর পরিচালনা করলে ৬ মাসের জেল
নিবন্ধন ছাড়া ট্যুর অপারেটর পরিচালনাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ৬ মাসের জেল বা ২ লাখ টাকা বা উভয় দন্ডের বিধান রেখে বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) আইন, ২০২১-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ২০২৫ সালের মধ্যে জাহাজ রফতানি আয় বছরে ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ‘জাহাজ নির্মাণ শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা-২০২১’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। বৈঠক শেষে বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে সুপরিকল্পিতভাবে ট্যুর কার্যক্রম পরিচালনায় ট্যুর অপারেটর ও গাইড আইনের আওতায় পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়। ট্যুর অপারেটর কিভাবে পরিচালনা করা হবে, দেশি-বিদেশি ট্যুর অপারেটরদের কিভাবে অনুমোদন দেয়া হবে, কিভাবে নিবন্ধন দেয়া হবে আইনে এসব উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আইনে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ট্যুর অপারেটররা যদি কোনো অপরাধ করে তাহলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদন্ড এবং সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। অপরাধের বিচার মোবাইল কোর্টের আওতাধীন হবে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিচার করা যাবে। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমরা ধীরে ধীরে যত উন্নত দেশের দিকে যাব, আমাদের সেবাগুলো তত উন্নত হতে থাকবে। সেবাখাত বিনিয়োগের একটা বড় ক্ষেত্র হবে। এ জন্য আইন করার উদ্যোগ নেয়া হয়। আইনের মাধ্যমে পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সেবাপ্রাপ্তি সহজ হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। কারণ অনেক বড় বড় ইনফরমাল ট্যুর হচ্ছে কিন্তু কোনো ভ্যাট বা ট্যাক্স সরকারের খাতে জমা হচ্ছে না। এ জন্য যত নিবন্ধন ও ট্যুর হবে সবগুলো রাজস্ব বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চলে আসবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চার বছরের মধ্যে জাহাজ নির্মাণ খাতের কর্মী সংখ্যা ৩০ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ করারও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জাহাজ নির্মাণ খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি, এই শিল্প সংশ্লিষ্ট নানাবিধ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশ, অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আমদানি নির্ভরতা হ্রাস, রফতানি আয় বৃদ্ধিসহ জাহাজ নির্মাণ শিল্পের টেকসই বিকাশ ত্বরান্বিত করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনাসহ জাহাজ নির্মাণ শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহনের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় জাহাজ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন, বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে বিশ্ব জাহাজ নির্মাণ শিল্পের উপযুক্ত অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলা হবে এই নীতিমালার লক্ষ্য। এছাড়া অধিক বিনিয়োগ ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০২৫ সালের মধ্যে জাহাজ রফতানি খাতের অবদান ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে।



 

Show all comments
  • বান্নাহ ২৬ জানুয়ারি, ২০২১, ৪:১৩ এএম says : 0
    আশা করি খুব শিঘ্রই সব ঠিক হয়ে যাবে
    Total Reply(0) Reply
  • দুলাল ২৬ জানুয়ারি, ২০২১, ৪:১৪ এএম says : 0
    সকলের জন্য শুভ কামনা ও দোয়া রইলো
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রধানমন্ত্রী

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন