Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১১ ফাল্গুন ১৪২৭, ১১ রজব ১৪৪২ হিজরী

কমলনগরে বিকল্প ধারা মহাসচিব মেজর (অবঃ) আবদুল মান্নান এমপির বিরুদ্ধে ভূমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৮ জানুয়ারি, ২০২১, ৫:৩৫ পিএম

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে লক্ষ্মীপুর-৪( রামগতি-কমলনগরের) সংসদ সদস্য ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অবঃ) আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ভূমি দখলসহ নিরীহ জনসাধারণকে হয়রানি করার অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে থাকেন।
(আজ) বৃহস্পতিবার বিকেলে 'কমলনগর প্রেসক্লাব' মিলনায়তনে তিনটি ভুক্তভোগী পরিবার এ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
লিখিত বক্তব্যে এসব পরিবারের পক্ষে মোহাম্মদ নুরুজ্জামান চৌধুরী, আবুল খায়ের ও আবুল বাসার স্ব স্ব বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন - প্রায় অর্ধশত বৎসর ধরে বংশ পরম্পরায় তাঁদের স্বীয় স্বত্ব মালিকানাধীন ভূমি ভোগ দখল করে আসলে ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) আবদুল মান্নান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তাঁর ভাই আকবরের নেতৃত্বে তাঁর বাহিনীর রায়হান চৌধুরী, হোরন আমিনসহ কতিপয় চিহ্নিত ভূমি দস্যু শুরু থেকে কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা, চর বসু গ্রামে বিভিন্ন নালজমি,বসত বাড়িতে হানা দিয়ে সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে অসংখ্য নিরীহ দরিদ্র পরিবারের জমি দখল ও বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে থাকেন।
তারই ধারাবাহিকতায় চর কাদিরা মৌজার ১৪৭ নাম্বার নথিমূলে ২৬২৪/২৬২৭ নাম্বার দাগের ২ একর ৩৯ শতাংশ ভূমি ও একই মৌজার ২৬২৪ নাম্বার দাগ যাহা বর্তমান হাল দাগ ৬২৯৪ নাম্বার দাগে ১ একর ৮৬ শতাংশ ভূমি মেজর (অবঃ) আবদুল মান্নান এমপির ভূমি দস্যু ইউনিট দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন।
এ নিয়ে কয়েক দফা সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় কমলনগর থানা ও উকিল চেম্বারে শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শালিশ বৈঠকে সংসদ সদস্যের দাবির স্বপক্ষে কোনরূপ প্রমাণদি উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়ে শেষ অবধি শালিশ না মেনে ফিরে এসে অতর্কিত বাড়িঘরে হামলা করাসহ জমিতে চাষাবাদে বাধা দিয়ে পেশিশক্তি প্রদর্শন করে পিলার নির্মাণ করে অর্ধশতক বৎসরের দখল থেকে উচ্ছেদ করতে চাচ্ছে। তাছাড়া অপপ্রভাব বিস্তার করে প্রশাসনযন্ত্র ব্যবহার করে হয়রানি করার ও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান চৌধুরী জানান, তাঁর বাবা মৃত রাজা মিয়া ১৯৬৬/৬৭ সালে চর কাদিরা মৌজায় সরকারের নিলামে বিক্রিত ২ একর ৩৯ শতাংশ ভূমি খরিদ করে থাকেন।খরিদের পর নিয়মানুসারে তাঁদের দিয়ারা, আর এস ও রিভিশন খতিয়ানভুক্ত হয়ে নিয়মিত খাজনাদি পরিশোধ করিয়া স্বত্বসহ ভোগদখল করিয়া আসিয়াছিলেন তাঁর বাবা মৃত রাজা মিয়া।বাবার মৃত্যুর পর আমরা(নুরুজ্জামান) গংরা ও প্রকৃত ভোগদখলকার।কিন্তু সংসদ সদস্যের লোকজন তাঁর নাম ভাঙ্গিয়ে জোর পূবর্ক আমাদের মালিকানা সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের লক্ষ্যে আমাদেরকে অন্যায়ভাবে বার বারই বাধা প্রদান করে আসছেন।এ ছাড়া সীমানা পিলার স্থাপন করে থাকেন।সংসদ সদস্যের লোকজন কোন শালিশ বৈঠক কাগজ পত্র প্রমানাদি কিছুই মানেননা।এমন অভিযোগ অপর ভুক্তভোগী আবুল খায়ের ও আবুল বাসারের।
তাঁদের দাবি- "তাঁরা উভয়ই (খায়ের, বাসার) খরিদসুত্রে চর কাদিরা মৌজার ২৬২৪ নাম্বার দাগে ১ একর ৮৬ শতাংশ ভূমির মালিক। তাঁরা দীর্ঘযুগ ধরে জমিটি ভোগ দখলকার ও যাহাতে দীর্ঘ বৎসর ধরে বসতঘর বিদ্যমান রহিয়াছে।
কিন্তু মেজর (অবঃ) আবদুল মান্নান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর কতিপয় অনুসারীরা সংসদ সদস্য কিংবা তাঁর পরিবারের কারো কোনরূপ মালিকানার প্রমাণ ছাড়াই একাধিকবার জোর পূর্বক তাঁদেরকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়। বাড়ি এসে নানাবিধ হুমকি দিয়ে বেড়ায়"।
নিরীহ খায়ের ও বাসার আরো জানায়, "আমরা হতদরিদ্র আমকদের নিজস্ব কোন জমিজমা নেই। চরাঞ্চলের সামান্য জমি খরিদ করে খেয়ে না খেয়ে কোন রকম বেঁচে আছি। কিন্তু মেজর (অবঃ) মান্নান এমপির লোকজনের অত্যাচারে আমরা নিষ্পেষিত। আমাদেরকে সমূলে উচ্ছেদের অপচেষ্টা করছে তাঁরা।আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি"।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ