Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭, ১৭ রজব ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

বরিশালে ১৮ বছর ধরে একটি পরিবার গণশৌচাগারে, বঞ্চিত প্রধানমন্ত্রীর উপহার থেকেও

বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২৮ জানুয়ারি, ২০২১, ৬:৪০ পিএম

বরিশালের বাবুগঞ্জ বন্দরের সহায় সম্বলহীন একটি পরিবার বিগত ১৮ বছর ধরে পরিত্যক্ত গন শৌচাগারে জীবন যাপন করছে। 'মুজিব বর্ষ’ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে আবাসন সুবিধার দেয়ার লক্ষ্যে দক্ষিণাঞ্চলের ৩ সহশ্রাধীক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি সহ ঘর প্রদান করা হলেও এ পরিবারটির ভাগ্যে তা জোটেনি। অথচ সহায় সম্বলহীন এ পরিবারটি যথেষ্ঠ আশার আলো দেখেছিলো। আশাছিল একটি নিরাপদ আশ্রয়ের। তালিকা তৈরীতে সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় গৃহহীন পরিবারটির ভাগ্যে জোটেনি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর!

জমি, বসতঘর কিছুই না থাকায় ১৮ বসর ধরে থাকছেন উপজেলার বাবুগঞ্জ বন্দরের পরিত্যাক্ত গণশৌচাগারে। 'মুজিব বর্ষ’ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে আবাসন সুবিধার আওতায় সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৩ জানুয়ারী দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের কাছে ৬৬ হাজার ১৮৯টি বাড়ি বিতরণ করেন। এ উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে বরিশালের বাবুগঞ্জে ১৭০ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ১১০ টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বাবুগঞ্জে সহায় সম্বলহীণ সুমন-সাথী আক্তার দম্পতি দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে গন শৌচাগোরে মানবেতর জীবনযাপন করলেও ভাগ্য তাদের সহায় হয়নি।
১৮ বছর আগে মাদারীপুরের কালকিনি থেকে জীবিকার তাগিদে বরিশালের বাবুগঞ্জে এসেছিলেন সাথী আক্তার ও সুমন দম্পতি। ২০০৩ সালের দিকে জীবিকার তাগিদে স্বামীর সাথে বাবুগঞ্জ বন্দরে বসবাস শুরু করেন। পেশা হিসেবে সুইপারের কাজ বেছে নেন। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় বাবুগঞ্জে বসবাস করলেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার মাহমুদ,সমাজসেবক আতিকুর রহমান ও ওসি মিজানুর রহমানের সহযোগিতায় করোনা মহামারির প্রথম ধাপে কিছু খাদ্যসহায়তা ও আর্থিক সহায়তা ছাড়া তাদেও ভাগ্যে তেমন কোন সাহায্য সহযোগিতা জোটেনি।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাথী আক্তারের আকুতি ৫ টি সন্তান নিয়ে যেন মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই হয়। পঙ্গু স্বামী আর ৫টি শিশু সন্তান দিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে সাথী। মাথা গোঁজার নিজস্ব কোন ঘর না থাকায় বাবুগঞ্জ বন্দরের গণশৌচাগারের সেফটি ট্যাংকের উপরে ময়লার দূর্গন্ধ নিয়ে পার করে দিয়েছেন ১৮ টি বছর। কিন্তু সেই ঘরটিও আজ জীর্ণতায় বাসা বেঁধেছে। মেঝেতে শৌচাগারের ময়লার ট্যাংক আর মাথার উপর সামান্য কয়েকটি জীর্ণ টিন। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি আর শৈত্যপ্রবাহে শীতে কাতর হচ্ছে পরিবারটি।
অবহেলিত এ পরিবারটি কেন প্রধানমন্ত্রীল ঘর থেকে বঞ্চিত হয়েছে, এ বিষয় স্থানীয় ইউপি সদস্য জেলানী সাজোয়াল বলেন,সময়ের স্বল্পতায় দ্রুত তালিকা প্রনয়নের ফলে এবং তার জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকায় ভূমিহীন ও গৃহহীন এ পরিবারটি ঘর থেকে বঞ্চিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমীনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, ভূমিহীন ও গৃহহীন হলে তাকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ