Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৪ আষাঢ় ১৪২৮, ০৬ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

১৫ দিনের মধ্যে ভাড়াটিয়াদের তথ্য হালনাগাদ দেয়ার নির্দেশ

নারীদের দিয়ে অপহৃত ব্যক্তির অশ্লীল ভিডিও গ্রেফতার ৬

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৩১ জানুয়ারি, ২০২১, ৬:০১ পিএম

রাজধানীতে অপরাধীরা ভুল তথ্য দিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ কর্মকান্ড ঘটাচ্ছে অপরাধী চক্র। এসব অপরাধ ঠেকাতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ঢাকার সব ভাড়াটিয়ার তথ্য ফের হালনাগাদ করা হবে। অন্যদিকে অপহরণের পর চক্রের নারী সদস্যদের দিয়ে ভিকটিমের অশ্লীল ছবি তুলে রাখতো অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা, যাতে অপহৃত ব্যক্তি মুখ খুলতে না পারে। অপহরণের বিষয়টি পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখাতো অপহরণকারীরা। এমন একটি চক্রের ৬ সদস্য ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের হাতে গ্রেফতার হলে পুলিশ এসব বিষয় জানতে পারে। গত শনিবার রাতে রাজধানীর দক্ষিণখান থানার চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ অপহরণ চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সাদেকুল ইসলাম, ইফরান, মোহাম্মদ আলী রিফাত, কুতুব উদ্দিন, মাছুম রানা ও গোলাম রাব্বি। গতকাল রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার।
তিনি আরো বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রাজধানীর সব বাসার ভাড়াটিয়াদের তথ্য হালনাগাদ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা আবারও নতুন করে রাজধানীর ভাড়াটিয়াদের তথ্য হালনাগাদ করতে যাচ্ছি। অপরাধ দমনে পুলিশের বিভিন্ন কৌশলের অংশ হিসেবে আবারও ভাড়াটিয়া হালনাগাদ শুরু হচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ডিএমপির ৫০টি থানায় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
হাফিজ আক্তার আরো বলেন, গত বছরের ২৯ নভেম্বর রাত সোয়া ৯টার দিকে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন আনোয়ারুল ইসলাম। এ সময় অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা মাইক্রোবাসে দিয়ে কৌশলে আনোয়ারুল ইসলামকে গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে অপহরণকারীরা অপহৃতের স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করেন। মুক্তিপণ পাওয়ার পর তারা আনোয়ারুলকে উত্তরায় ল্যাব এইড হাসপাতালের সামনে ফেলে চলে যায়। এ ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা করে অপহৃতের পরিবার। পরে মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ।
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, অপহরণের ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে চক্রটির সন্ধান পায় গোয়েন্দা পুলিশ। এই চক্রটি রাজধানীতে গত কয়েকদিনে চারজনকে অপহরণ করেছে। তার মধ্যে আনোয়ারুল একজন। প্রাথমিকভাবে অপহরণের শিকার কেউই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেনি। তারা যখন দেখল গোয়েন্দা পুলিশ অভিযোগ পাওয়া মাত্র একের পর এক অভিযান চালিয়ে অপহরণকারীদের গ্রেফতার করছে, তখন আস্থা পেয়ে অভিযোগ নিয়ে ছুটে আসে পুলিশের কাছে। ইতোমধ্যে চারজন অপহৃতই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, অপহরণের পর এই চক্রের নারী সদস্যদের দিয়ে ভিকটিমের অশ্লীল ছবি তুলে রাখা হতো, যাতে ভিকটিম মুখ খুলতে না পারে। যদি এ বিষয়ে পুলিশ অথবা অন্য কারো কাছে অভিযোগ করে তাহলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিকটিমের অশ্লীল ছবি ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখাতো। সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হওয়ার ভয়ে তারা চুপ থাকতো। এছাড়াও, অস্ত্রের মুখে ভিকটিমদের জিম্মি করে রাখা হতো। যার ফলে তারা ভয়ে মুখ খুলতো না।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অপহরণের কয়েকটি ঘটনা আমরা তদন্ত করে দেখেছি, অপহরণকারীরা ভুল তথ্য দিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে তাদের কাজ শেষে পালিয়ে যায়। পরে ওই নির্দিষ্ট বাসায় গিয়ে তাদের খোঁজ পাওয়া যায় না। তাই বাসার মালিকদের বলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রাজধানীর সব ভাড়াটিয়াদের তথ্য হালনাগাদ করতে ডিএমপির ৫০টি থানা ও বিট পুলিশিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ডিএমপি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ