Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৭ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৩ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

বিএসএমএমইউ’র ১১১ চিকিৎসকের চাকরি নিয়ে আদালতের নির্দেশনা

প্রকাশের সময় : ৩০ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ১১১ জন চিকিৎসকের মধ্যে যোগ্যদের কীভাবে চাকরিতে রাখা যায় তা জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের (রোববার) মধ্যে আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত লিভ টু আপিল আবেদন খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের করা রিভিউ আবেদন শুনানিতে গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে চিকিৎসকদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, কামরুল হক সিদ্দিকী, এএম আমিন উদ্দিন ও শরীফ ভূঁইয়া। অপরদিকে বিএসএমএমইউ’র পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, আদালতের আদেশের ভিত্তিতে এসব চিকিৎসককে নিয়োগ দেয়া হলেও হাইকোর্টের রায়ে তা প্রতিফলিত হয়নি। রায়ে বলা হয়েছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এসব পদ তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া এসব চিকিৎসককে নিয়োগের সময় রিটকারী সিন্ডিকেটে ছিল সেই বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হয়নি। তিনি আরো বলেন, মূলত এসব কারণেই ১১১ জন চিকিৎসক লিভ টু আপিল খারিজাদেশের বিরুদ্ধে পৃথক ৫টি রিভিউ পিটিশন দায়ের করেন। সেই আবেদনগুলো একত্রে শুনানিকালে (সোমবার) আদালত তাদের চাকরিতে কীভাবে রাখা যায়, তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জানাতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালের ২৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম সিন্ডিকেটে ২০০ জন মেডিকেল অফিসারের পদ সৃষ্টি করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ১৮ অক্টোবর কিছুসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেন। সেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে স্বাচিপের তৎকালীন মহাসচিব ইকবাল আর্সলান হাইকোর্টে একটি রিট করেন। ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে আদালত এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে আদালত নিয়োগ সংশোধন সাপেক্ষে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, নিয়োগকৃত চিকিৎসকের পরিমাণ যেন দুইশ’ এর বেশি না হয়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ১ মার্চ ১৯৪ শিক্ষককে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যারা পরদিন কাজে যোগ দেন। ২০০৮ সালে সিন্ডিকেটে ১৭৪ জনকে চাকরিতে স্থায়ী করা হয়। ওই স্থায়ীকরণের সময় রিটকারী ইকবালও সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন বলে জানান আবেদনকারী চিকিৎসকরা। তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের পর চিকিৎসকদের অজান্তেই ২০১০ সালের ১৪ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত রিটের প্রেক্ষিতে জারি করা রুল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওই চিকিৎসকদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অবৈধ ঘোষণা করেন। এই মামলায় পক্ষভুক্ত হয়ে ১৭০ জন চিকিৎসক চেম্বার জজ আদালতে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চান। চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে লিভ টু আপিল করতে বলেন। পরে ২০১১ সালে লিভ টু আপিল করেন চিকিৎসকরা। সেই আপিল চলতি বছর ২২ ফেব্রæয়ারি খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। গত ১২ জুলাই লিভ টু আপিল খারিজ করে দেয়া রায়ের অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এরপর আপিলের খারিজাদেশের বিরুদ্ধে ১১১ চিকিৎসক রিভিউ আবেদন করেন। ওই রিভিউ আবেদনের শুনানিকালে আদালত এই আদেশ দেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ