Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০১ ব্শৈাখ ১৪২৮, ০১ রমজান ১৪৪২ হিজরী

করোনায় রেকর্ড গড়েছে সংসদ

শীতকালীন অধিবেশন শেষ

পঞ্চায়েত হাবিব | প্রকাশের সময় : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১২:০১ এএম

করোনা সংক্রমণ এবং এ সংক্রান্ত কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বছরজুড়ে আলোচিত ছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মহামারিকালে এই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিও ছিল চুপচাপ। সংক্রমণের শুরুর দিকে ২৪ মার্চ একটি বৈঠক হয়েছিল। এরপর ৩০ ডিসেম্বর ও সর্বশেষ ২৪ জানুয়ারি বৈঠক করে এ কমিটি। করোনা মহামারিতে রেকর্ডের বছর পার করেছে জাতীয় সংসদ। দেশের ইতিহাসে সংক্ষিপ্ততম অধিবেশন, সংক্ষিপ্ততম বাজেট অধিবেশন এবং সংসদীয় কমিটিগুলোর সবচেয়ে কম সংখ্যক বৈঠক হয়েছে গত ২০২০ সালে।

একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (একাদশ) অধিবেশন সমাপ্ত হয়েছে। অধিবেশন সমাপ্তির আগে সংসদে প্রেসিডেন্টের ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। এ সময় প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ সংসদ কক্ষে প্রেসিডেন্টের গ্যালারি থেকে অধিবেশনের শেষ দিনের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। নতুন বছরের এই প্রথম অধিবেশনে নিয়ম অনুযায়ী ভাষণ দেন প্রেসিডেন্ট। এর ধন্যবাদ প্রস্তাবের উপর সাধারণ আলোচনায় সরকারী দলের সদস্যরা সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের ভূয়শী প্রশংসা করেন।

গতকাল মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশন সমাপ্তির বিষয়ে প্রেসিডেন্টের আদেশ পাঠের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের ইতি টানেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। অধিবেশন সমাপনীর আগে ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশ সামরিক অ্যাকাডেমির প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ সংসদে দেখানো হয়। ১২ কার্যদিবসের এই অধিবেশন শুরু হয় গত ১৮ জানুয়ারি। শুরুর দিন সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সংসদে ভাষণ দেন প্রেসিডেন্টর মো. আবদুল হামিদ। পরে তার ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আনেন প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী। মহামারীকালের এই পুরো অধিবেশন জুড়েই ওই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা।

সাধারণত বছরের প্রথম অধিবেশন দীর্ঘ হয়। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এই অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হয়েছে। সাধারণত কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ঠিক করা হয়। তবে মহামারীর কারণে গত পাঁচটি অধিবেশনের আগে ওই কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। স্বাস্থ্যবিধির বিধিনিষেধের কারণে মহামারীকালের অন্য চারটি অধিবেশনের মত এবারও সীমিত সংখ্যক সংসদ সদস্য অংশ নেন। প্রথম দিন করোনাভাইরাস পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। এরপর প্রতি কার্যদিবসে সর্বোচ্চ ৯০ জনকে পর্যায়ক্রমে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অধিবেশন শুরুর দিন ছাড়া সংসদ সচিবালয়ের কর্মরতদেরও অধিবেশন চলার সময় সংসদ ভবনে প্রবেশ সীমিত ছিল। সুনির্দিষ্ট দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বাইরে কাউকে সংসদে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৩২ জন সংসদ সদস্য প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর ২৫ ঘণ্টা ২৫ মিনিট আলোচনা করেন। এ অধিবেশনে মোট ছয়টি বিল পাস হয়। কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধিতে ৪৬টি নোটিশ পাওয়া যায়, যার মধ্যে একটিও আলোচনায় আসেনি। প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য মোট ৮৪টি প্রশ্ন পাওয়া এসেছে অধিবেশনে, এর মধ্যে তিনি ২৮টি প্রশ্নের উত্তর দেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উত্তর দেওয়ার জন্য মোট এক হাজার ৬৮৯টি প্রশ্ন পাওয়া যায়, যার মধ্যে মন্ত্রীরা উত্তর দিয়েছেন ৮২০টির।

সর্বশেষ আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ১৪ দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু, হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, সরকারী দলের সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, আসলাম হোসেন সওদাগর, কাজী মনিরুল ইসলাম প্রমূখ।

আলোচনায় আমির হোসেন আমু বলেন, আজকে তারা (বিএনপি) দেশের উন্নয়ন দেখে না, বিশ্ব যেখানে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল বলে। আমার দেশের বন্ধুরা যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের প্রতিপক্ষ ছিল তারাই আজকে দল গঠন করে তাদের সাথে জোট নির্মাণ করে, তাদের সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে। তিনি বলেন, ৯৬ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় আসার পর বিজয় মিছিল পর্যন্তকরি নাই। তাদের গায়ে একটা ফুলের টোকা পর্যন্ত দেই নাই। একমাত্র ২০০১ সালে শেখ হাসিনা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। এরপর তারা ক্ষমতায় আসার পর আমরা কি দেখলাম? তারা ভুলে গেল আমাদের আচার- আচরণ। সেই পাকিস্তানী কায়দায় আমাদের ৩৩ হাজার লোককে হত্যা করলো। প্রধান হুইপ নূর-ই আলম বলেন, দুর্নীতিতে যারা পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ছিলেন, তাদের মুখে দুর্নীতির অভিযোগ শুনলে হাসি পায়।

তিনি বলেন, করোনা মহামারিতে রেকর্ডের বছর। দেশের ইতিহাসে সংক্ষিপ্ততম অধিবেশন, সংক্ষিপ্ততম বাজেট অধিবেশন এবং সংসদীয় কমিটিগুলোর সবচেয়ে কম সংখ্যক বৈঠক হয়েছে গত ২০২০ সালে। এর আগে তা হয়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শীতকালীন অধিবেশন

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ