Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০৭ আষাঢ় ১৪২৮, ০৯ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

দেশে বছরে ক্যান্সারে মারা যায় ৯১ হাজার মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১২:০০ এএম

দেশে প্রতি বছর দেড় লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। যার মধ্যে ৯১ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়। এই তথ্য ক্যান্সার সম্পর্কিত অনলাইন ড্যাটাবেজ গ্লোবোক্যানের। তবে বাংলাদেশে এ বিষয়ে নিজস্ব কোন গবেষণা বা তথ্য উপাত্ত নেই। এসব রোগীদের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ৩’শ শয্যা বিশিষ্ট ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। যেখানে প্রতিমাসে গড়ে প্রায় ৪৭ হাজার ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা দেয়া হয়।

এমন পরিস্থিতিতে আজ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হবে ‘বিশ্ব ক্যান্সার দিবস’। ২০০৮ সালে প্রথম এ দিবস পালন শুরু করে ইন্টার-ন্যাশনাল ইউনিয়ন এগেইনেস্ট ক্যানসার কন্ট্রোল (ইউআইসিসি)। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘আই অ্যাম অ্যান্ড আই উইল’ অর্থাৎ আমি আছি, আমি থাকবো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ক্রমবর্ধমান হারে ক্যান্সার রোগী বাড়ছে। কিন্তু সেই হিসাবে হাসপাতাল, সেবাকেন্দ্র, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কিছুই বাড়ছে না। তারা বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা চিকিৎসার স্বল্পতা। এ সমস্যা দূর করতে তাদের পরামর্শ, ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসায় পর্যাপ্ত সরকারি বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দেশে সরকারি পর্যায়ে এটিই একমাত্র ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র। যেখানে সারাদেশে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু এই হাসপাতালে বর্তমানে অনুমোদিত চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২২৪টি। এরমধ্যে অর্থ বরাদ্ধ রয়েছে ১৬৭ জনের। সেখানে ৫৭টি চিকিৎসক পদ শুন্য রয়েছে। হাসপাতাল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করতে ক্লিনারের পদ রয়েছে ১৮০টি। তারমধ্যে কর্মরত আছেন ১০২ জন। সব মিলিয়ে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৯৭৭টি, যারমধ্যে শুন্য পদ রয়েছে ২০৩টি।
এমন পরিস্থিতিতে গত ডিসেম্বর-২০২০ মাসে এই হাসপাতালে ৪৬ হাজার ৮৮৩ জন রোগীকে সেবা দেয়া হয়েছে। যারমধ্যে ভর্তি রোগী ছিল ৭ হাজার ৪২০জন। একই মসে ১৮১জন ক্যান্সার রোগীর অস্ত্রপচার করা হয়েছে। রেডিওথেরাপি দেয়া হয়েছে ৫ হাজার ৮৬৩ জনকে। ডে-কেয়ারে সেবা দেয়া হয়েছে ৬ হাজার ১৪১ জনকে। এরমধ্যে রেডিওথেরাপি নিয়েছেন ২৯৩২ জন এবং কেমো থোরাপি নিয়েছেন ৩২০৯ জন। ডিসেম্বর মাসে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে ৯০২ জনকে এবং মুমূর্ষ হিসাবে ভর্তি করা হয়েছে ৩৩৩ জনকে। একই মাসে বর্হিবিভাগের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে আরও ২৩ হাজার রোগীকে।

এ বিষয়ে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহমেদ বলেন, আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু এভাবে সবাইকে সেবা দেয়া সম্ভব নয়। দেশের ক্যান্সার রোগীদের ন্যূনতম সেবা নিশ্চিত করতে হলে বিভাগীয় পর্যায়ে পৃথক ক্যান্সার হাসপাতাল স্থাপণসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পাশপাশি দেশের মানুষের মধ্যে সচতেনতাও বাড়াতে হবে।

গ্লোবোক্যানের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে বিশ্বে এক কোটি ৮০ লাখ ৭৮ হাজার ৯শ’ ৫৭ জন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ লাখ ৫৫ হাজার ২৭ জন। মৃতদের মথ্যে ফুসফুস ক্যানসারে ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৭ জনের মৃত্যু হয়। যা মোট মৃত্যুর ১৮ দশমিক চার ভাগ। কোলোরেক্টাল ক্যান্সারে মৃত্যু হয়েছে ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৯২ জনের। যা মোট মৃত্যুর ৯ দশমিক ২ ভাগ। স্টোমাকের ক্যান্সারে মৃত্যু হয়েছে ৭ লাখ ৮২ হাজার ৬৮৫ জন। যা মোট মৃত্যুর আট দশমিক দুই ভাগ। লিভার ক্যান্সারে মৃত্যু হয়েছে ৭ লাখ ৮১ হাজার ৬৩১ জনের। যা মোট মৃত্যুর আট দশমিক দুই ভাগ। ব্রেস্ট ক্যান্সারে মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৯ জনের। যা মোট মৃত্যুর ৬ দশমিক ছয় ভাগ। খাদ্যনালীর ক্যান্সারে মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৮ হাজার ৫৮৫ জনের। যা মোট মৃত্যুর ৫ দশমিক তিন ভাগ। প্যানক্রিয়াস ক্যান্সারে মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ৩২ হাজার ২৪২ জনের। যা মোট মৃত্যুর ৪ দশমিক ৫ ভাগ এবং অন্য ক্যান্সারে ৩৪ লাখ ২২ হাজার ৪১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা মোট মৃত্যুর ৩৫ দশমিক আট ভাগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধুমপান, পান-জর্দা-তামাকপাতা খাওয়া, সবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া, শারীরিক ব্যায়াম না করা, শারীরিক স্থূলতা বা বেশি ওজন, অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাব, এক্স-রে রেডিয়েশন, কিছু রাসায়নিক পদার্থ, কিছু ভাইরাস বা অন্যান্য জীবাণুর কারনেই মানবদেহে ক্যান্সার সৃষ্টি হয়। তাই এসব বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ তাদের।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ক্যান্সার


আরও
আরও পড়ুন