Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮, ০৩ রমজান ১৪৪২ হিজরী

রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সঙ্কট

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জ্বলে না চুলা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১২:০৪ এএম

পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় গত দুই মাস ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রাজধানীবাসী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যায়নি। দিনের বেশিরভাগ সময় রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় গ্যাস থাকে না। এখন মনে হচ্ছে নগরবাসীর এই ভোগান্তি আরো দীর্ঘ হচ্ছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (টিজিটিডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী ইকবাল মো. নূরুল্লাহ গত ১৯ জানুয়ারি বলেছিলেন, ২২ জানুয়ারির মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু, এরপরও গ্যাসের স্বল্পতা রয়েই গেছে। রয়ে গেছে ঢাকাবাসীর ভোগান্তি। গৃহিনীরা রান্নাবান্না করতে পারছেন না। কেউ কেউ শেষ রাতে ফজরের আগে ঘুম থেকে উঠে রান্নাবান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন। জানা গেছে, পাইপে কনডেনসেট জমা হওয়ায় শীতে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। স্পট মার্কেট থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি কেনায় সরকারের অনাগ্রহের কারণে এবার এ সমস্যা আরো তীব্র হয়েছে। স্পট মার্কেটে গ্যাসের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যহারে।

এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দিয়েছেন নতুন প্রতিশ্রুতি। তিনি বলেছেন, আশা করা হচ্ছে ‘এ মাসের মধ্যেই’ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। যেহেতু স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম টন প্রতি ৩০ ডলার বেড়েছে, তাই এলএনজির সরবরাহ কমে গেছে। স্বাভাবিকের চেয়ে এলএনজির দাম দ্বিগুণ হওয়ায় আমরা স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কিনিনি। গত কয়েকদিনে আমরা এলএনজির সরবরাহ বাড়িয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমরা এ মাসের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ ৬০০ এমএমসিএফডি’তে (মিলিয়ন কিউবিক ফিট অ্যা ডে) উন্নীত করতে পারব।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, শনিরআখড়া, মাতুয়াইল, ধলপুর, পূর্ব রাজাবাজার, জিগাতলা, ওয়ারি, মোহাম্মপুর, আদাবর, ভাটারা, বাড্ডা, গেন্ডারিয়া, তুরাগ, উত্তর খান, দক্ষিণ খান, মিরপুরের কিছু অংশ, পল্লবী ও পুরান ঢাকার কয়েকটি এলাকার বেশ কয়েকজন অধিবাসী জানিয়েছেন যে তারা গত কয়েক মাস থেকে তীব্র গ্যাস সঙ্কটে রয়েছেন এবং গত মাসে এই সঙ্কট তীব্রতর হয়েছে। ঢাকা শহরে গ্যাস সরবরাহ করা তিতাস গ্যাসের গ্রাহক সংখ্যা ২৮ লাখ ৭৪ হাজারের মতো। তিতাসের এমডি নূরুল্লাহ বলেছেন, তাদের যে পরিমাণ গ্যাস রয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তিতাসের আরেক কর্মকর্তার দাবি, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) কারিগরি সমস্যার কারণে ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহে ৮০ থেকে ৯০ এমএমসিএফডি ঘাটতি রয়েছে। গত বুধবার যেখানে ১ হাজার ৭৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়ার কথা ছিল, সেখানে ১ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২০০ এমএমসিএফডি গ্যাস বাসা-বাড়িতে ব্যবহৃত হয়। রাজধানীর যাত্রাবাড়ির গৃহিনী হেনা বেগম বলেছেন, পরিবারের সদস্যদের জন্যে নাশতা বানাতে গত এক মাস ধরে তিনি ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠেন। কারণ প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে গ্যাস সরবরাহ কমতে থাকে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ থাকে না বলে তিনি জানিয়েছেন।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) এক কর্মকর্তা বলেছেন, দেশে গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৭০০ এমএমসিএফডি। কিন্তু, পাওয়া যাচ্ছে ২ হাজার ৮০০ এমএমসিএফডি থেকে ২ হাজার ৯০০ এমএমসিএফডি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: তীব্র-গ্যাস-সঙ্কট
আরও পড়ুন