Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

ছাত্র ইউনিয়ন ১১ দফায় ‘শেখ মুজিব’ লিখতে দেয় নাই : তোফায়েল আহমেদ

প্রকাশের সময় : ৩১ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : ‘১৯৬৯ সালের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফায় শেখ মুজিবসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি চাই’ এ কথায় ‘শেখ মুজিব’ কথাটি লিখতে ছাত্র ইউনিয়ন মতিয়া গ্রুপ ও ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপ আমাদেরকে লিখতে দেয় নাই বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘১৯৬৯ সালে আমাদের যে ১১ দফা কর্মসূচি ছিলো শেখ মুজিবসহ রাজবন্দিদের মুক্তি চাই, কিন্তু আমরা শেখ মুজিব কথাটি রাখতে পারিনি। ছাত্র ইউনিয়ন মতিয়া গ্রুপ, ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপ আমাদেরকে সেই কথাটি লিখতে দেয় নাই। তারা বলেছে আমরা মানি না।’
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে এক আলোচনা সভায় তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ এ অভিযোগের কথা বলেন। জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী যুবলীগের মাসব্যাপী সংবাদচিত্র কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই আন্দোলনটি এক দফায় পরিণত হয়েছিলো বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চাই। এখন তারা রামপাল নিয়ে কথা বলে। এ যদি হয় তাদের অবস্থা তাহলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হতো না।
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে ‘বাম রাজনীতিবিদ’দের অবস্থানের কথা তুলে ধরে তোফায়েল বলেন, আজকে যারা রামপাল নিয়ে কথা বলছে, আমার অনেক বন্ধু তারা বাম রাজনীতি নিয়ে কথা বলে। বিএনপি নেত্রী রামপাল নিয়ে অনেকগুলো কথা বলেছেন। আমার যারা বন্ধু বাম রাজনীতি করে, বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমার জীবনে অনেক ঘটনা আছে।
বাম রাজনীতির অদূরদর্শীতা দেখাতে গিয়ে তিনি বলেন, মনি সিংহ ‘৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু আমাদের চিঠি দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা বলেছিলেন। কিন্তু আমরা সমর্থন করতে পারি নাই। আমরা বঙ্গবন্ধুকে চিনতে পারি নাই। কিন্তু বাংলার মানুষ ঠিকই চিনতে পেরেছে।
তোফায়েল বলেন, গতকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশে এসেছিলেন। বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন। এমন একটি বৈঠকে আমারও থাকার সুযোগ হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালে আপনাদের মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন নিক্সন সরকার বিরোধিতা করছিলো সত্যি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ আপনাদের সমর্থন করেছে। আমিও তখন আপনাদের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক ছিলাম।
খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যে নেতা দেশ ও মানুষের কথা বিবেচনা করে জন্মদিন পালন করতেন না, বরং বলতেন, যে দেশের মানুষ অধিকারের কথা বলতে গেলে গুলি খায়, অভাবে না খেয়ে থাকে সে দেশে আমার জন্মদিনেই কী আর মৃত্যুদিনেই বা কী! সে দেশের মানুষ হয়ে সে নেতার মৃত্যুদিনে কীভাবে মিথ্যা জন্মদিন পালন করেন খালেদা জিয়া।
জঙ্গি দমন অভিযান প্রসঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হলি আর্টিজানে হামলার সমালোচনা করে তিনি বলেছিলেন এসব সাজানো। পরবর্তীতে কল্যাণপুরে জঙ্গিদের উপরে পুলিশের সফল অভিযানের পর তিনি বললেন; পরিকল্পিতভাবে পেছন দিক দিয়ে গুলি করে তাদের হত্যা করা হয়েছে। একইভাবে নারায়ণগঞ্জের সফল পুলিশি অভিযানের পর যে বক্তব্য দিলেন এতেই প্রমাণ হয় তিনি কী চান। জনগণের সঙ্গে তার পার্থক্য কোথায়।
এ সময় সকল ষড়যন্ত্র ও অসঙ্গতিকে মোকাবেলা করে বঙ্গন্ধুর সোনার বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে বাণিজ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী, বেসরকারী টিভি ‘৭১’র প্রধান মোজাম্মেল বাবু ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ