Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৪ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

করেনা মহামারির নিষেধজ্ঞার মধ্যেও বরিশাল মহানগরীতে বিপুল কোচিং সেন্টার স্বরব

বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৫:১৭ পিএম

করোনা মহামারিকালে সরকারী নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই বরিশাল মহানগরীতে অর্ধ শতাধীক কোচিং সেন্টারে ছাত্রÑছাত্রীদের পাঠদান চলছে। প্রায় প্রতিটি কোচিং সেন্টারেই সরকারী ও এমপিও ভ’ক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমন্ডলী স্কুল ও কলেজের ছাত্রÑছাত্রীদের পাঠদান করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বেশীরভাগ কোচিং সেন্টারেই এক বেঞ্চে ৩-৪ জন পর্যন্ত ছাত্রÑছাত্রী ক্লাস করছে। অথচ গত বছর ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কোচিং সেন্টারগুলোও বন্ধের নির্দেশ জারী করে সরকার। যা এখনো বহাল রয়েছে।

কিন্তু এর পরেও গত মাসের শুরু থেকেই খোদ বরিশাল মহানগরীর কোচিং সেন্টারগুলো খুলতে শুরু করে। প্রায় প্রতিটি কোচিং সেন্টারই রাস্তায় রাস্তায় পোষ্টার লাগিয়ে এবং নানা মাধ্যমে ভর্তির প্রচারনাও অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করেনি অদ্যাবধী। অথচ সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার কোন ঝুকি গ্রহন করেনি এখনো।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর সরকারী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আসেপাশেই ২৩টি কোচিং সেন্টার ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। আইনের তোয়াক্কা না করে সরকারী ও বেসরকারী স্কুলের শিক্ষকরাও প্রকাশ্যে এসব কোচিং বাণিজ্যে সংযূক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতোপূর্বে জেলা প্রশাসনের কয়েক দফা অভিযানেও এসব কোচিং সেন্টার বন্ধ হয়নি। এমনকি মানহীন অনেক কোচিং সেন্টার নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। বরিশাল জেলা স্কুলের কয়েকজন শিক্ষকের বাসায়ও প্রাইভেট পড়ানোর নামে কোচিং সেন্টার পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
জেলা স্কুলের শিক্ষক জাকির হোসেনের বাসায় চলছে কোচিং সেন্টার। পাশেই রয়েছে সহিদ ও মিজানুর রহমানের কোচিং সেন্টার। এছাড়া সৃজন কোচিং সেন্টারের রুবেল, আকাশ হোসেনের লাইসিয়াম, সুমনের দি ব্রাইট একাডেমি, মোঃ ইদ্রিস হোসেনের বায়োলজি একাডেমি, ইঞ্জিনিয়ার তানজিল খানের সাইন্স একাডেমি, নাহিদ আলÑবাশারের বিজ্ঞান একাডেমি, মোঃ তাইজুল ইসলামের কোচিং সেন্টার, জেনন মিয়ার এবিসি একাডেমি, ড্যাফোডিল একাডেমিক কোচিং সেন্টার, সৈকত আহমেদের সোল একাডেমি, কবির হোসেন ও দেলোয়ারের ফিজিক্স একাডেমি, কেএম.জালাল রুমীর জালাল একাডেমি, আনিচের অথেনটিক, রাইট একাডেমি, আইকন, ইউসিসি, সিপিটি একাডেমি, প্রাইমেট, ইংলিশ টিউটেরিয়াল হোম, ম্যারিয়ান চাইল্ড এন্ড কোচিং সেন্টারের মত আরও অনেক সেন্টার শিক্ষার্থীদের ভীড় এখন ওপেন-সিক্রেট। এছাড়া সরকারী ও বেসরকারী স্কুলের অনেক শিক্ষকই কোনরকম সাইনবোর্ড না টানিয়ে বসত ঘরেরই কোচিং সেন্টার খুলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ ২০১৯ সালে সরকারি ও বেসরকারি সকল স্কুল এবং কলেজের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকারের জারি করা নীতিমালাকে বৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন। কিন্তু উচ্চ আদালতের সে আদেশ মানছে না বরিশাল মহানগরীর অনেক কোচিং সেন্টার মালিকরা। নগরীর অভিভাবক সোনিয়া ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, শ্রেণী কক্ষে যদি শিক্ষকরা ঠিকমত পাঠদান করতো তাহলে ছেলে মেয়েদের আর কোচিং করাতে হতো না। প্রতি মাসে আমার মেয়ের পেছনে কোচিং ফি বাবদ অনেক টাকা খরচ হলেও অসহায়। একই বক্তব্য পাওয়া গেছে আরো একাধীক অভিভাবকের কাছ থেকেও।
তবে এসব বিষয়ে একাধীক কোচিং সেন্টারের মালিকের সাথে আলাপ করা হলে প্রায় সকলেই ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির কথা স্বীকার করলেও কোন ক্লাস শুরু হয়নি বলে দাবী করেন। অথচ সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরিত গলিতে কোচিং সেন্টারগুলো শুরু ও ছুটির সময় সাধারন মানুষের চলাফেরাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ছাত্রÑছাত্রীদের ভীড়ে।
এব্যপারে বরিশালের জসিম উদ্দিন হায়দারের সাথে তার সেল ফোনে আলাপ করা হলে তিনি জানান, ‘এ ব্যপারে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে’।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন