Inqilab Logo

সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৩ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

মঙ্গলের কক্ষপথে অবস্থান নিয়েছে আমিরাতের মহাকাশযান

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৮:২৫ পিএম

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পাঠানো মহাকাশযান মঙ্গলবার থেকে মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে ঘুরতে শুরু করেছে। এটি হচ্ছে আরব বিশ্বের প্রথম মহাকাশ মিশন। আগামী দেড় সপ্তাহের মধ্যে সেখানে আরও দুইটি রোবোটিক এক্সপ্লোরার পৌঁছে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ইউএই’র পাঠানো এই মহাকাশযানের নাম ‘আমাল’। আরবি এই শব্দটির অর্থ ‘আশা’। প্রতি মৌসুম জুড়ে মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডল ম্যাপিংয়ের লক্ষ্যে নিয়ে এটি সেখানে পৌঁছাতে প্রায় সাত মাসে ৩০ কোটি মাইল ভ্রমণ করেছিল। বুধবার সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে চীনের সাহায্যকারী মহাকাশযান যা, ল্যান্ডার হিসাবে কাজ করবে। আগামী মে মাস অবধি আমাল মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে ঘুরতে থাকবে। তার পরে এর রোভার পৃথক হয়ে গ্রহটির পৃষ্ঠে অবতরণ করবে এবং সেখানে জীবনের চিহ্ন সন্ধানের চেষ্টা করবে।

আগামী সপ্তাহে সেখানে যাবে মার্কিন মহাকাশযান ‘পারসেভারেন্স’। সেটি মঙ্গল গ্রহে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারী অবতরণ করার কথা রয়েছে। এক দশক দীর্ঘ মার্কিন-ইউরোপীয় প্রকল্পের এটি হচ্ছে প্রথম ধাপ, যা মঙ্গল থেকে পাথর নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসবে। এর পরে সেই পাথর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

এর আগে মঙ্গল গ্রহে প্রেরিত মিশনের প্রায় ৬০ শতাংশই বিভিন্ন কারণে সফলতার মুখ দেখতে পায়নি। এই মিশনে সফল হলে চীন মঙ্গল গ্রহে অবতরণকারী দ্বিতীয় দেশ হবে। এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার সফলতা প্রায় প্রায় ৪৫ বছর আগে। এর পরেও তারা আরও আটবার মঙ্গলগ্রহে সফল মিশন পরিচালনা করে। যুক্তরাষ্ট্রের নাসার একটি রোভার এবং ল্যান্ডার এখনও মঙ্গলের পৃষ্ঠে কাজ করছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য, এটি পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে মিশন পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের প্রথম উদ্যোগ। যার ফলে এটি তাদের জন্য জাতীয় গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েকদিন ধরে, পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার বুর্জ খলিফা সহ আমিরাত জুড়ে ল্যান্ডমার্কগুলো আমালের প্রত্যাশিত আগমনকে চিহ্নিত করার জন্য লাল আলোয় আলোকিত হয়েছিল। এই বছর দেশটির পঞ্চাশতম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী হওয়ায়, তারা এই মিশনের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য এই উচ্চাভিলাষী মিশনের সাফল্য তাদেরকে দুর্দান্তভাবে উৎসাহী করবে। দেশটির প্রথম নভোচারী ২০১৯ সালে রাশিয়ানদের সাথে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাত্রা করেছিলেন। তবে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র তারও ৫৮ বছর আগে মহাকাশে নভোচারী পাঠাতে সক্ষম হয়।

আমালের উন্নয়নে, সংযুক্ত আরব আমিরাত একা চেষ্টা না করে বা মহাকাশযান কেনার পরিবর্তে আরও অভিজ্ঞ অংশীদারদের সহযোগিতা নেয়ার পথ বেছে নিয়েছিল। তাদের প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীরা কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বার্কলে এবং অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাথে কাজ করেছিলেন।

গাড়ির সমান আকারের আমালের নির্মাণ ও উড্ডয়নে ২০ কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় হয়েছে। এটি মঙ্গল গ্রহে চালাতে আরও ব্যয় যুক্ত হবে। তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযাত্রাগুলো তাদের জটিল মহাকাশযানগুলোর কারণে আরও বেশি ব্যয়বহুল। নাসার ‘পারসেভারেন্স’ মিশনে ব্যয় হয়েছে মোট ৩০০ কোটি ডলার।

সাতটি শেখ শাসিত রাজ্যের ফেডারেশন সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের বিজ্ঞানী ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে এই মিশনটি গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে তারা তেল নির্ভরতা কমিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে চেষ্টা করছে। সূত্র: এপি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সংযুক্ত আরব আমিরাত


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ