Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১২ জুন ২০২১, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, ৩০ শাওয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

লাদাখ নিয়ে ভারত-চীন সমঝোতা আসলেই হচ্ছে?

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৪:৩০ পিএম

লাদাখ নিয়ে ভারত ও চীনের সমঝোতা হয়েছে বলে বুধবার ভারতের সংসদে দাবি করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি জানান, প্যাংগং লেকের উত্তর ও দক্ষিণ থেকে দুই দেশের সেনা সরবে এবং আগের অবস্থানে যাবে। এদিকে, আজ থেকে পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার বিভিন্ন এলাকা থেকে দু’দেশ সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে বলে জানিয়েছে চীন।

তবে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করছে না কোন দেশই। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই দেশের কোর কম্যান্ডার পর্যায়ের বৈঠকে সেনা সরানো নিয়ে মতৈক্য হয়েছে। দুই সরকারের সম্মতিতে যে মাপদণ্ড তৈরি হয়েছিল তা মেনেই প্যাংগং থেকে সেনা সরানো নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। বুধবারও বৈঠক হয়েছে। তবে এখনো সেনা সরানোর কাজ শুরু হয়নি। সেনা ও কামান সরাতে কয়েকদিন সময় লাগে। তাই অন্তত তিন-চার দিন সময় লাগবেই। আর আলোচনায় এক সপ্তাহ থেকে দশদিনের মধ্যে সেনা সরানোর কাজ শুরু হবে বলে ঠিক হয়েছে।

এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত লেফটান্যান্ট জেনারেল উৎপল ভট্টাচার্য ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, না আঁচালে বিশ্বাস নেই। সেটাই মনে পড়ে যাচ্ছে। আগে ভারত ফিঙ্গার তিন পর্যন্ত ছিল। ফিঙ্গার চার থেকে আট পর্যন্ত এলাকা কারো অধিকারে ছিল না। সেখানে ভারতীয় সেনা পেট্রোলিং করতে পারত। কিন্তু চীন এসে ফিঙ্গার চার পর্যন্ত এলাকা দখল করে নেয়।’ তার মতে, ‘এখন তাদের ফিঙ্গার পয়েন্ট আটে ফিরতে হবে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, সেনা সরালেও চীন ট্যাঙ্ক ইত্যাদি রেখে যায়। যাতে তারা দরকার হলেই দ্রুত চলে আসতে পারে। এখানে সেনা প্রত্যাহার মানে সব কিছু নিয়ে আগের অবস্থানে ফিরতে হবে।’

বিজেপি নেতা ব্রিগেডিয়ার অনিল গুপ্তার মতে, ‘সমঝোতা হয়েছে। এখন বাস্তবে কীভাবে সেনা সরানো যায় সেটা দেখতে হবে।’ তার প্রশ্ন, ‘ভারত কী করে সেনা সরাবে? সব পাস বরফে ঢাকা। এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তারা যেতে পারবে। চীনকে সেনা ও কামান সব সরাতে হবে।’ ব্রিগেডিয়ার রাহুল ভোঁসলের মতে, ‘এই সমঝোতা শুধু প্যাংগং এর উত্তর ও দক্ষিণ তীর নিয়ে হয়েছে। বাকি জায়গায় যে বিরোধ রয়েছে তা নিয়েও দ্রুত সমঝোতায় আসতে হবে।’

লেফটান্যান্ট জেনারেল পি এস পান্নু একটি টিভি চ্যানেলে বলেছেন, ‘দুই দেশ সেনা সরানোর কথা বলছে, এটা খুবই আশার কথা। কিন্তু সাত থেকে নয় মাস ধরে সেনা সেখানে আছে। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। দুই দেশের সেনার মধ্যে আস্থার অভাব আছে।’ তার মতে, ‘ভারত কিছু জায়গা, বিশেষ করে কৈলাস রেঞ্জ থেকে সরে গেলে চীন সেখানে চলে আসতে পারে। তখন কী হবে? তাই চীনকে আগে সেনা ও কামান সরাতে হবে। চীনকে ফিঙ্গার ৮ থেকেও আরো সরতে হবে। প্রতিটি পদক্ষেপ যেন রেকর্ড করা থাকে।’

রাজনাথের দাবি, ভারত তার এক ইঞ্চি জমিও হারায়নি। প্যাংগং লেকের উত্তরের তীর থেকে চীনের সেনা পূর্ব দিকে নিজেদের স্থায়ী শিবিরে যাবে। আর ভারতের সেনাও ফিঙ্গার পয়েন্ট চার থেকে সরে গিয়ে স্থায়ী শিবিরে ফিরে যাবে। তবে সেনা সরবে পর্যায়ক্রমে। ফলে ফিঙ্গার পয়েন্ট চার থেকে আট পর্যন্ত কারো অধিকারে থাকবে না। পেট্রোলিং এখন বন্ধ থাকবে। তিনি জানিয়েছেন, আলোচনা চলতে থাকবে। আরো কিছু বিষয়ের সমঝোতা হওয়ার বাকি। ভারত জানিয়ে দিয়েছে, দুই পক্ষকে এলএসি মানতে হবে, কেউ একতরফা কোনো পরিবর্তন করতে পারবে না এবং কোনো জমি দখল করতে পারবে না। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুই দেশের সেনা কর্তারা আবার আলোচনায় বসে বাকি বিষয়ে সমঝোতায় আসার চেষ্টা করবেন।

গত এপ্রিল-মে মাস থেকে পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ঢিল ছোড়া দূরত্বে দাঁড়িয়ে রয়েছে দু’দেশের সেনা। ঘটেছে একাধিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গত ২৪ জানুয়ারি চিন সীমান্তের মলডো-তে নবম দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছিলেন দু’দেশের সেনাকর্তারা। তার পরে নয়াদিল্লি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, দু’পক্ষই দ্রুত সেনা প্রত্যাহার করার প্রশ্নে সম্মত হয়েছে। ওই বৈঠকের প্রায় আড়াই সপ্তাহের মাথায় চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সিনিয়র কর্নেল উ চিয়াং আজ বিবৃতি দিয়ে জানালেন, প্যাংগং লেকের দক্ষিণ ও উত্তর তীরে চিন ও ভারতের যে সেনা মোতায়েন রয়েছে, তারা আজ থেকে সুশৃঙ্খল ভাবে ও সমতা বজায় রেখে পিছিয়ে যেতে শুরু করেছে। ভারত ও চিনের মধ্যে নবম পর্যায়ের যে সেনা বৈঠক হয় তার ভিত্তিতেই ওই নিয়েছে পদক্ষেপ নিয়েছেউভয় পক্ষ।

তবে এ বিষয়ে নীরব নরেন্দ্র মোদি সরকার। উল্টো বৃধবার সাবেক সেনাপ্রধান তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভি কে সিংহের মন্তব্যে অস্বস্তিতে শাসক শিবির। ভি কে সিংহ বলেছিলেন, চীন সেনা দশ বার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পার হলে, ভারত পার হয় ৫০ বার। যে বক্তব্য হাতিয়ার করে বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ক টুইট করে, ভারত যে নিয়ন্ত্ররেখা মেনে চলে না, তা ওই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট। সূত্র: ডয়চে ভেলে, টিওআই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত-চীন


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ