Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৯ আষাঢ় ১৪২৮, ১১ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

ভারতীয় অ্যাপ ‘কু’ নিয়ে বিতর্ক, নেপথ্যে চীন?

ইশতিয়াক মাহমুদ | প্রকাশের সময় : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৭:৫০ পিএম

টুইটারে বিকল্প হিসাবে তৈরি করা হয়েছে ভারতের নিজস্ব অ্যাপ ‘কু’। সম্প্রতি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বেশ কিছু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিজেপি’র বেশ কয়েক জন নেতা এবং কেন্দ্রের কিছু মন্ত্রণালয় এখানে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এই ভারতীয় অ্যাপের গ্রাহক সংখ্যা। তবে অ্যাপটির বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপন তথ্য ফাঁস করার অভিযোগও উঠেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, চীনের কাছে ভারতীয় ব্যবহারকারীদের তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে এই অ্যাপের মাধ্যমে।

‘কু’ অ্যাপের সহ-নির্মাতা ময়াঙ্ক বিদায়াতকা জানিয়েছেন, গত ৬ মাসে ৪ গুণ বেড়েছে এই অ্যাপের গ্রাহক সংখ্যা। তার দাবি এই অ্যাপ ডাউনলোড করেছেন ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ। আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা তার। যদিও এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট ময়াঙ্কের দেয়া পরিসংখ্যানকে পুরোপুরি সমর্থন করছে না। সেখানে জানানো হয়েছে ‘কু’-এর গ্রাহক সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে।

ভারতের প্রথম সারির কিছু মন্ত্রী, গায়ক, ক্রীড়াবিদ, অভিনেতা ইতিমধ্যেই যোগ দিয়েছেন এই নেটমাধ্যমে। সেই তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ এবং পীযূষ গয়াল। কেন্দ্রের ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় অ্যাকাউন্ট খুলেছে সেখানে। এ ছাড়া মাই জিওভি, ভারতীয় ডাক, পূর্ব রেলওয়ের মতো সংস্থাও অ্যকাউন্ট খুলেছে সেখানে। ক্রিকেটার অনিল কুম্বলে, জাভাগল শ্রীনাথ, অভিনেতা আশুতোষ রানা, গায়ক জসবিন্দর সিংহ, কঙ্গনা রানাউত, সদগুরু-র মতো ব্যক্তিত্বরাও এসেছেন এই ভারতীয় অ্যাপে। একধিক ভারতীয় ভাষা বেছে নেয়ার সুযোগ রয়েছে সেখানে। ২০২০ সালের অগস্টে ‘আত্মনির্ভর অ্যাপ চ্যালেঞ্জে’ দ্বিতীয় স্থান পেয়েছিল ‘কু’। এই অ্যাপ নিয়ে উন্মাদনা বেড়েই চলেছে।

কিন্তু তারপরেও বিতর্ক তাড়া করছে এই অ্যাপটিকে। ‘কু’-এর সঙ্গে চীনের যোগাযোগের অভিযোগও। কারণ অ্যাপের মালিকানায় অংশীদারিত্ব রয়েছে চীনের এক সংস্থার। ফলে অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, এই অ্যাপের মাধ্যমে ভারতীয়দের তথ্য চলে যাচ্ছে চীনের কাছে। যদিও ‘কু’-এর অন্যতম নির্মাতা অপ্রমেয়া রাধাকৃষ্ণের দাবি, চীনের সংস্থাটি নিজেদের অংশীদারিত্ব বিক্রি করে দিচ্ছে। ফলে এই অ্যাপের মালিকানা পুরোপুরি ভারতীয়দের হাতে চলে আসবে।

শুধু এটাই নয়, ‘কু’-এর বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগ উঠেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটি হল, এর সঙ্গে তুলনা হচ্ছে ‘ম্যাস্টোডন’ বা ‘পার্লার’ জাতীয় অ্যাপের সঙ্গে। আমেরিকার দক্ষিণপন্থীদের মধ্যে জনপ্রিয় এই নেটমাধ্যমগুলো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর পক্ষে প্রচারে বড় দায়িত্ব নিত। ঠিক একই রকম ভাবে ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের নানা কাজকর্মের পক্ষে প্রচারও নাবি চালাচ্ছে ‘কু’। অনেকেই এমনটাই দাবি করেছেন। প্রধানমন্ত্রীসহ বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের বহু মন্ত্রী থেকে বিজেপি’র অনেক নেতা-নেত্রীর বক্তব্য ইতিমধ্যেই অ্যাপটির ‘ট্রেন্ডিং’ বিভাগে স্থান পেয়েছে। সেই বিভাগেই স্থান পেয়েছে ‘ভারতে টুইটার নিষিদ্ধকরণ’-এর দাবিও।

কয়েক বছর আগে এক ফরাসি সংস্থা তাদের তদন্তে দেখিয়েছিল, আধার কার্ডের তথ্য কী ভাবে ফাঁস হয়ে যেতে পারে। তারাই ‘কু’ অ্যাপের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে, এর মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যেতে পারে ব্যবহারকারীর জন্ম তারিখ, ই মেইল আইডি, ফোন নম্বরের মতো গোপন তথ্য। ফরাসি তদন্তকারী সংস্থার অন্যতম প্রধান রবার্ট ব্যাপতিস্তে গত বুধবার রাতে একটি ছবি প্রকাশ করে দেখান, কী ভাবে ‘কু’ থেকে এক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য তিনি জানতে পেরেছেন। শুধু তাই নয় তিনি জানান, মাত্র আধ ঘণ্টাতেই অ্যাপটির নিরাপত্তাবেষ্টনী তিনি ভেঙে ফেলতে পেরেছেন। সূত্র: টিওআই, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত-চীন


আরও
আরও পড়ুন