Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ০৭ বৈশাখ ১৪২৮, ০৭ রমজান ১৪৪২ হিজরী

ধুনটে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ

৪ পুলিশসহ আহত ১৫

বগুড়া ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১২:০৪ এএম

বগুড়ার ধুনটে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে ধুনট উপজেলা পরিষদ সড়কে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুলিশের ৪ সদস্য এবং যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সভাপতিসহ উভয় পক্ষের ১১ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

জানা গেছে, ধুনট উপজেলা পরিষদের এডিপির কাজে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, জাইকা প্রকল্পে ৫০ লাখ টাকা, রাজস্ব খাতে ৫০ লাখ টাকাসহ টিআর, কাবিখা ও কাবিটা, বয়ষ্কভাতা, বিধাব ভাতাসহ বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। প্রতিটি প্রকল্পের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাতক আব্দুল হাই খোকন। কিন্তু সভাপতির দায়িত্বে থাকলেও আব্দুল হাই খোকন দীর্ঘদিনেও এসব প্রকল্পে স্বাক্ষর না করায় সরকারী কোটি টাকার প্রকল্প ফেরত যাওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ১০টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ধুনট উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় উপস্থিত হলেও আব্দুল হাই খোকন উপস্থিত না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আগামী জুন মাসের মধ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে সরকারি টাকা ফেরত যাবে। এ কারণে গত বৃহস্পতিবার ১০ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত একটি পত্রে ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকনের বিরুদ্ধে আনাস্থা জ্ঞাপন করেন। খবর পেয়ে আব্দুল হাই খোকন ১০টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে শনিবার ধুনট উপজেলা পরিষদে এক সমঝোতার উদ্যোগ নেন। শনিবার সকাল ১০ টায় ধুনট উপজেলা পরিষদের সমঝোতার বৈঠকে ইউএনও সঞ্জয় কুমার মোহন্ত, এমপির প্রতিনিধি হিসেবে তার ছেলে আসিফ ইকবাল সনি, গোপালনগর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন, এলাঙ্গী ইউপি চেয়ারম্যান এমএ তারেক হেলাল, মথুরাপুর ইউপি চেয়ারম্যান হারুনর রশিদ সেলিম সহ ১০টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপস্থিত হন। কিন্তু সমঝোতার বৈঠক থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকনকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি উপস্থিত না থাকায় সমঝোতা সম্ভব হয় না।
সমঝোতা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ৬ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে পুলিশের এসআই প্রদীপ কুমার, এসআই মজিবর রহমান, কনস্টেবল মোজাফফ্র, সবুজ এবং ধুনট উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ভিপি শেখ মতিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাউদ্দৌলা রিপন, ধুনট উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকারিয়া খন্দকার, ধুনট পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুজন সাহাসহ উভয়পক্ষের ১১ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
ঘটনার কারণ প্রসঙ্গে মথুরাপুর ইউপি চেয়ারম্যান হারুনর রশিদ সেলিম বলেন, ধুনট উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন প্রতিটি প্রকল্পে অর্ধেক ভাগ চান। এ কারনে দীর্ঘদিনেও কোন প্রকল্পই তিনি অনুমোদন করেননি। এছাড়া তার সমন¦য়হীনতার কারনের গত অর্থ বছরে মসজিদ সংষ্কার প্রকল্পের ৬০ লাখ টাকা ফেরত গেছে। এবারও সরকারি প্রকল্পগুলো ফেরত যেতে বসেছে। এসব কারণে ১০টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তার প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেন। অনাস্থাজ্ঞাপনের চিঠি আজ রোববার বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দাখিলের সংবাদ শুনে আব্দুল হাই খোকন শনিবার সমঝোতার বৈঠকের ঘোষণা দেন। কিন্তু তিনি উপস্থিত না হয়ে ক্যাডার বাহীনী দিয়ে চেয়ারম্যানদের উপর হামলার পরিকল্পনা করেন। তখন আমাদের বাঁচাতে দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত হলে তারা আমাদের লোকজনের উপর হামলা চালায়।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আগামী জুন মাসের মধ্যে সরকারী প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন না হলে ফেরত যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে একাধিকবার উপজেলা অবগত করলেও তিনি প্রকল্পগুলো অনুমোদন করেনি। সর্বশেষ শনিবার আবারও সমঝোতার বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি। বৈঠক চলাকালে উপজেলা পরিষদের বাহিরে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, সংঘর্ষে পুলিশের ৪ সদস্য আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিতে ৬ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আ.লীগে-সংঘর্ষ

আরও পড়ুন