Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ২৯ চৈত্র ১৪২৭, ২৮ শাবান ১৪৪২ হিজরী

রোনালদোর সামনে অনন্য অর্জনের হাতছানি

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১২:০১ এএম

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে পোর্তোর মাঠে ২-১ গোলে হারের পর লিগে গত রাউন্ডে নাপোলির মাঠেও ১-০ ব্যবধানে হার। দুই ম্যাচেই নিষ্প্রভ ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। অবশেষে ছন্দে ফিরলেন পর্তুগিজ তারকা। তার জোড়া হেড থেকে পাওয়া গোলে জয়ে ফিরল জুভেন্টাস। গতপরশু রাতে ইতালিয়ান সিরি ‘আ’র পয়েন্ট তালিকার তলানির দল ক্রোতোনেকে উড়িয়ে তিন নম্বরে উঠল আন্দ্রেয়া পিরলোর দল। আলিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছে শিরোপাধারীরা। দলের হয়ে অপর গোলটি করেন ওয়েস্টন ম্যাককেনি। এই জয়ে লিগ টেবিলের তিনে উঠে এলো ওল্ড লেডিরা। ২২ ম্যাচে ১৩ জয় ও ছয় ড্রয়ে জুভেন্টাসের পয়েন্ট হলো ৪৫। ২৩ ম্যাচে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে এসি মিলান দুইয়ে, ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে ইন্টার মিলান শীর্ষে আছে। মিলানের দুই দলের সমান ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে চারে আছে রোমা।
নিজেদের মাঠে প্রথমে কিছুটা খেই হারানো ফুটবল উপহার দেয় জুভরা। সহজ সুযোগ হারান রোনালদোও। তবে মাত্র আট মিনিটের ববধানে দুবার হেডে বল জালে জড়ান পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। ইন্টার মিলানের রোমেলু লুকাকুকে (১৭) ছাড়িয়ে চলতি আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় চূড়ায় উঠে গেলেন রোনালদো। ১৯ ম্যাচে তার গোল হলো ১৮টি। তবে ম্যাচটির মাহাত্ম বহুগুণে বেড়ে যাবে আরেকটি পরিসংখ্যানে চোখ বুলালে। বর্তমানে ইতালিয়ান সিরি ‘আ’তে খেলা সবগুলো দলের বিপক্ষে গোল করার স্বাদ নেওয়া হয়ে গেল পর্তুগিজ যুবরাজের!
২০১৮ সালের বিশ্বকাপের পর রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্টাসে পাড়ি জমান রোনালদো। গোলক্ষুধা সঙ্গে করেই গায়ে জড়ান তুরিনের বুড়িদের জার্সি। এরপর ক্ষুধা নিবারণে একের পর এক প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়া। ২০১৮-১৯ মৌসুমে থিতু হতে খানিকটা সময় লাগায় সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৩ ম্যাচে ২৮ গোল নিয়ে তুষ্ট থাকতে হয় তাকে।
পরের মৌসুমের শুরুতেও ‘গোলমেশিন’ রোনালদোকে পাওয়া যায়নি। তবে মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে বিপক্ষ দলগুলোর জন্য এক আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি। এক পর্যায়ে তার সিরি আর সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার ও ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শ্যূ জেতার ক্ষীণ সম্ভাবনাও উঁকি দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত লিগে তিনি থামেন ৩১ গোল করে। এবারের ২০২০-২১ মৌসুমেও দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছেন ৩৫ বছর বয়সী রোনালদো। এরই মধ্যে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনিই।
ক্রোতোনের বিপক্ষে গোল উদযাপন করে একটি চক্র পূরণ করেছেন রোনালদো। চলতি মৌসুমে ইতালির শীর্ষ লিগে খেলছে এমন কোনো ক্লাব তার বিপক্ষে জাল অক্ষত রাখতে পারেনি। তবে একটু আক্ষেপ হয়তো থাকতে পারে সিআর সেভেনের। জুভেন্টাসে নাম লেখানোর পর থেকে সিরি আতে যতগুলো ক্লাবের মুখোমুখি হয়েছেন, একটি বাদে সবগুলোর গোলরক্ষককেই ফাঁকি দিতে পেরেছেন। সেই দলটির নাম? চিয়েভো ভেরোনা। ২০১৮-১৯ মৌসুমে সিরি বিতে অবনমন হয়েছিল তাদের। এখনও তারা ইতালির পেশাদার ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরেই খেলছে।
রোনালদোকে হাতছানি দিচ্ছে দারুণ আরেকটি রেকর্ড। যা নিজের করে নিতে হলে তাকে পেরিয়ে যেতে হবে ‘যাযাবর’ জøাতান ইব্রাহিমোভিচকে। সুইডেনের এই স্ট্রাইকার ইউরোপের বিভিন্ন লিগ মিলিয়ে ৭৯টি ক্লাবের বিপক্ষে গোল করেছেন। যা এই শতাব্দীতে রেকর্ড। বর্তমানে ইতালির আরেক পরাশক্তি এসি মিলানের হয়ে খেলা ইব্রা অতীতে মাতিয়েছেন ডাচ লিগ, স্প্যানিশ লা লিগা, ফরাসি লিগ ওয়ান ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। সিরি আতেও তার আগের পারফরম্যান্স ঈর্ষান্বিত করবে যেকোনো ফুটবলারকে। ২০০৪ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে এসি মিলান, তাদের শহর প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্টার মিলান ও ইতালির সফলতম ক্লাব জুভেন্টাসে খেলার অভিজ্ঞতা পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
জুভদের হয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের আগে রোনালদোও নজর কাড়েন পর্তুগিজ লিগ, প্রিমিয়ার লিগ ও লা লিগায়। স্পেনে রিয়ালের হয়ে তো রীতিমতো অবিশ্বাস্য ছিলেন তিনি। লস ব্লাঙ্কোসদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা লিগে ৪৫০ গোল করেছিলেন মাত্র ৪৩৮ ম্যাচে! সবমিলিয়ে বিভিন্ন লিগে ৭৮টি ক্লাবের গোলপোস্ট ভেদ করেছেন তিনি। ইব্রাহিমোভিচের চেয়ে ন্যূনতম ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও শিগগিরই যে তা রোনালদোর পক্ষে ঘুচিয়ে ফেলা সম্ভব হচ্ছে না, তা বলাই বাহুল্য। সিরি আর সবগুলো দলের রক্ষণদেয়াল ‘ফুটো’ করায় অন্তত আগামী মৌসুম পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে তাকে। ততদিনে ৩৯ বছর বয়সী ইব্রা আবার ব্যবধান বাড়িয়ে না নিলেই হয়!

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ফুটবল


আরও
আরও পড়ুন