Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮, ০৪ রমজান ১৪৪২ হিজরী

পুরুষের তুলনায় নারীরা অর্ধেক আইনি সুরক্ষা পান

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১১:৫৫ এএম

নারীদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে আইনি সুরক্ষা সূচকে গত এক বছরে বাংলাদেশের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এতে কর্মক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারীর আইনি সুরক্ষা পাওয়ায় বিশ্বের নিচে থাকা দেশগুলোর তালিকাতেই রয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে কেবল আফগানিস্তান। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় মাত্র অর্ধেক আইনি সুরক্ষা পান বাংলাদেশের নারীরা।

বিশ্বব্যাংকের ‘উইমেন, বিজনেস অ্যান্ড দ্য ল ২০২১’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এমন চিত্র উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে বিশ্বের ১৯০টি দেশের নারীর কর্মক্ষেত্র ও ব্যবসা-বাণিজ্যের আইনি সুরক্ষার চিত্র তুলে ধরা হয়। এসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে মাত্র ১৭টি দেশ।

গত এক বছরে নয়টি দেশ নারী-পুরুষের সমতায় সবচেয়ে বেশি আইনি সংস্কার করেছে। এ তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল থাকলেও বাংলাদেশ নেই। সংস্কারে বেশি এগিয়ে যাওয়া ওইসব দেশের তালিকায় আছে সউদী আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ সুদান, সাওতুমে অ্যান্ড প্রিন্সেপ, বাহরাইন, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, জিবুতি, জর্ডান ও তিউনিসিয়া।

আটটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। এগুলো হলো কাজের জন্য বিচরণ-সুবিধা, কর্মপরিবেশ, বেতন-মজুরি, বিবাহ, অভিভাবকত্ব, উদ্যোক্তা, সম্পদ ও সরকারি ভাতা। এ আট সূচকের মধ্যে কাজ খোঁজার সূচকে বাংলাদেশে নারী ও পুরুষের আইনি সমতা আছে। কাজ খুঁজতে নারীদের কোনো বাধা নেই। বাকি কোনো সূচকেই নারী-পুরুষের আইনি সমতা নেই। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বেতন-মজুরি ও ভাতা সুবিধার ক্ষেত্রে। বেতন-মজুরি এবং কর্মকালীন ও অবসরকালীন ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের তুলনায় ৪ ভাগের ১ ভাগ আইনি সুরক্ষা পান। এ দুর্বলতায় ওই দুটি সূচকে বৈষম্য সবচেয়ে বেশি। নারীরা আইনি প্রতিকার কম পান। নারীরা পুরুষের চেয়ে কম মজুরি পান, কর্মঘণ্টায় বৈষম্য আছে, পুরুষের তুলনায় নারীর কাজ পাওয়ার সুযোগ কম এবং বয়স্ক নারীরা অপেক্ষাকৃত কম রাষ্ট্রীয় সুবিধা পান।
সার্বিকভাবে বাংলাদেশ নারী-পুরুষের আইনি সুরক্ষায় ৪৯ দশমিক ৪ পয়েন্ট পেয়েছে। একই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পেয়েছে নেপাল, ৮০ দশমিক ৬। ভারত ৭৪ দশমিক ৪, মালদ্বীপ ৭৩ দশমিক ৮, ভুটান ৭১ দশমিক ৯, শ্রীলংকা ৬৫ দশমিক ৬, মিয়ানমার ৫৮ দশমিক ৮, পাকিস্তান ৫৫ দশমিক ৬ ও আফগানিস্তান ৩৮।

ব্যবসায়িক আইনি সুরক্ষা পেতে নারীর পিছিয়ে থাকা প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বিশেষ করে বাংলাদেশের নারীরা অনানুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন বেশি। ফলে বেতন থেকে শুরু করে সব ধরনের বৈষম্যের শিকার হতে হয় তাদের। শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে ঠিক কিন্তু শিক্ষিত নারীদের অংশগ্রহণ খুব একটা বাড়েনি। অল্পশিক্ষিত নারীরা ছোট ছোট পদে কাজ করে। এসব পদের নারী শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই বৈষম্য করতে পারে। এক্ষেত্রে নারীদের শিক্ষা এবং দক্ষতা দুটোই বাড়ানোর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের ওই সূচকে শতভাগ নারী-পুরুষের আইনি সমতা বজায় আছে মোট ১০টি দেশে। দেশগুলো হলো বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, লাটভিয়া, লুক্সেমবার্গ, পর্তুগাল ও সুইডেন। অনেক দেশেই নারীদের সুরক্ষার ব্যাপারে বড় বড় সংস্কার হলেও বৈশ্বিক বিবেচনায় নারীরা পুরুষের আইনি সুরক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ পিছিয়ে আছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন