Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮, ০৫ রমজান ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

সমবায় কর্মকর্তা বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায়

খ.আ.ম রশিদুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে : | প্রকাশের সময় : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১২:০১ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর সমবায় কর্মকর্তার কর্মকান্ড নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। দিবস পালনের নামে চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন সময় মোটা অংকের চাঁদা দাবি ও চাহিদা মত চাঁদা না দেয়ায় সমবায় সমিতির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় হয়রানির প্রতিকার চেয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীরা। সে সাথে ওই কর্মকর্তার বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধনও হয়েছে। ইতোমধ্যে পুরো ঘটনা তদন্তে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে।
জানা যা, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সরেজমিন তদন্ত কার্যক্রম চালান অডিট আইন ও সমিতি বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের উপ নিবন্ধক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এর আগে গত ১৬ ফেব্রæয়ারি সদর সমবায় কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে ঢাকা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইবনে সিনা ইসলামী সঞ্চয় ও ঋণদান কো অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড এর সভাপতি মো. নাজির হোসেন ভুইয়া। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে সমবায় দিবস উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ইবনে সিনা ইসলামী সঞ্চয় ও ঋণদান কো অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড এর ম্যানেজরের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নেন। এছাড়াও একই কৌশলে তিনি আরো বেশ কয়েকটি সমিতির কাছ থেকে চাঁদা গ্রহণ করেন এবং স্বল্প পরিসরে সমবায় দিবস উদযাপন করেন।
একই বছরের ৪ নভেম্বর তিনি ফের ইবনে সিনা ইসলামী সঞ্চয় ও ঋনদান কো অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড এর কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে সমিতির ম্যানেজার শাহীন আক্তার ভ‚ইয়া ৫০ হাজার টাকা নিজ হাতে প্রদান করেন। এ সময় ওই কর্মকর্তা ম্যানেজারকে এসব বিষয়ে কাউকে না জানানোর অনুরোধ করেন। তবে বাকি ৫০ হাজার টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় আলমগীর হোসেন মাঝে মধ্যে ম্যানেজারকে মোবাইলে এবং স্বাক্ষাতে সমিতির নানাভাবে ক্ষতি করাসহ ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন এবং বলেন তিনি চাইলে সমিতির কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারেন। একই বছর ৩০ ডিসেম্বর সমিতির ওই কর্মকর্তা ম্যানেজারকে মোবাইলে ফোন করে বলেন ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার বড় অফিসার নিয়ে সমিতিতে আসবেন। সে সময় বাকী টাকা রেডি রাখতে বলেন। অন্যথায় অফিস বন্ধ করে দিবেন। ওই দিনই সমিতির সভাপতি সমবায় কর্মকর্তাকে অফিস বন্ধ করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি চাইলে বিনা কারনে সমবায় সমিতির অফিস যে কোন সময় বন্ধ করে দিতে পারেন। বিষয়টি শুনে সমিতির কমিটির সদস্য শরীফ উদ্দিন মোবাইলে সমবায় কর্মকর্তা, সদরকে অফিস বন্ধ করার বিষয় জিজ্ঞাসা করলে তিনি ম্যানেজারকে অফিস বন্ধ করার কথা বলেছেন বলে দোষ স্বীকার করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার আর কিছুই বলার নেই।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন