Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২১, ১১ বৈশাখ ১৪২৮, ১১ রমজান ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

মুশতাকের মৃত্যুর প্রতিবাদে শাহবাগ অবরোধ, গায়েবানা জানাজা : মশাল মিছিলে লাঠিচার্জ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল দাবিতে কর্মসূচি সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১২:০২ এএম

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দী অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর (তাদের ভাষায় হত্যা) প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, গায়েবানা জানাজা, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কারাগারে মৃত্যুকে রাষ্ট্রীয় খুন অভিযোগ করে এর সাথে জড়িতদের বিচার দাবি জানানো হয় এসব কর্মসূচি থেকে। মৃত্যুর খবরে গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদি সমাবেশ করেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে শাহবাগে প্রায় দেড় ঘন্টার মত সড়ক অবরোধ করে বিচার দাবি করে বাম সংগঠনগুলো। বিকেলে ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত হয় গায়েবানা জানাজা। এতে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেয়। সন্ধ্যায় করা হয় মশাল মিছিল। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে আজ শনিবার বেলা ১১টায় ছাত্র অধিকার পরিষদ জাতীয় প্রেসক্লাবে কর্মসূচি পালন করবে। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করবে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। সন্ধ্যায় রাজধানীতে আয়োজিত মশাল মিছিলে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে মশাল মিছিলটি শাহবাগের দিকে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর দাবি লাঠিচার্জে ১০ থেকে ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। কারা হেফাজতে মোশতাকের ঢাকার বাইরেও রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ করেছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো।
কারাগারে লেখক মুশতাকের মৃত্যুর প্রতিবাদ করেছেন বিএনপি, জাসদ, বাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তারা ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সরকারের একাধিক মন্ত্রীও ঘটনার সুস্থ তদন্তের কথা জানিয়েছেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক আহমেদ গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে মারা যান। কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, মুশতাক গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকরা তাকে ৮টা ২০ মিনিটের দিকে মৃত ঘোষণা করেন। ২০২০ সালের মে মাসে র‌্যাব ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে লেখক মুশতাক, কার্টুনিস্ট কিশোর, রাষ্ট্রচিন্তা সংগঠনের দিদার, মিনহাজসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের মধ্যে কিশোর ও মুশতাক গত নয় মাস ধরে কারাগারে আছেন। রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম গণমাধ্যমকে বলেন, গত বুধবারও হাজিরা দিতে মুশতাক আদালতে এসেছিলেন। বোঝাই যাচ্ছিল তার শরীর খারাপ। কিন্তু জামিন পাননি।

শাহবাগে গায়েবানা জানাজা: শুক্রবার বিকেল ৪টায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে মুশতাকের গায়েবানা জানাজ অনুষ্ঠিত হয়। ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন জানাজা পড়ান। এতে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ঢাবি আইন বিভাগের প্রফেসর আসিফ নজরুল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর তানজিম উদ্দিন খান, রাষ্ট্রচিন্তার হাসনাত কাইয়ুম, সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন, যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ন আহবায়ক তারেক রহমান, শ্রমিক অধিকার পরিষদের আহবায়ক আব্দুর রহমান, ফিরোজ আহমেদ প্রমূখ।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মুশতাককে হত্যা করা হয়েছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং এই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের সাথে যারা জড়িত তারা প্রত্যেকেই মুশতাকের হত্যার জন্য দায়ী। জোনায়েদ সাকি বলেন, বিনা বিচারে ১০ মাস পর্যন্ত তাকে (মুশতাক আহমেদ) কারাগারে রাখা হয়েছে, ছয় বার জামিনের আবেদন নাকচ করেছে। জেলে রেখেই এই সরকার তাকে হত্যা করেছে। ভোটারবিহীন সরকার থেকে আর কী আশা করা যায়? প্রধানমন্ত্রী আপনাকে পরিষ্কার করে বলতে চাই, বাংলাদেশে আজ যা অন্যায় হচ্ছে এর দায় আপনাকে নিতে হবে। বাংলাদেশের জনগণ যে দিন জেগে উঠবে, সেদিন কেউ পালাতে পারবেন না। আপনাদের সবাইকে জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। প্রফেসর আসিফ নজরুল বলেন, এটা অবশ্যই কুখ্যাত একটি আইন। আজকে শুধু ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনকে দায়ী করলে হবে না। এই আইন যারা প্রণয়ন করছে তারা দায়ী, যে রায় দিয়েছে সে আদালত দায়ী। এটার কারণে ভোগান্তি হচ্ছে। এই সিকিউরিটি আইন বাতিল বা প্রত্যাহার আমি চাই না। আমি বলতে চাই, এই আইন যারা প্রণয়ন করেছে তাদের এক দিন বিচার হবে।

নুরুল হক নুর বলেন, এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়েছেন এ দেশের সাংবাদিক এবং লেখকরা। ডিজিটাল আইনের মাধ্যমে অসংখ্য নিরীহ মানুষকে নির্যাতন করা হয়েছে। এই হত্যার দায় প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে। আজ আমরা সবাই যদি আওয়াজ তুলতে না পারি, তাহলে আমাদের অবস্থাও লেখক মুশতাকের মতো হবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের কারণে আমাদের দেশটা একটা উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার আইনটিকে বাতিল নয় বরং আরও জোরদার করছে। না জানি এই অযৌক্তিক আইনের জন্য আরও কত জনকে মরতে হবে, গ্রেপ্তার হতে হবে। এটা একটা অসহনীয় দম বন্ধ করা আইন, এটা যেভাবে হোক ভাঙতে হবে। গায়েবানা জানাজা শেষে ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিলের দাবিতে কর্মসূচি পালন করা হবে।

শাহবাগে সড়ক অবরোধ: মুশতাকের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত-বিচার, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার থাকা ব্যক্তিদের মুক্তি ও আইনটি বাতিলের দাবিতে গতকাল শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টায় শাহবাগ মোড় অবরোধ করা হয়। বেলা ১১টার দিকে ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা ঢাবির টিএসসি এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শাহবাগ ও পরীবাগ মোড় ঘুরে শাহবাগে ফিরে আসে। শাহবাগ মোড় অবরোধ করলে বাংলামোটর ও পল্টন থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি অভিমুখী মূল সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। অবরোধ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) সভাপতি মাসুদ রানা, শ্রমিক নেতা ও ছাত্রফ্রন্টের (বাসদ) সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইমরান হাবিব, উদীচীর নেতা রহমান মোস্তাফিজ, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দীন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের দপ্তর সম্পাদক রাজেন্দ্র চাকমা, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক আরিফ রহমান, কবি সৈকত আমিন, নারীমুক্তি কেন্দ্রের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি তাসলিম আক্তার প্রমুখ।

গভীর রাতে ঢাবিতে বিক্ষোভ: লেখক মুশতাকের মৃত্যুর খবরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বামপন্থি কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) থেকে মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি শাহবাগ ও পরীবাগ মোড় প্রদক্ষিণ করে। পরে দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ করেন বিক্ষোভকারীরা। মিছিলে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় লেখক মুশতাকের মৃত্যুর জন্য রাষ্ট্রকে দায়ী করে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশ থেকে মুশতাক হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দী অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে আগামী সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবেন বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা। শুক্রবার অবরোধ শেষে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (বাসদ) সভাপতি আল কাদেরী পরবর্তী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

শাহবাগে মশাল মিছিলে পুলিশের বাধা: এদিকে সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে বামপন্থী কয়েকটি সংগঠনের মশাল মিছিল করলে পুলিশের বাধার অভিযোগ পাওয়া যায়। এসময় বিক্ষোভকারীদের বেধড়ক পেটানোও হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। মোড়ে পৌঁছানোর আগে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এসময় তাদের লাঠিপেটাও করা হয়। পুলিশের বাধার মুখে বিক্ষোভকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের দিকে চলে যান। এসময় ৫-৬ জন আহত হন।

বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়ার পর শাহবাগে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। শাহবাগ ও টিএসসি এলাকায় থমথমে পরিস্থিাতি বিরাজ করছে। এতে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
লাশ হস্তান্তর : আঘাতের চিহ্ন নেই :ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় মৃত্যু হওয়া লেখক মুশতাক আহমেদের (৫৩) ময়না তদন্ত শেষ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এই লেখকের মৃত্যুর ঘটনায় কারাগারের পক্ষ থেকে জয়দেবপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।
মুশতাকের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন জয়দেবপুর থানার এসআই সৈয়দ বায়েজীদ জানান, মুশতাকের লাশের সুরতহাল করা হয়েছে। তার পিঠের মাঝখানে যে কোনো সময় ‘ঘা’ হয়েছে এমন দাগ পাওয়া গেছে। ডান হাতে হালকা লালচে কালো ছোট দাগ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালে আনার সময় বা গাড়িতে উঠানোর সময় এ দাগ হয়ে থাকতে পারে। তবে কোনো অসঙ্গতি নিশ্চিতের জন্য ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বলা যাবে।

হাসপাতাল মর্গে লাশের জন্য অপেক্ষমান লেখক মুশতাকের বড় ভাই ডা. নাফিছুর রহমান বলেন, তার লাশ আমি নিজে দেখেছি। কোনো প্রকার সমস্যা আমার চোখে পড়েনি। ময়নাতদন্ত হয়েছে। প্রতিবেদন ছাড়া আমি এ ব্যাপারে কী বলব? আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমরা কোনো মামলাও করব না।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. শাফী মোহাইমেন জানান, মৃত্যু অবস্থায় মোশতাককে হাসপাতালে আনা হয়েছে। দৃশ্যত তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরির পর বিস্তারিত বলা যাবে।
গতকালই লেখক মুশতাক আহমেদের লাশ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর খবর পেয়ে মর্গে তার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুরা আসেন। মর্গের সামনে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং আহাজারি করেন।

গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. অসিউজ্জামান চৌধুরী লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। এরপর গাজীপুর ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মো. সাফি মোহাইমেন লাশের ময়নাতদন্তের কাজ শেষ করেন। পরে তার চাচাতো ভাই নাফিসুর রহমানসহ অন্য স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. অসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি।
কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন লেখক মুশতাক আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারাগারের ভেতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত সোয়া ৮টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ##



 

Show all comments
  • মোঃ দুলাল মিয়া ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১:০৪ এএম says : 0
    এই সরকারের আমলে কোন বিচার আছে অথবা হয়েছে আমি দেখিনি।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন


আরও
আরও পড়ুন