Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ০৯ বৈশাখ ১৪২৮, ০৯ রমজান ১৪৪২ হিজরী

কোরআন তেলাওয়াত মোমিনের বড় ইবাদত

জুমার বয়ানে পেশ ইমাম

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১২:০২ এএম

নবী করিম (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ওই ব্যক্তি যে কোরআন শরিফ শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়। (সহিহ বোখারি হাদিস নং-৫০২৭)। কোরআন তেলাওয়াত একজন মোমিনের জন্য বড় ইবাদত। আসন্ন কোরআন নাজিলের মাস মাহে রমযানে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে। গতকাল বিভিন্ন মসজিদে জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে পেশ ইমামরা এসব কথা বলেন। কোভিড-১৯ মহামারি দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেয়ার জন্য পেশ ইমামরা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। নগরীর মহাখালীস্থ মসজিদে গাউছুল আজম কমপ্লেক্সে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রচুর মুসল্লির সমাগম ঘটে।

ঢাকার উত্তরা সেক্টর-৩ মসজিদ আল মাগফিরাহ’র খতিব মুফতি ওয়াহিদুল আলম গতকাল খুৎবাপূর্ব বয়ানে বলেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ওই ব্যক্তি যে কোরআন শরিফ শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়। (সহিহ বোখারি হাদিস নং- ৫০২৭)।
পেশ ইমাম বলেন, আর দেড় মাস পরেই আসছে মহাগ্রন্থ কোরআনুল কারিম অবতীর্ণ হওয়ার মুবারক রমজান মাস। কোরআন নাজিলের মাসের যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদান ও বরকত হাসিলের জন্য দু’মাস পূর্ব থেকে নবী করিম (সা.) দোয়া করতেন। হে আল্লাহ! রজব ও সাবান মাসে আমাদের জন্য বরকত দিন এবং রমজান শরিফ পর্যন্ত আমাদের পৌঁছে দিন। (কানযুল উম্মাল-হাদিস নং ৩৮২৮৮)।

তিনি বলেন, কোরআন তেলাওয়াত একজন মোমিনের জন্য বড় ইবাদত। কোরআন তেলাওয়াত দুনিয়ার জীবনে রহমত, বরকত, সমৃৃদ্ধি, প্রবৃদ্ধি, আত্মশুদ্ধি, আত্মার প্রশান্তি, অন্তরের ময়লা পরিষ্কার ও সর্বোপরি মহান আল্লাহর গভীর ভালোবাসা স্থাপনের চ‚ড়ান্ত মাধ্যম। কোরআন তার তেলাওয়াতকারীকে কবরে ফেরেশতাদের প্রশ্নের জবাব দিতে সাহায্য করবে। হাশরে সুপারিশ করে জান্নাতে পৌঁছে দিবে। কোরআন শরিফ শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করা প্রতিটি মোমিনের জন্য ফরজ। অশুদ্ধ তেলাওয়াতকারীকে কোরআন অভিশাপ দেয়। অশুদ্ধ তেলাওয়াত দ্বারা নামাজ সহিহ হয় না। একটি আয়াত শুদ্ধভাবে শিখলে ১০০ রাকাআত কবুল নামাজের চেয়ে বেশি ছওয়াব হয় এবং প্রতিটি হরফ তেলাওয়াতে দশটি নেকী হয়।

তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা কোরআনকে আমাদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন। অথচ এই কোরআন শিখতে সময় ব্যয় না করে আমরা ফেইসবুক, ইউটিউব, টেলিভিশন, বাজেগল্প, গিবত ও মানুষের দোষচর্চার পেছনে অনেক সময় দিয়ে থাকি, এই উদাসীনতাই কেয়ামতের দিন আমাদের বড়ই আফসোসের কারণ হবে।
তাই অভিজ্ঞ ক্বারীদের কাছে বিশুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত শিখতে হবে। আর কোরআনের আলোকেই জীবন গড়তে হবে। আল্লাহ সবাইকে কবুল করুন-আমীন!

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেম গতকাল জুমার বয়ানে বলেন, রাগ দমন করা তাকওয়ার আলামত। যারা মুত্তাক্বি, তাদের অন্যতম একটি আলামত হলো রাগকে সংবরণ করা। মহান রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘(মুত্তাক্বি) যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর ক্ষমা প্রদর্শন করে, বস্তুত আল্লাহ তায়ালা সৎকর্মশীলদেরই ভালোবাসেন। (সুরা আল ইমরান-১৩৪)। অন্যত্র মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ভালো ও মন্দ সমান নয়। (মন্দের) মোকাবিলা সেই পন্থায় করুন, যা উত্তম। তাহলে শত্রু ও আপনার মাঝ থেকে শত্রুতা দূর হয়ে, পরস্পর অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত হবেন। (সূরা হা-মীম আসসাজদা-৩৪)। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রাগ ঈমানকে বিনষ্ট করে দেয়, সাবির গাছের তিক্ত রস যেমন মধুকে বিনষ্ট করে দেয়। (মেশকাত)।
পেশ ইমাম বলেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি রাগের চাহিদা মিটানোর সুযোগ থাকা সত্তে¡ও (একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) রাগকে হজম করবে, হাশরের ময়দানে আল্লাহ তায়ালা তাকে সমস্ত মাখলুকের সামনে ডাকবেন এবং ঘোষণা দিবেন যাও! জান্নাতের হুরদের মাঝে যাকে চাও নিয়ে নাও। (তিরমিজি ও আবু দাউদ)।

রাসুলে কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সদকা করলে সম্পদের ঘাটতি হয় না। যে ব্যক্তি ক্ষমা করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আর কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনয়ী হলে, তিনি তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। (মুসলিম, হাদিস : ২৫৮৮)। পেশ ইমাম বলেন, উদারতা ও সহিষ্ণুতা মোমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এসব গুণাবলী অর্জনে সজাগ থাকতে হবে। সুতরাং আসুন আমরা মানুষকে ক্ষমা করি। যাতে করে কেয়ামতের ভয়াবহ দিনে রাব্বুল কারিম আমাদের ক্ষমা করে দেন।

ভোলা জেলার সদর উকিলপাড়াস্থ নিজাম হাসিনা ফাউন্ডেশন মসজিদের খতিব মাওলানা এ কে এম মোশাররফ হুসাইন গতকাল জুমার বয়ানে বলেন, আমরা সবাই একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করি এবং তারই বিধান মেনে চলি, আল্লাহ তায়ালার নেজাম অনুযায়ী সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে একের উপরে আর একের মর্যাদা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যেমন দুনিয়ার উপরে আখেরাতের মর্যাদা, সমস্ত নবীদের ওপর সাইয়্যেদেনা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.) এর মর্যাদা, সমস্ত মানুষের মধ্যে পাপিষ্টদের ওপর মোমিনের মর্যাদা, সাধারণ মোমিনদের উপর সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা, এমনিভাবে স্থান, কাল, পাত্র ভেদে একের উপর আর একের মর্যাদা, যেমন সমস্ত রাতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রাত লাইলাতুল কদর, দিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন আরাফার দিন, জুমার দিন, দুই ঈদের দিন, সপ্তাহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইয়াওমুল জুময়া, মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মাস মাহে রমজান। এছাড়া আরো চারটি মাসকে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা সম্মানিত করেছেন, যেমন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আসমানগুলো ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাস বারটি। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। (জিলকদ, জিলহজ, মুহররম, রজব) (সূরা তওবা : ৩৬)। সমস্ত পৃথিবীর মধ্যে মক্কার মর্যাদা এরপর মদিনা মুনাওয়ারার মর্যাদা এরপরে বায়তুল মুকাদ্দাসের মর্যাদা। তাই আল্লাহ তায়ালার দেয়া সম্মান ও মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরাও মর্যাদাপূর্ণ সময় রাত, দিন, মাস, স্থান ও মহান ব্যক্তিদের সম্মান দেব এবং আল্লাহ তায়ালার দেয়া রহমত ও বরকতের ভাগীদার হবো। ইনশাআল্লাহ।

ঢাকার ইসলামবাগ বড় মসজিদের খতিব শাইখুল হাদিস মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী জুমার খুৎবাপূর্ব বক্তব্যে পবিত্র কোরআনের সুরা কাসাসের ৭নং আয়াতের মর্মার্থ প্রসঙ্গে বলেন, এ আয়াতে মহান আল্লাহর বিস্ময়কর ক্ষমতা ও তার রুবূবিয়্যাতের প্রকৃষ্ট প্রমাণ উপস্থাপিত হয়েছে। আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি মুসা জননীকে প্রত্যাদেশ করলাম যে, তুমি তাকে দুগ্ধ পান করাতে থাক। অতঃপর তার সম্পর্কে যখন তুমি বিপদের আশঙ্কা করবে, তখন তাকে সাগরে ভাসিয়ে দাও এবং ভয় করো না, দুঃখও করো না। আমি অবশ্যই তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রাসুলদের অন্তর্ভুক্ত করব। এতে মূলত: হজরত মুসা (আ.) এর জন্ম পরবর্তী প্রতিকূল পরিস্থিততে শিশু মুসা (আ.) এর সুরক্ষার এক অসাধারণ ও বিস্ময়কর আদেশ প্রদান করা হয়েছে এবং খোদায়ী এ আদেশ পালন করে শতভাগ সুফলও এসেছে। এখানে প্রমাণিত হয় যে, একটি নবজাতককে সিন্দুকে ভরে নীল নদে ফেলে দিয়ে সময় মতো ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যিনি ফেরত দিয়েছেন এবং রাসুলও বানিয়েছেন তিনিই রব। তিনিই সর্বশক্তিমান। তাঁর ইচ্ছা ও ফয়সালাকে প্রতিহত করার সাধ্য পৃথিবীর কারো নেই। যে শিশুটিকে হত্যা করার জন্য হাজার হাজার শিশু সন্তানকে হত্যা করেছে ফেরাউন ও তার সৈন্যবাহিনী, সে শিশুটিই আবার নীল নদ থেকে গিয়ে উঠে ফেরাউনের রাজপ্রাসাদে এবং পরম আদর ও স্নেহে প্রতিপালিত হতে থাকে ফেরানেরই তত্ত¡বাবধানে। মহান আল্লাহর কি অদ্ভুত কারিশমা! হে আল্লাহ! তুমি আমাদের বুঝার ও মানার তৌফিক দাও- আমীন!



 

Show all comments
  • taijul+Islam ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৯:০৮ এএম says : 0
    আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশী বেশী কুরআন তেলোয়াত করার তাওফীক দান করুন
    Total Reply(0) Reply
  • Jack+Ali ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১১:৫৩ এএম says : 0
    Didn't Qur'an ordered us to rule by Qur'an?????????????????????????????????
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ