Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

গাবতলী হাটে স্বল্প পরিসরে শুরু কোরবানীর পশু বেচাকেনা

প্রকাশের সময় : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : শুক্রবার সকাল। গাবতলী পশুর হাটের প্রবেশদ্বার। ৯০ হাজার টাকায় কালো গরু কিনে ফিরছেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সামিউল এহসান। গরুটির বিক্রেতা ব্যাপারীর দাবি, সাড়ে চার মণ গোশত পাওয়া যাবে এ গরুতে। হাটের প্রবেশদ্বারেই কথা হয় সামিউলের সাথে। তিনি বলেন, এবার গরুর দাম একটু বেশি। বাজারে গোশতের দাম বেশি বলেই গরুর এতো দাম উঠছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি এখনও ১১ দিন। এতো আগে গরু কেনা প্রসঙ্গে সামিউল বলেন, নিজের বাড়ি আছে। গরুর রাখার কোনো সমস্যা নেই। ১০-১১ দিন নিজের মতো করে গরুর যতœ করবো। কোরবানির পশুর প্রতি ভালোবাসা জন্মালে ভালো হয়। নিজের হাতে কিছু দিন খাওয়ালে গরুর প্রতি ভালোবাসা জন্মাবে। যে কারণে কয়েকদিন আগেই গরু কিনলাম।
দুই মণের কিছু কম গোশত পাওয়া যাবে এমন একটি গরু সাড়ে ৩৫ হাজার টাকায় কিনে ফিরছিলেন সাভারের সাইফুল হক। তিনি বলেন, এবার গরুর দাম চড়া। গত বছর এমন আকারের গরু ২৮ হাজার টাকা দিয়ে কিনছি। এবার সে আকারের গরুর দাম রাখলো সাড়ে ৩৫ হাজার। গো-খাদ্যের বাড়তি দর ও ভারতীয় গরুর আমদানি না থাকায় এবার দাম এমন বাড়তি বলে দাবি করছেন ব্যাপারীরা। তাদের এ দাবির পাশাপাশি রয়েছে বাড়তি দামে গোশত ব্যবসায়ীদের গরু কেনা। গোশত ব্যবসায়ীরা বেশি দরে গরু কিনে এখন গোশত বিক্রি করছেন কেজিপ্রতি ৪২০ টাকায়, যা গত কোরবানির ঈদের আড়ে বিক্রি হয়েছিল ৩৫০ টাকা দরে।
মানিকগঞ্জের হেলাল উদ্দিন ব্যাপারী বলেন, হাটে ভারতীয় গরু নেই। গরুর খাবারের দামও বাড়তি। বাড়তি বাজারে গোশতের দামও। তাই এবার গরুর দাম চড়া।
গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় নগরীর একমাত্র স্থায়ী এ পশুর হাটে স্বল্প পরিসরে গরু বেচাকেনা শুরু হয়েছে। রাজধানীর আশপাশের এলাকা সাভার, গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জের ক্রেতা এসেছেন এখানে। তবে ঢাকায় যাদের বাড়িতে গরুর রাখার পর্যাপ্ত জায়গা আছে তারাই শুধু গরু কিনছেন এখন।
ব্যাপারীরা মনে করছেন, এখন গরু ক্রেতার থেকে দর্শনার্থী বেশি। গরু বেচাকেনা জমজমাট হবে ৬ সেপ্টেম্বর থেকে।
সেভাবে জমজমাট করারই জোর প্রস্তুতি চলছে যেন গাবতলীর পশুর হাটে। হাটের বাইরে ও আশপাশে চলছে আনুষঙ্গিক নানা উপকরণের বেচাকেনা। শুকনো খড়, ভূষি, কাঁঠাল পাতার মতো গো-খাদ্যের পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে পশুকে সাজানোর জন্য রঙিন কাগজের মালা, রঙিন দড়ি ও লাঠি। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় দল বেঁধে হাটে প্রবেশ করতে দেখা গেছে অনেককে। হাটে আসা স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের কাউকে কাউকে দেখা গেছে কোরবানির সুন্দর পশুটির সঙ্গে সেলফি তুলতেও।
রাজধানীর মধ্য বাড্ডা থেকে গরুর বাজারের হালচাল দেখতে এসেছেন ব্যবসায়ী কবির হোসেন। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন ছেলে আবরার হোসেনকে।
কবির হোসেন বলেন, গরু আজকে কিনবো না। বাজারের পরিস্থিতি দেখতে এসেছি। এখন গরু কিনে রাখবো কোথায়? তবে বাজেটের চেয়ে গরুর দাম একটু বেশিই দেখা যাচ্ছে।
কবির মনে করেন, ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে আবার গরুর দামের হেরফের হয়ে যেতে পারে। এ নিয়ে তার সঙ্গে অনেক ব্যাপারীও একমত। কুষ্টিয়ার জয়নাল ব্যাপারী যেমন বলছিলেন, কাঁচামাল ও গরুর মধ্যে তফাৎ (পার্থক্য) নেই। ঈদের গরুর বাজার লটারির মতো। কখন কী হয় বলা যাবে না। চাঁদ রাতের দিনও বদলাতে পারে বাজার পরিস্থিতি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ